জনতার নিউজ

চট্টগ্রামে ‘আউটার স্টেডিয়ামে’ হচ্ছে সুইমিং কমপ্লেক্স

চট্টগ্রাম নগরে উন্মুক্ত খেলার মাঠ আছে হাতে গোনা কয়েকটি। এর বেশিরভাগই কোনো না কোনোভাবে বেদখল। উঠতি খেলোয়াড়দের অনুশীলনের একমাত্র খোলামাঠ ছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পূর্বপার্শ্বের আউটার স্টেডিয়াম। এবার সেই আউটার স্টেডিয়ামেও পড়েছে এক্সক্যাভেটরের আঁচড়। সুইমিং কমপ্লেক্স তৈরির নামে মাঠটি এখন বাণিজ্যিকীকরণের পথে। অথচ শারীরিক শিক্ষা কলেজের আধুনিক সুইমিং পুলটি অব্যবহূত ।

আউটার স্টেডিয়ামকে ‘অত্যাধুনিক করার লক্ষ্যে’ গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সামনে নকশা উপস্থাপন করেন স্থপতি জেরিনা হোসেন। সেখানে বলা হয়, ‘জনগণের সুবিধার্থে’ সুইমিং কমপ্লেক্সে মনুমেন্ট, ওয়াটার বডি, বুক স্টল, ওয়েটিং এরিয়া সমৃদ্ধ বাস স্টপেজ, বিশ্বমানের গ্যালারি, অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট, শিশুদের খেলার জয়গা, পার্কিং জোন, সবুজ মাঠ অঞ্চল, প্র্যাকটিস ফিল্ড, ফুড জোন, ওয়াকওয়ে, জগিং পাথওয়ে নির্মাণের নকশা উন্নয়ন প্রকল্পভুক্ত করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তর হালিশহর এলাকায় সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের ভেতরের সুইমিং পুলটিও আধুনিক। এর দৈর্ঘ্য ৫০ মিটায়, প্রস্থ ২১ মিটার।  ১৩ একরজুড়ে এ প্রতিষ্ঠানে পুলের সাথে রয়েছে দেড় লাখ বর্গফুটের খেলার মাঠ, চারশ’ মিটার রানিং ট্র্যাক, জিমনেসিয়াম, দুই হাজার লোকের বসার মতো অডিটোরিয়াম, বাস্কেট বল, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমনিতেই এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের চারপাশে রেস্টুরেন্টসহ নানা প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই এলাকাকে খেলাধুলার এলাকা বলে মনেই হয় না, উল্টো বাণিজ্যকেন্দ্র বলে মনে হয়। এই পরিস্থিতিতে একটি আধুনিক সুইমিং পুলকে ব্যবহার উপযোগী না করে নতুন করে আউটার স্টেডিয়ামকে ঘিরে এই ধরনের স্থাপনা নির্মাণ পুরো এলাকাকে পরিপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত করবে। এতে করে খেলাধুলার অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

সিজেকেএস সূত্র জানায়, আউটার স্টেডিয়ামের মোট আয়তন ৬.৯ একর। এরমধ্যে ৩২০ ফুট দীর্ঘ ও ২৪০ ফুট প্রস্থের মধ্যে সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে শুধু পুলের আয়তন হবে ১০০ মিটার। বাকি অংশে অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের অন্তত তিনভাগের দুইভাগ অংশে ঘেরাও করে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে গর্ত করা হচ্ছে। এদিকে খেলার মাঠ রক্ষা কমিটির ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছে একটি সংগঠন। তাদের দাবি হচ্ছে, কোনোভাবেই এখানে এই কমপ্লেক্স হতে দেয়া যায় না। কারণ, এটি একমাত্র অবশিষ্ট মাঠ, যেখানে খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায়।

তবে অপর একটি অংশের বক্তব্য হচ্ছে, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে রাজনৈতিক দূরত্ব বেড়েই চলছে। এখানে সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণও বর্তমান মেয়রের রাজনৈতিক কৌশলেরও অংশ। কারণ প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে এখানে বিজয় মেলা আয়োজিত হয়। যেটির আয়োজন থেকে সবকিছুকে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা সক্রিয় থাকেন। তাই মহিউদ্দিন অনুসারীদের বিজয় মেলা আয়োজন যাতে বিফল হয় সে জন্যে এই কৌঁশলি উদ্যোগ নিচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নাছির।

এদিকে এর আগে এই মাঠটি নিয়ে সেনাবাহিনীর সাথে সিজেকেএস এর মামলা চললেও তা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিজেকেএস এর কোষাধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, আগের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বদলি হওয়ার মাস তিনেক আগে বিষয়টি নিয়ে আদালত সিজেকেএস এর পক্ষে রায় দেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ওই রায়ের আপিল করার সময়ও শেষ  হয়ে গেছে।

বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর  বলেন, আমি সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদকের (নাছির) সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, এখানে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা হবে না। সুইমিং কমপ্লেক্সের বাইরের অংশটুকু ছোটখাটো খেলার মাঠে পরিণত করা হবে। সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে গতরাতে সিজেকেএস সভাপতি ও জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিন এবং সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ফোন করা হলেও তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here