image_100209আমরা রাজনীতি করি না, বুঝি না রাজনীতি। আমরা শ্রমিক। একদিন কাজ না করতে পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে উপোষ থাকতে হয়। টানা হরতাল-অবরোধ আমাদেরকে সেই উপোষ রাখতে বাধ্য করেছে। যা জমানো ছিল তাও শেষ হবার পথে। ফলে প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে বাধ্য হয়েছি। এ কথা বাস চালক হাবিবুর রহমানের। তিনি ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের এনা পরিবহনের চালক।

প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ ছদু আর কত? হরতাল আর অবরোধে তো আমাদের (শ্রমিকদের) পেট ভরবে না। ফলে সব ভয় শঙ্কা দূরে ফেলে আমরা বাস চালাতেই বাধ্য হচ্ছি। তিনি বলেন, গতকাল মহাখালী টার্মিনাল থেকে দূর পাল্লার শতাধিক বাস ছেড়ে গেছে। তবে এখন বড় সমস্যা যাত্রী সংকট।

বিএনপি নেতৃত্বধীন ১৮ দলীয় জোটের টানা অবরোধ হরতালে নৌ ও ট্রেন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও বাস চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। দীর্ঘদিন পর আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেতে শুরু করেছে রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া মিয়া বলেন, মহাসড়কে সব ধররে যানচলাচল অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছেছে। গতকাল ঢাকা থেকে রংপুর বিভাগ ছাড়া অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে বাস চলাচল পূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার রংপুর বিভাগেও বাস চলাচল শুরু হবে।

যাত্রী সংকটের ব্যাপারে ডিআইজি বলেন, যাত্রীদের আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। মহাসড়কে ব্যাপক নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব, জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি রয়েছে সেনা টহল।

ঢাকা পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান বলেন, কয়েকদিন ধরেই ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলতে শুরু করেছে। গতকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বাস চলছে। এক কথায় বলতে গেলে ৬০ ভাগ অঞ্চলের বাস যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তবে যাত্রী সংকটের কারণে সময় মত বাস ছাড়তে পারছে না। নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, মহাসড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। গতকাল গাবতলী থেকে খুলনার উদ্দ্যেশে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি বাস আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়েছে। সোহাগ পরিবহনের বেনাপোল কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সহিদুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ পর গতকাল দুপুরে বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশে সোহাগের চারটি বাস ছেড়ে গেছে।

বেনাপোল বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম আলী সরদার জানান, সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা দিয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী বাস ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজশাহী অফিস জানান, নির্বাচন ও পরের তিন দিনের টানা হরতাল শেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি জানান, টানা অবরোধের কারণে উপার্জনহীন শ্রমিকরা পেটের দায়ে অবরোধ ভাঙ্গতে বাধ্য হচ্ছেন। উপরন্তু কাঁচামাল পরিবহনে পুলিশি নিরাপত্তায় সরকারি নির্দেশ শ্রমিকদের আশান্বিত করেছে। ফলে নির্বাচন পরবর্তী টানা তিন দিনের হরতাল শেষে গতকাল রাজশাহী থেকে ৪/৫টি যাত্রীবাহী কোচ ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছেড়ে গেছে। আন্তঃজেলা রুটেও পরিবহন চলতে শুরু করেছে। তিনি আশাবাদী খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

সিলেট অফিস জানান, লাগাতার অবরোধের মধ্যেও সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। মালবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার কিছু বাস চলাচল শুরু করেছে। হানিফ পরিবহনের সিলেটের কদমতলী কাউন্টারের ম্যানেজার জানান, গতকাল দিনের বেলা তাদের বাস চলেনি। তবে রাতে সীমিত আকারে কিছু বাস চালানো হবে বলে তিনি জানান। পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, পরিবারের ভরণ-পোষণের কথা চিন্তুা করে নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি অবরোধের মধ্যেও ট্রাক চালাচ্ছেন। তবে প্রতিনিয়তই তাকে অজানা আতঙ্ক ঘিরে রাখে।

চট্টগ্রাম অফিস জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পণ্যবাহিনী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চলাচল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীবাহী বাস চলছে সীমিত আকারে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে সকলেই এক প্রকার ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় ৮০ ভাগ যানবাহন চলাচল করছে। অপরদিকে জেলা বাস মালিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন জেলায় সিমিত আকারে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে বন্দর থেকে কন্টেইনার পরিবহন দ্বিগুণ হয়েছে। এতে করে বন্দরে আপাতত কোন প্রকার কন্টেইনার জটের সম্ভাবনা নেই। কন্টেইনার পৌঁছানোর জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে তেমন একটা নাশকতার ঘটনাও ঘটছে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা রফিক জানান, উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা হিসাবে পরিচিত কোটবাজার, উখিয়া সদর ও মরিচ্যা বাজার এলাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মালামাল বোঝাই ট্রাক থেকে পণ্যসামগ্রী খালাস করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here