চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিশ্বকাপ

ফুটবল চলাকালে সারাদেশে বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সামগ্রিক বিদ্যুত ব্যবস্থা মনিটরিং করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৭৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৯৬টি বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারী খাতে মোট ৫ হাজার ৮১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৬টি এবং বেসরকারী খাতে মোট ৪ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৬০টি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে। এছাড়া মোট ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হতে আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের সিস্টেম লস বিশ্বব্যাপী অনিবার্য স্বীকৃত। তবে বিদ্যুত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে এর পরিমাণের তারতম্য ঘটে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লস ছিল ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ লসকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারী দলের মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকায় সাধারণত বিদ্যুত ঘাটতি হচ্ছে না। তবে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মাঝে মাঝে বিদ্যুত বিভ্রাট ঘটে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার সবার জন্য বিদ্যুত নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদ্যুত উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জ্বালানি বহুমুখীকরণ (দেশীয় ও আমদানিকৃত কয়লা, গ্যাস ও এলএনজি, তরল জ্বালানি) ও বিদ্যুত আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন
  • 19
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here