জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ছেলে সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী বলেছেন, বাবা কখনো তার লেখা বই আমাদের পড়তে দেননি। জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে দেননি। নেতা হওয়ার কারণে তিনি দলটির অন্ধকার দিকগুলো ভালোভাবেই জানতেন। ইত্তেফাককে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি একথা বলেন।

উপমহাদেশের ইসলামী চিন্তাবিদ ও কট্টর রাজনীতির সমালোচক হিসাবে পরিচিত ফারুক মওদুদী বলেন, জামায়াতের কোনো নেতার সন্তান সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত এমন কথা আমি শুনিনি। তারা নিজেদের সন্তানকে কখনো বিপদের মুখে ফেলতে চান না। তারা অন্যের সন্তানদের ব্যবহার করেন। ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে দুই দিনের এক সেমিনারে ঢাকায় আসা ফারুক মওদুদী সাক্ষাত্কারে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভয়াবহতা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম ইস্যুসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শ গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা কখনো চাননি তার ৯ সন্তানদের কেউ রাজনীতিতে যুক্ত হোক। এটাই আমাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ট্রাজেডি যে আমরা সব সময় অন্যের সন্তানকে ব্যবহার করেছি। তিনি বলেন, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা মওলানা আবুল কালাম আজাদ আমার বাবাকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষদের রাজনীতির এক ছাতার তলে এনে ভালো ফল হবে না। তাই হয়েছে। এক সময় বাবা জানতেন জামায়াতে ইসলামী তার লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। কিন্তু এ বিষয়ে তখন তার কিছু করার ছিল না।

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসা ফারুক মওদুদী জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত; কারণ তারা এদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলো। তবে নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয় বরং জামায়াতকে রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে তার মনোভাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু ধর্ম যখন অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয় তখনই সমস্যা হয়। ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষকে বিভক্ত করা হচ্ছে। ধর্মকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। কিন্তু ধর্ম আমাদের এটা শিক্ষা দেয় না। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। এর অর্থ হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করা। কিন্তু রাজনীতিকরা নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করছেন। কাশ্মিরে জিহাদের অন্যতম সমালোচক ফারুক মওদুদী একাত্তরের আগে একটি বিমান সংস্থায় কাজ করতেন। সেই সুবাদে তিনি ঢাকা, যশোর ও চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলগুলোর ধর্মকে ইস্যু করার বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিলো ধর্মভিত্তিক মতাদর্শ থেকে। বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা থেকে। এদেশে জনগণ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে রায় দিয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থাকবে কিনা তা জনগণই নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধ করেছে তাদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে তিনি তার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। এছাড়া ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর চালানো বর্বর হত্যকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।moududi putro

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here