Report

আবারও মুস্তাফিজ

লিকলিকে শরীর, চোখেমুখে কৈশোরের ছাপ।

টেস্ট ক্রিকেট তো দূরে থাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তার উপস্থিতি দেখলে মনে হয় ভুল জায়গায় এসেছেন; কিন্তু আরো একবার বলটাকে আগুনের গোলা বানিয়ে, কথায় কথায় অফ-কাটার দিয়ে পাগল বানিয়ে ফেললেন দক্ষিণ আফ্রিকান পরাক্রমশালী ব্যাটসম্যানদের। সেই সঙ্গে ঝুলি থেকে নতুন অস্ত্র ‘রিভার্স সুইং’ বের করলেন। আর এই রহস্য বোলারের একটার পর একটা রহস্যময় ডেলিভারিতে একেবারে নাকাল হয়ে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

মাত্র চার বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট এবং শেষ পর্যন্ত ইনিংসে ৪ উইকেট নিলেন মুস্তাফিজ। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে ৩ উইকেট নিলেন জুবায়ের হোসেন লিখনও।

এই দুই তরুণের দুমুখো আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো মহাপরাক্রমশালী দল চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনেই মাত্র ৮৩.৪ ওভারে অল-আউট হয়ে গেলো ২৪৮ রানে। দিনের একেবারে শেষ বেলায় ২ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলো বাংলাদেশ। তাতে কোনোরকম ক্ষতি ছাড়া ৭ রান তুলে ড্রেসিংরুমে ফিরলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।

দিনের শেষটা যেমন, শুরুটা হয়েছিলো তার একেবারে বিপরীত।

১ উইকেটে ১৩৬ রান তুলেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে পরের ১১২ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হলো সফরকারী দলটি।

টানা বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন কাভার ঢাকা থাকায় উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল; কিন্তু ম্যাচের দিন সকালে রোদ উঠার পর সেই শঙ্কা কেটে যায়। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সুবিধা কাজে লাগাতে ভুল করেননি ডিন এলগার, স্টিয়ান ফন জিল ও ফাফ দু প্লেসি। উইকেটে বোলারদের জন্য খুব একটা সুবিধা ছিল না, তার ওপরে নিজেদের প্রথম স্পেলে ভালো করতে পারেননি শহীদ ও অভিষিক্ত মুস্তাফিজ।

দুই বাঁ-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এলগার ও ফন জিলকে থামাতে দ্বাদশ ওভারে মাহমুদউল্লাহকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। ফন জিলকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এটাই টেস্টে লিটনের প্রথম ডিসমিসাল।

মাহমুদউল্লাহ এসে ফিরিয়েছিলেন ৩৪ রান করা ওপেনার ভ্যান জিলকে। এরপর আবার একটা ভালো জুটি করলেন আরেক ওপেনার এলগার ও তিন নম্বরে নামা ডু প্লেসিস। দুই জনে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করলেন ৭৮ রান। এই সময় মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশের সামনে দীর্ঘ একটা ক্লান্তিকর দিন অপেক্ষা করছে।

কিন্তু এই দুই জনকে পরপর দুই ওভারে এসে ফিরিয়ে দেন তাইজুল ও সাকিব। তরুণ বাবুমাকে নিয়ে মেরামতের একটা চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক হাশিম আমলা। আর এই সময়ই দানবীয় এক চেহারায় হাজির হলেন মুস্তাফিজুর রহমান। শর্টার ফরম্যাটের অভিষেকে রীতিমতো হইচই ফেলে দেয়া মুস্তাফিজ চার বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরিণত করেন ৬ উইকেটে ১৭৩ রানে।

এরপর পরপর দুইটি জুটিতে দলের স্কোরে কিছু সংযোজনের চেষ্টা শেষ দিকের খেলোয়াড়দের নিয়ে করেছেন বাবুমা। একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে ফিফটি পারও করেছেন; কিন্তু সে কাজটাও খুব ভালো করতে পারেননি। কারণ, অন্য প্রান্তে আবার তত্পর হয়ে উঠে পরপর তিনটে উইকেট তুলে নেন জুবায়ের।

জোড়া আঘাতে সাইমন হারমার ও ডেল স্টেইনকেও ফেরান জুবায়ের।  তার শর্ট বলে সজোরে মারতে গিয়ে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের ক্যাচে পরিণত হন হারমার। আরেকটি শর্ট বল তুলে মারতে গিয়ে মিড-অফে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত হন স্টেইন। ৫৩ রানে ৩ উইকেট নেন লেগ স্পিনার জুবায়ের।

আর একেবারে শেষ বেলায় এসে ৫৪ রান করা ওই বাবুমাকেই আউট করে ইনিংস গুটিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here