জয়া আহসানের নামটা যথার্থই রেখেছিলেন তার বাবা-মা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে জয়ের বরমাল্যই তিনি গলায় পরে চলেছেন একের পর এক। সাফল্যের সুবিশাল সোনালি আকাশ এখন তার ক্যারিয়ার জুড়ে। সে আকাশে জ্বলজ্বলে রোদ। যেন বিরামহীন উত্তাপের ছোঁয়াতেই পরিপূর্ণ। জয়া চমৎকার গান করেন। বিশেষ করে তার কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত গীত হয় হৃদয় কেড়ে নেয়া এক ভিন্ন আমেজে। অথচ গানটাকে সঙ্গী করেননি তিনি। করেছেন মডেলিং আর অভিনয়কে। শোবিজের এ দুটি মাধ্যমেই তিনি এখন এক সফল মুখ। এযাবৎ অসংখ্য বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে দারুণ রকমের সাফল্য মুঠোবন্দি করেছেন। দেশের মডেলিং অঙ্গনকে করেছেন ভিন্ন আলোয় আলোকিত। বর্তমানেও টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচার চলতি তার মডেল হওয়া কয়েকটি বিজ্ঞাপনে জয়াকে দর্শক পাচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন আমেজে। এসব বিজ্ঞাপনে তার চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামার আর অনবদ্য পারফরমেন্স নৈপুণ্যের সমন্বয় জয়াকে আসীন করেছে এক অন্যরকম উচ্চতায়। আর নাটকে তো এ মুহূর্তে জয়া অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক অভিনেত্রী। অভিনয় পারঙ্গমতায় চলতি সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয়দেরই একজন তিনি। জয়ার অভিনীত নাটক যারা নিয়মিত দেখেন তারা জানেন যে কোন ধরনের নারী চরিত্র রূপায়ণে তিনি কতটা দুর্দান্ত। এযাবৎ তার অভিনীত বিভিন্ন নাটকে দেখা গেছে, শহরের নম্র, শান্ত কিংবা অতি আধুনিকা মেয়ে, গ্রাম্য তরুণী, কাজের বুয়া, পতিতা, ফ্যাশন মডেল, চিকিৎসক, পোড় খাওয়া নারী- সব ধরনের চরিত্রেই দারুণ অভিনয়শৈলী প্রদর্শন করেছেন তিনি। সেই সূত্রে একজন ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হিসেবে দেশের টিভি নাটকে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। জয়া এখন তাই ড্রইং রুমের মিডিয়ার দর্শক এবং নির্মাতাদের কাছে দারুণ সমাদৃত একটি মুখ। মডেলিং এবং নাটকের মতো ঈর্ষণীয় সাফল্য জয়া অর্জন করেছেন চলচ্চিত্রের খাতায় নাম লিখিয়েও। বেশ আগে ‘ব্যাচেলর’ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করলেও পূর্ণাঙ্গভাবে চলচ্চিত্রে তার সম্পৃক্ততার বয়স মাত্র চার বছরের। চলচ্চিত্রের মতো বিশাল মাধ্যমে যথার্থ অবস্থান তৈরির জন্য সময়টা খুব একটা বেশি নয়। অথচ এরই মধ্যে জয়া নিজেকে পরিণত করেছেন এ অঙ্গনের শক্তিশালী একজন হিসেবে। দুই দু’বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ‘গেরিলা’ ছবির জন্য ইতিমধ্যে পুরস্কারটি নিজের ঝোলায় ভরেছেন। আর এ বছরের শেষের দিকে ভরতে যাচ্ছেন ‘চোরাবালি’ ছবির জন্য। সমালোচকদের ভাষ্যমতে, ফিল্ম ক্যারিয়ারের এতো অল্প সময়ে দু’বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়া ব্যাপক প্রশংসারই দাবিদার। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নিজের শক্ত-পোক্ত অবস্থান এবং মসৃণভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাই জানান দিচ্ছেন জয়া। আর এর উজ্জ্বল উদাহরণ গত কয়েকদিন ধরে মিলছে সামনের ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত জয়ার ছবি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’র নানান প্রচার-প্রচারণা থেকে। দেশীয় চলচ্চিত্রের নাম্বার ওয়ান নায়ক শাকিব খান এ ছবিতে আছেন জয়ার বিপরীতে। আরও আছেন টিভি নাটকের সুদর্শন এবং সুঅভিনেতা আরেফিন শুভ। দু’জনের সঙ্গেই দারুণ মানানসই অভিনয়শৈলী জয়া দেখিয়েছেন ছবিটিতে। সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত এ ছবিটিতে জয়ার অভিনয় ইতিমধ্যে ছবিটির নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। ইতিমধ্যে আরেফিন শুভর সঙ্গে ‘আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো’ শিরোনামে জয়ার একটি গান বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের প্রচার তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে শীর্ষস্থানে। গানটিতে শুভর পাশাপাশি জয়ার মনকাড়া পারফরমেন্স দর্শক কর্তৃক হচ্ছে দারুণভাবে প্রশংসিত। এদিকে ইউটিউবে এ গানটির পাশাপাশি জয়ার একক পারফরমেন্সে প্রকাশ হওয়া ‘আকাশ হতে আমি চাই’ শিরোনামের গানটিও ব্যাপকভাবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে দর্শক মহলে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’ মুক্তির আগেই জয়া গান দিয়ে বাজিমাত করেছেন টিভিপর্দায় আর ইউটিউবে। এখন দর্শকের অপেক্ষা ছবিটির মাধ্যমে জয়া নিজেকে প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় কেমন উপস্থিতিতে দাঁড় করান তা দেখার।
joya

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here