জনতার নিউজঃ

চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৫

টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় গত শুক্রবার রাতে চলন্ত বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে পরিচয় না মেলায় গত শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে ওই তরুণীর লাশ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করে মধুপুর থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার ছবি দেখে নিহতের বড় ভাই মো. হাফিজুর রহমান লাশ শনাক্ত করার পর জানা যায়, সে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রামাণিকের মেয়ে। নাম মোছা. জাকিয়া সুলতানা রুপা (২৭)। পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতেই মধুপর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় পাঁচজন। অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে- চলন্তবাসে গণধর্ষণের পর ঘাড় ভেঙে হত্যা করা হয় রুপাকে।

নিহতের পরিবার এবং মধুপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার বনাঞ্চলের রাস্তার ধারে এক তরুণীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকার খবর পায় মধুপুর থানা পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে আসে। হত্যা করে লাশ সড়কের পাশে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রেখে যায় এমনটি ধারণা করে শনিবার মধুপুর থানা পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

নিহতের বড় ভাই জানান, পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে মোছা. জাকিয়া সুলতানা (রুপা) ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজে এলএলবিতে শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত ছিল। পড়ালেখার পাশাপাশি শেরপুর জেলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রমোশনাল ডিভিশনে চাকরি করছিল। গত শুক্রবার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে সে বগুড়া যায়। পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে তার এক সহকর্মীর সঙ্গে যাত্রা করে। তার সেই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় সে এলেঙ্গাতে নেমে গেলে রুপা ওই বাসেই ময়মনসিংহ যাচ্ছিল। তবে সঠিক সময়ে ময়মনসিংহ না পৌঁছায় তার সহকর্মীরা মোবাইলে ফোন করলে এক যুবক ফোনটি রিসিভ করে এবং রুপা ভুল করে ফোনটি ফেলে রেখে গেছে বলে জানিয়ে কেটে দেয়।

এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গত শনিবার সকালে কর্মস্থলে না পৌঁছায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের শেরপুর অফিস থেকে রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমানের মোবাইলে রুপা কর্মস্থলে না ফেরার বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তীতে রুপার মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে তার বড় ভাই ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। সোমবার গণমাধ্যমের খবর পড়ে সে মধুপুর থানায় এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তরুণীর লাশের ছবি দেখে তার বোন বলে শনাক্ত করে।

মধুপুর থানা ওসি মো. সফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম, অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাতে নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তার বড় ভাইয়ের দেয়া তথ্যর উপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা সবাই ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে নিহতের লাশ কবর থেকে তুলে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here