image_29872.pic-19

সরকারি বাহিনী দিয়ে জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে প্রথমে দলটির চেয়ারম্যান ও তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরকে চাপে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করছে দলটির একাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কোনো নিষিদ্ধ দল নয়। কিন্তু যেখানেই আমরা জড়ো হচ্ছি, সেখানেই পুলিশ-র‌্যাব এসে হাজির হচ্ছে। আমরা মিছিল-মিটিং-সমাবেশ কিছুই করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-১-এর কিসমত হায়াত্ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘র‌্যাবের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়া। কোথাও কোনো মিছিল সমাবেশ হলে আমার-আপনার আত্মীয়স্বজনও আঘাত পেতে পারেন।’

অন্যদিকে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির লোকজনকে হয়রানি করব কেন? তারা কি দেশের জনগণ না? আমরা নিরাপত্তার জন্য টহল দিই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরশাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কেউ কেউ তাঁদের মুঠোফোনের নম্বরটি পরিবর্তন করে ফেলেছেন। ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন খান ইকবাল এরশাদকে আটকের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি দাবি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান। ওই রাতেই আবার নোটিশটি প্রত্যাহার করেন। সেই সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ করে রাখেন। বখতিয়ারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র প্রথম আলো ডটকমকে জানিয়েছে, একটি পক্ষের চাপে পড়ে তাঁকে নোটিশ প্রত্যাহার করতে হয়েছে। কখনো কখনো আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও জাতীয় পার্টির এরশাদপন্থী নেতাদের বাড়ির আশেপাশে দেখা গেছে।

গত শুক্রবার এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের সংবাদ সম্মেলন করেন। এরশাদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় আছেন—এমন বক্তব্যের পর জি এম কাদেরের বাড়ির চারপাশে ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে স্লোগান দেয় একদল তরুণ।

এ ছাড়া এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় ও কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার কথা থাকলেও পুলিশি বাধায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেননি দলটির নেতা-কর্মীরা। দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকালও সাংবাদিকদের ডেকে মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার উধাও হয়ে যান মূলত ভয়ে।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ১২ ডিসেম্বর এরশাদকে জোর করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আটক করা পর্যন্ত এরশাদের বারিধারার বাসভবনে প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং ৪ ডিসেম্বর এরশাদের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে বৈঠক করেন। সুজাতা বের হয়ে যাওয়ার পরপরই পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্ক ঘেরাও করে ফেলেন। এ সময় সেখানে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আকবর হোসেন, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সিরাজুল ইসলাম শিকদার, র‌্যাব-১-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিসমত হায়াত্সহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। রাত ১০ টার দিকে তাঁরা চলে যান। এ ছাড়া ১২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব, পুলিশ ও একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এরশাদকে তুলে নিয়ে যান দলের নেতা-কর্মীরা জানান।

এর এক দিন পর ১৪ ডিসেম্বর ববি হাজ্জাজকে র্যাব জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যায় ও পরে জোর করে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাব-১-এর কমান্ডিং অফিসার কিসমত বলেছেন, ‘ববি হাজ্জাজ বিখ্যাত হওয়ার জন্য ফেসবুকে নানা কথা লিখেছেন। র‌্যাব অফিসে অনেকেরই যাতায়াত আছে। ববিও এসেছিলেন। তারপর স্বেচ্ছায় চলেও গেছেন।’

সুত্রঃ প্রথম আলো

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here