image_100722জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ৪২ হাজার টাকা বেতনে ১৯৮২ ব্যাচের কয়েকজন সচিবকে সিনিয়র সচিব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। এমনকি ্বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই সরকারের আমলেই এসোসিয়েশন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। যদিও শুধু কারিগরি বা বিশেষায়িত পদে বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য এ বিধান এডহক ভিত্তিতে চালু হয়েছিল। কিন্তু এরশাদ জামানার শেষে এটি ঢালাওভাবে বিশেষ বিশেষ পছন্দের ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের হিড়িক পড়ে যায়। একজন কর্মকর্তাকে ৫ বছর পর্যন্ত চুক্তিতে নিয়োগের নজির রয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দুই দফায় অবসরের বয়স বাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের ৬০ এবং একবার সাধারণ সকল শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৫৯ বছর করেছে। আগে এ বয়স ছিল ৫৭ বছর।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর পর এখন আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে আগ্রহী নয় সরকার। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে সরকারের কট্টর সমর্থক হিসাবে পরিচিত সচিব আবু আলম শহীদ খানকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপানুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু এ পত্র দেয়ার পরপরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন ‘ সরকার নতুন করে কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু যে কর্মকর্তা চলে যাচ্ছেন তিনি অত্যন্ত ভালোমানের।’ যদিও এ ঘটনার মাত্র কিছু দিন আগে ৬ জানুয়ারি খোদ অর্থমন্ত্রী উপানুষ্ঠানিকপত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন এবং সেটি শেষপর্যন্ত অনুমোদিত হয়।

এদিকে গত ১ মার্চ সরকারি কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একইসঙ্গে চাকরিতে অবসরের বয়স বাড়ানো না বাড়ানো সম্পর্কে স্পষ্ট কোন কিছু উল্লেখ না করে চিঠিতে চাকরিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বয়স সর্বোচ্চ কত বছর পর্যন্ত সুযোগ দেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। একইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

‘সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরান্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য নীতিমালা’ শিরোনামে গত ১ মার্চ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন অর্থমন্ত্রী। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করে উপস্থাপনের জন্য গত বুধবার জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী চিঠিতে যেসব বিষয়ের কথা তুলে ধরেছেন, তার কয়েকটির বিষয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

অর্থমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, অতি অধুনা সরকার অবসরের বয়স বাড়িয়েছে এবং সেটা মনে রেখে পারতপক্ষে অবসরান্তে চুক্তিভিত্তিক চাকরি পরিহার করতে হবে।’ সরকারি কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক চাকরি পরিহারকে ‘নীতিগতভাবে অত্যন্ত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সচরাচর অবসরের পরে চাকরির মেয়াদ বাড়ালে কর্মকর্তাদেরও অসুবিধা হয়। কারণ তখন তাদের কোনো দলের সদস্য বলে অপবাদ দেয়া হয়।’ ‘অনেক ক্ষেত্রে কিছু কিছু কর্মকর্তাকে পুনঃনিয়োগ দিতে হয়। জনপ্রশাসন বিভাগ এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা করে দেখেছে যে, বর্তমান ছয় মাস এবং পরবর্তী ছয় মাসে কি ধরনের অবসর নেয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারের দক্ষতা ও মান রক্ষার জন্য ভবিষ্যিট কেমন দেখাবে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য (যেমন বাজেট প্রণয়ন) অবসরান্তে ছয় মাস পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখা এবং বিভাগের দক্ষতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু কর্মকর্তাকে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

এছাড়া যে পদে বা যে ক্যাডারে কোনো কর্মকর্তাকে অবসরের পরেও সরকার ব্যবহার করতে চায় তেমন ব্যক্তিকে ক্যাডার বহির্ভূত বিশেষ পদে (যেমন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বা উপদেষ্টা পরিষদে নিযুক্তি) নিযুক্তি দেয়ার বিষয়ে নিজের মতের কথা পত্রে তুলে ধরেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here