ctgnews

চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলার ও কক্সবাজার জেলার যাত্রীরা গতকাল রবিবার টানা ১২ ঘন্টা পরিবহন ধর্মঘটে জিম্মি হয়ে পড়ে। দাবি পূরণ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের পর সন্ধ্যায় পরিবহন ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে জেএসসি পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ধর্মঘট চলাকালে সিএনজি অটোরিক্সা ও রিক্সা চলাচলেও পরিবহন শ্রমিকরা বাধা দেয়। কয়েক জায়গায় পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন তাদের ৫ দফা দাবি আদায়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে এই ধর্মঘট আহবান করে। দীর্ঘ এক মাসেও শ্রমিকদের দাবি আদায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় তারা আবারো ধর্মঘট শুরু করে। তবে গতকাল দুপুরে সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সড়ক পরিবহন নেতাদের বৈঠকের পর সন্ধ্যা ছয়টায় ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেন পরিবহন শ্রমিকরা।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ বলেন, পুলিশ প্রশাসন ৫ দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ায় ধর্মঘট আপাতত স্থগিত করেছি। ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল বলেন, দাবিগুলো সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনার জন্য অভিহিত করা হবে আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, পরিবহন ধর্মঘটের নামে বান্দরবানে পর্যটকদের নাজেহাল করা হয়েছে। রাস্তায় পর্যটকবাহী গাড়ি আটকিয়ে পর্যটকদের নামিয়ে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং নানাভাবে নাজেহাল করেছে শ্রমিকরা। ধর্মঘটে টেকনিক্যাল স্কুলসহ বিভিন্ন স্কুলের পরীক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। ছয় দফা দাবিতে সকাল থেকে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও চট্টগ্রাম পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে সবগুলো রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে দূরপাল্লার বাস, সিএনজি, অটো রিকশা, মিনিবাস, মাইক্রোবাসসহ কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। আরকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা সড়কে ছিল তত্পর।

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, শ্রমিক পরিবহন ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটে সীতাকুণ্ডে চট্টগ্রামগামী ও ঢাকাগামী যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় সিএনজি টেক্সি চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে। সকালে শ্রমিক পরিবহন ফেডারেশনের কর্মীরা ভাটিয়ারী বানুবাজার এলাকায় মিছিল করতে চাইলে পুলিশের বাধার কারণে তা করতে পারেনি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here