newমেহেদী হাসানঃ-

জামায়াতে ইসলামী তাদের ধর্মের নামের রাজনীতি করতে কিছু কিছু বিষয়কে ফোকাস করে । যেগুলো মুসলীমদের কাছে গিয়ে বললে সহজেই গ্রহণ করে থাকে । তার মধ্যে একটি হল নামাজ । তাদের ব্যাখ্যার বিষয় আলোচনার আগে জেনে নিই নামাজ কি ।
নামাজ আল্লাহ প্রতি ইবাদত । এটি সকল মুসলীমের জন্য ফরজ । দিনে পাঁচবার নামাজ ফরজ করা হয়েছে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নর ও নারীর উপর । নামাজের গুরুত্ব এতই বেশি যে আল্লাহ তা’লা এটি কোর’আনে ৮২ বার উল্লেখ করেছেন । আর তা শুধু আদায় করতে বলেননি । আল্লাহ বলেছেন এটি প্রতিষ্ঠা করতে । ‘আক্বিমুস্সালাত’ বা নামাজ প্রতিষ্ঠা কর ।

জামায়াতে ইসলামী এই বিষয়টি ধরে নিয়েছেন তাদের রাজনীতি হাতিয়ার হিসেবে । তারা জনগণের কাছে গিয়ে সহজেই বুঝিয়ে ফেলেন ‘আল্লাহ নামাজ পড়তে বা আদায় করতে বলেননি । তিনি নামাজ প্রতিষ্ঠার হুকুম দিয়েছেন । আপনারা সারা জীবণ নামাজ পড়ে কি করবেন ? নামাজ প্রতিষ্ঠা কি করতে পারা গেছে ? সমাজে ক’জন নামাজ আদায় করে ? নামাজকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী শাসক দরকার । তাদের আপনারা ভোট দিবেন যারা সংসদে নামাজের বিল নিয়ে আসে , আর তারা আপনাদের নামাজ পড়তে বাধ্য করে । সবাই জেলে যাবার ভয়ে নামাজ আদায় করবে । সমাজে কেউ বেনামাযী থাকবেনা । তখন নামাজ প্রতিষ্ঠা হবে । তার আগে কোরা’আনের এই আয়াত প্রতিষ্ঠা করতে আমরা পারব না ।‘

এখানে জামায়াতে উদ্দেশ্য হল ধর্ম দেখিয়ে ভোট নেয়া , আর ক্ষমতায় যাওয়া । … আক্বিমুস্সালাত অর্থ কি এটাই ? আইন করে নামাজ পড়ানো ? সমাজে নামাজ না পড়লে জেলে দেয়া হবে ভয়ে নামাজ পড়বে আর রাস্ট্রে নামাজ প্রতিষ্ঠা হবে ? এটাই কি আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেছেন ?
এর ব্যাখ্যা আমাদের যুক্তিতে নয়, বরং মুফাস্সেরে-কোর’আন কি বলেন তা কুরানের তাফসির থেকে নিব । মারেফুল কোরান হল একটি প্রসিদ্ধ তাফসির যা জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার বহু বছর আগেই এই তাফসীর লিখা হয়েছে । সেখানে বলা হয়েছে , ইমান আর আমল দুটি পারস্পারিক বিষয়, ঈমান ছাড়া আমল হবেনা , আর আমল ছাড়া ঈমান টেকেনা । মানুষের স্বদিচ্ছা থেকেই যা বিশ্বাস ঘটে সেটাই হল ঈমান । আমল হল স্বাধীনভাবে কৃত কর্ম । কোন মানুষকে ভয় দেখিয়ে সৎকাজ করিয়ে নেয়া যায় না , ঈমানের মজবুতি ছাড়া সমাজের কল্যাণ আসেনা । কেউ শাস্তির ভয়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে কিন্তু সময় সুযোগে সে সেই পাপ কাজ করতে পারে । যদি দেখে কোন সাক্ষী নেই , কেউ দেখেনি , তবে কোন দূর্বল ঈমানে মানুষ পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবেনা । সেই ব্যক্তি লোকের অসাক্ষাতে পাপ কর্ম করবে , সেটা চুরি হোক , খুন হোক বা জেনা । .. কিন্তু অন্তরে ঈমানের যযবা তৈরি হলে ঐ ব্যক্তি যত সুযোগই আসুক সে পাপ কাজ করবেনা , কারণ তার মনে এক আল্লাহর ভয় থাকবে । তিনি ভাববেন আমি যা করছি তা কেউ না দেখুক তা ত আল্লাহ দেখছেন । ………. এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায় নামাজ আইন করে আদায় করানোর কাজ নয় , বা কোন আইন করে ইসলামের ভাল কাজ করিয়ে নেয়া সম্ভব নয় , এটি শুধুই দাওয়াতের মাধ্যমে করতে পারা যায় । মানুষকে নসিহত করে পারা যায় ।
এখন আসি ‘আক্বিমুস সালাত’ এর ব্যাখ্যায় কোর’আনের তাফসির কি বলে :
ইক্বামতে সালাত:
“ইক্বামত বা প্রতিষ্ঠা, সালাত অর্থ নামাজ । ইক্বামতে সালাত অর্থ হল নামাজ প্রতিষ্ঠা করা । এর মানে নামাজ শুধু আদায় করা নয়, বরং নামাযকে সকল দিক দিয়ে সঠিক করাকে প্রতিষ্ঠা করা বলা হয় । ‘ইক্বামতে সালাম’ অর্থ নামাজে সকল ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব এগুলো পরিপূর্ণ ভাবে আদায় করা; এতে সব সময় সুদৃঢ় থাকা , এবং এর ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করা , সবই বুঝায় । ফরজ , ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল প্রভৃতি সকল নামাযের জন্য একই শর্ত । এক কথায় নামাযের অভ্যন্থ হওয়া ও তা শরীয়তের নিয়ম মত আদায় করা এবং এর সকল নিয়ম-পদ্ধতি যথার্থভাবে পালন করাই হল ইক্বামতে সালাত ।“
সুরাহ-বাক্বারা, ৩ নং আয়াতের তাফসীর ।
তাফসীর : ‘মা’রেফূল-কোর’আন’
আর মারে’ফুল কোরানে এই তাফসীরে ব্যাখ্যা অনুসারে আমাদের দেশের মত বিশ্বের সকল দেশে ‘তাবলীগ’ ভাইয়েরা খুব শান্তিতে নামাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কার করে চলেছে, (সুবহানাল্লাহ) । নামাজের খুশু-খুযু অনুসারে আদায় করতে , সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ম-কানুন যদি কেউ শিখতে চান তবে ‘দ্বীনি তাবলীগ’ যোগ দিয়ে শিখে নিতে পারেন । নিজেও ইসলামের পথে চলতে পারেন অন্যদেরও সঠিক পথে আনতে নসীহত করতে পারেন । …
জামায়াতের ভ্রান্ত ধারণা হল আইন করে নামাজকে আদায় করতে বাধ্য করবে । তা কোনভাবেই সম্ভব নয় । জামায়াতে কবে ক্ষমতায় যাবে আর সেদিন নামাজের জন্য জনগণকে বলবে !! তার আগে তারা অভ্যন্তরীন সংগঠনের ছেলেদের নামাজের কথা বললেও , সাধারণ জনগণকে নামাজ পড়তে দাওয়াত করেনা । শোনা যায় সৌদি আরবে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয় , আর তাই বিনা ওজুতেই বহু লোক নামাজে দন্ডায়মান হয়ে থাকে ।
নামাজের শর্ত ওজু , সেটা না করে নামাজ যদি পড়ে ত সেটা কি ঠিক হবে ? দ্বীনি শিক্ষা আর আল্লাহ ভীতি থাকলে জেলের ভয় প্রয়োজন হয়না । সেটা কোন পন্থাও নয় ।
‘আল্লাহ বলেছেন, সেই নেক-আমলের প্রতিদান তারা পাবে যা কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় করে । সেই পাপের তারা শাস্তি পাবে যা তারা স্বেচ্ছায় করে ।‘ ………………. আর সবচেয়ে বড় কথা হল আল্লাহ তা’লা বলেছেন ‘লা ইক্বরাহাফিদ্দীন’ .. ‘ধর্মের ব্যপারে কোন জবর্দস্তি নাই ।
জামায়াতে সস্তা সেন্টিমেন্ট থেকে রেহাই পাবার জন্য সবাইকে আহবান জানাই । তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের পাল্লায় পড়ে সঠিক ইসলাম থেকে নিজেদের গাফেল না রাখতে সবাইকে প্রকৃত ইসলাম বুঝে পালন করার জন্য অনুরোধ রইল ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে নাফরমানী থেকে হেফাযত করূণ ………… আমিন ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here