এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল ইসলাম সোহেল কলেজ হোস্টেলের দায়িত্বে আছেন। মনিরুল ইসলাম সোহেল কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের শিক্ষক। তিনি কলেজটির অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন আহমদের ভাতিজা। গত সোমবার রাত ১২টার পর এই ঘটনা ঘটে।কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আমরা ৯-১০ জন বন্ধু মিলে ২৬ মার্চ রাত ১২টার সময় হোস্টেলের নীচে এক বন্ধুর জন্মদিন পালন করছিলাম। এ সময় কিছুটা একটু হই-হুল্লোড় হচ্ছিল। এমন সময় সোহেল স্যার হঠাত্ এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং দাঁড় করিয়ে রড দিয়ে পেটান। আমরা তার কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি মানেননি। চিত্কার করেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এ ঘটনার ভিডিও করেন স্যারের সহযোগী আনোয়ার মোল্লা।

শিক্ষার্থীরা বলেছে, এই শিক্ষক অতীতেও আমাদের ওপর অত্যাচার চালাতো। আমরা এর ‘আমরা বিচার চাই। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ঘটনার পরে অধ্যক্ষ তাদের ডেকে ধমক দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে মানা করেছেন। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, তারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এ কারণে ঘটনার আগের দিনই তাদের সংবর্ধনা দিয়ে বিদায় দেয়া হয়।

শাহরিয়ার রুদ্র নামে এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে লেখেন, আইডিয়াল কলেজের (ধানমন্ডি) হোস্টেলে জন্মদিন পালনের অপরাধে এইচএসসি পরীক্ষার ৩ দিন আগে এদের এভাবে নির্যাতন না করলে হতো না? মা-বাবা নিশ্চয় ছেলেদের কসাইয়ের কাছে পাঠায়নি! 🙂 মানবতা জেগে উঠুক তাদের মাঝেও, যারা কসাই না হয়েও রক্ত ঝরায়; সেটাও আবার মানুষ গড়ার কারিগর হয়ে মানুষের দেহ থেকেই।

আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে লিখেছে, ‘আমাদের পরিচয়, আমরা আইডিয়াল কলেজ জেলখানার আসামি। আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল আমরা কলেজ হোস্টেলে থাকি। আমাদের এভাবে মেরে রক্তাক্ত করার পেছনে কারণ হচ্ছে একজনের বার্থডে (জন্মদিন) সেলিব্রেশন (উদযাপন) করা।’

কলেজের অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন আহমদের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন হাসপাতালে আছি। তাই এই মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না। তবে এ ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন
  • 26
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here