Report

জেলায় জেলায় শিল্পায়নে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেছেন—যেকোনো উপায়ে দেশে ব্যাংক ঋণের সুদ হার এক সংখ্যায় নামিয়ে আনতে কাজ করব। পাশাপাশি সারা দেশে জেলায় জেলায় শিল্পায়ন গড়ে তুলতে উদ্যোক্তা তৈরি করব। এ ছাড়া, এফবিসিসিআইয়ের সংস্কারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে। রবিবার প্রাক্তন পর্ষদের কাছ থেকে নতুন পর্ষদের (২০১৫-১৭) কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
মাতলুব আহমাদ আরও বলেন—ব্যবসায়ীরা কখনও ঋণ খেলাপি হতে চায় না। কিন্তু ঋণের উচ্চ সুদ দিতে গিয়ে উদ্যোক্তারা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন, ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ঋণ খেলাপি হলে ব্যাংকগুলোই বেশি ঝামেলায় পড়বে। এ ছাড়া, ব্যাংক মালিকদেরও শিল্প রয়েছে। তারাও ঋণ নেয়। সুতরাং ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ কমাতে ব্যাংক মালিকরাও সম্মত হয়েছে। এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। সুদ হার কমানোর বিষয়ে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সাথে কথাও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এফবসিসিআই সভাপতি আরো বলেন—শুধু ঢাকা এবং চট্টগ্রামে শিল্পায়ন হলে সারা দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। এ জন্য সারা দেশেই শিল্পায়ন করতে হবে। এ বছর প্রতি জেলায় অন্তত তিন জন করে উদ্যোক্তা তৈরি করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। পরের বছর নয় জন করে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। এভাবে প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে এ সংখ্যা বাড়ানোর পদক্ষেপ থাকবে। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান উল্লেখ করে মাতলুব আহমাদ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে ৩০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসছেন। তারা এ দেশে অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। অন্যান্য দেশ থেকেও বিনিয়োগ আসছে। বিদেশি বিনিয়োগের সাথে দেশি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। এ জন্য জেলায় জেলায় শিল্প উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে এফবিসিসিআই কাজ করবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন— এফবিসিসিআইয়ে সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায় সব সদস্যের দাবি। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি করছেন সদস্যরা। তাই এ বিষয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করব। এফবিসিসিআইয়ের সংস্কার কাজ আমার অগ্রাধিকারমূলক কাজের একটি। এ ছাড়া, ব্যবসায়ীদের জন্য কার পুল এবং ভিডিও কল সেন্টার করা হবে। মিডিয়া সেন্টার করা হবে, যেন সবাই সহজেই সব তথ্য পেতে পারেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন—সহনশীল কর (ট্যাক্স), মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), শুল্ক চালু করার বিষয়ে সরকারকে উদ্বুদ্ধ করব। এতে করফাঁকির প্রবণতা কমবে। কর হার কম হলেও যদি করফাঁকি না থাকে তবে সরকারের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভাল হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সহ সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলি প্রমুখ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here