মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। দেশের সীমান্ত এলাকায় অনুমতি ছাড়া ১৭টি টাওয়ার তৈরি ও ব্যবহারের কারণে  গ্রামীণফোনকে এই জরিমানা করা হয়েছে। বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় এসব টাওয়ার তৈরি করে গ্রামীণফোন, যেগুলো স্থাপনের কোনো অনুমোদন বিটিআরসির কাছে নেয়নি অপারেটরটি। অনুমোদন ছাড়া এসব টাওয়ার ব্যবহারের জরিমানা হিসেবে এখন অপারেটরটিকে এ অর্থ দিতে হবে। টাওয়ার ব্যবহার করে গ্রামীণফোন যে অর্থ আয় করেছে সেটিই এখন জরিমানা হিসেবে বিটিআরসিকে দিতে হবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য গ্রামীণফোনকে সর্বোচ্চ এক মাস সময় দেওয়া হবে বলে কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্ত এলাকায় টাওয়ার থেকে অপারেটরদের আয় তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সব এলাকায় টাওয়ার তৈরির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অনুমোদন ছাড়া তাই এসব এলাকায় টাওয়ার তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে চোরাচালান বন্ধে সরকারের নানাবিধ তত্পরতা হোঁচট খায় এই মোবাইল টাওয়ারগুলোর কারণে। এক দেশের সন্ত্রাসীরা অন্য দেশের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এই টাওয়ারগুলো ব্যবহার করে আলাপ-       আলোচনা করে। বিটিআরসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় অনুমতি না নিয়ে মোট ৩৬৭টি টাওয়ার (বেস ট্রান্সভার স্টেশন-বিটিএস) তৈরি করেছে গ্রামীণফোন। এর মধ্যে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩৫০টি বিটিএস তৈরি করা হয়। বাকি ১৭টি বিটিএস পরবর্তী তিন বছরে তৈরি করা হয়। আগেরগুলোর অনুমোদন নেওয়া হলেও ১৭টির কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। মোবাইল ফোন অপারেটরকে সীমান্ত এলাকায় বিটিএস তৈরি করতে হলে বিটিআরসি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু বিটিআরসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, যে ঠিকানা দিয়ে গ্রামীণফোন এসব বিটিএস তৈরি করেছে তার মধ্যে ৪০টির ঠিকানা পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকানা পরিবর্তন করার বিষয়টি পরবর্তীতে আর বিটিআরসিকে জানানো হয়নি। তারা ইচ্ছেমতো ঠিকানা বদল করে দিব্যি টাওয়ার ব্যবহার করে যাচ্ছে।

গত বছরের আগস্টে একই অভিযোগে বাংলালিংককে ১৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়া বাংলালিংক ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে ১০৯টি টাওয়ার তৈরি করেছিল। এর আগে ২০১৩ সালে সীমান্ত এলাকায় অনুমোদন ছাড়া টাওয়ার তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল বাংলালিংক ও এয়ারটেল। সে সময় অপারেটর দু’টিকে জরিমানা না করে ভবিষ্যতে যাতে এমনটি না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক করেছিল বিটিআরসি। একই সঙ্গে নির্মাণ করা ওই সব টাওয়ার তৈরির অনুমোদনও সে সময় দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালে বাংলালিংক সীমান্ত এলাকায় ৪০০ টাওয়ার তৈরি করেছিল। আর বর্তমানে রবির সঙ্গে একীভূত হওয়া এয়ারটেল তৈরি করেছিল ১৯১টি টাওয়ার। সেগুলো এখনো চালু আছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন
  • 9
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here