গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানেও বানোয়াট, অসত্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে সেনা সদর। অন্যদিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিটি (জিডি) রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। সেনা সদরের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল এম এ আজিজ সম্পর্কে যা যা বলেছেন তার সবই ভুল।

এর আগে গত শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আলমগীর কবির স্বাক্ষরিত সেনা সদরের বক্তব্যে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) সময় টেলিভিশনে রাত ১০টায় প্রচারিত টক শো ‘সম্পাদকীয়’ চলাকালীন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নানা বিভ্রান্তিকর অসত্য কথা বলেন।

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে সেনা সদর বলেছে, ‘বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে জনাব ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য ছিল একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন অসত্য বক্তব্য।’

গত শনিবারই সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জেনারেল আজিজকে অসাবধানতাবশত কোনো মনঃকষ্ট দিয়ে থাকলে সে জন্য আমি পুনরায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। উল্লেখ্য, আমি ইতিমধ্যে বিগত দুই দিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আমার বক্তব্যের ভুল শব্দচয়ন ও শব্দবিভ্রাটের বিষয়টি প্রকাশ করে সেনাপ্রধানের নিকট দুঃখ প্রকাশ করেছি। চূড়ান্তভাবে ভুল বোঝাবুঝির অবসানকল্পে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।’ সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, কোর্ট মার্শাল নয়, কোর্ট অব ইনকোয়ারি হয়েছিল।

গতকাল আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবিরের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শনিবারের সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘জাফরুল্লাহ শব্দচয়নে ভুল করে কোর্ট অব ইনকোয়ারির স্থলে কোর্ট মার্শাল বলেছেন, তাঁর এই তথ্যটিও সঠিক নয়। ব্যক্তি আজিজের বিরুদ্ধে কখনো কোর্ট মার্শাল তো হয়ইনি, বরং জেনারেল আজিজের সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কোর্ট অব ইনকোয়ারিও হয়নি। বস্তুতপক্ষে জাফরুল্লাহর তথ্যটি চরম মিথ্যাচারের শামিল। এর আগে সময় টিভিতে ভুল, দায়িত্বহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার ও দুঃখ প্রকাশ করতে গিয়ে পুনরায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে জেনারেল আজিজ আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর টক শোতে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎস হিসেবে সুকৌশলে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার একটি চেষ্টা করেছিলেন, যা ছিল দুরভিসন্ধিমূলক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে কোনো গ্রেনেড হারানো, চুরি বা বিক্রি হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার আগের দিন টেলিভিশনে লাইভ টক শোতে এ ধরনের অসত্য বক্তব্য প্রদান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অসত্য বক্তব্যকে সংশোধনের কোনো চেষ্টা করেননি। তাঁর সামগ্রিক বক্তব্যে এটা স্পষ্ট, তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত সব পদবির সদস্যের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর প্রধানের ভাবমূর্তি এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন।

জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : তদন্তে ডিবি

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা সাধারণ ডায়েরিটি (জিডি) রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৯ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়ায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার সেনা সদরের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

জিডিটি গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তাপস কুমার দাস জানান, সেনা সদর দপ্তরের আইনবিষয়ক উইংয়ের মেজর এম রকিবুল আলম বৃহস্পতিবার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আশুলিয়ায় জমি দখলের মামলা

জমি দখলের অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মো. আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪১।

আশুলিয়া থানা সূত্র জানায়, মামলায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাড়াও আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন, গণস্বাস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও আওলাদ হোসেন।

আশুলিয়া থানার ওসি সেখ মো. রেজাউল হক গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
  • 40
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here