বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের অসাধারণ নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে ১৬২ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয় করল টাইগাররা।
আগের দিনের ৫ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে পঞ্চম দিন ব্যাট করতে নেমে আরও ৪৭ রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ আগের দিনের সাথে মাত্র ৮ রান যোগ করে বিদায় নেন। কিন্তু শুভাগত হোম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার ৫০ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। বাকিরা বলার মতো কোন রানই সংগ্রহ করতে পারেননি। ৯ উইকেটে ২৪৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন টাইগার অধিনায়ক। ফলে ১ম ইনিংস এর ৬৫ রান সহ মোট ৩১৩ রানে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে ম্যালকম ওয়ালার ও নাতশাই মুশাঙ্গুয়ে ৪টি করে উইকেট শিকার করেছেন।

 

৩১৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশী বোলাররা চেপে ধরে জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানদের। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। তিনি অভিষিক্ত ব্রায়ান চারিকে দলীয় ১১ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে পাঠান। এরপরই শুরু হয় সাকিবের ঘূর্ণি। দলীয় ১৩ রানের মাথায় সিকান্দার রাজাকে মমিনুলের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।

 

পরের ওভারে টেলরকে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নমুখী করেন সাকিব। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে চতুর্থ জুটিতে। প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান মাসাকাদজা ও চাকাভা চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭০ রান সংগ্রহ করেন। তাদের জুটিটি বাংলাদেশের জয়কে কিছুটা বিলম্বিত করে। তবে এ জুটি ভেঙ্গে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান জুবায়ের হোসেন।
চাকাভা ব্যক্তিগত ২৭ রানে জুবায়েরের বলে মাহমুদুল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন। চাকাভার বিদায়ের পর এরভিনের সাথে ৩২ রানের জুটি গড়েন। জুবায়েরের দ্বিতীয় উইকেটের শিকার হন এরভিন। তিনি ২১ রান করে মুশফিকের ক্যাচবন্দী হন। মাসাকাদজা এবার ষষ্ঠ জুটিতে চিগাম্বুরাকে নিয়ে ড্র’য়ের দিকে চোখ দেন। কিন্তু সাকিবের ঘুর্ণিতে ধরাশায়ী হন মাসাকাদজা। ১১৩ বলের ধৈর্য্যশীল ইনিংসে ৫টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৬১ রান করেন। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশর জয় একেবারে হাতের নাগালে চলে আসে।
সাকিবের সাথে এবার জয়োল্লাসে যোগ দেন তাইজুল। দুই জনের ঘুর্ণিজাদুতে বাকিরা আর দাঁড়াতেই পারেনি। জিম্বাবুয়ের বাকি ব্যাটসম্যানদের রানের সংখ্যা ছিল টেলিফোন ডিজিটের মতো। ওয়ালার ৪, মুশাঙ্গুয়ে ০, চাতারা ১ এবং পানিয়াঙ্গারা ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৫১ রানে শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ১৬২ রানের বিশাল জয় লাভ করে।
খুলনা টেস্ট পুরোটাই সাকিবময় হয়ে থেকেছে। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রানের স্কোর গড়ার পর বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় ইনিংসেও ধারা অব্যাহত রেখেছেন সাকিব। ম্যাচে সেঞ্চুরির পাশপাশি ১০ উইকেট শিকার করেন সাকিব। আর তাতেই ইমরান খান ও ইয়ান বোথামের পাশে নিজের নাম বসিয়েছেন। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি এবং ৫ উইকেট নিয়ে ক্যালিস-সোবার্সের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। রেকর্ডের পাশাপাশি ম্যাচসেরাও হয়েছেন সাকিব আল হাসান। খবর বাসসের।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here