marder

রাজধানীর গোপীবাগের একটি বাসায় ছয়জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। তাঁরা হলেন লুত্ফর রহমান (৬০) ও মনির হোসেন (৩০)। কিছুদিন আগে তাঁরা বাসাটিতে উঠেছিলেন বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে লুত্ফর রহমান নিজেকে পীর বলে পরিচয় দিতেন।

বাকি চারজন হলেন বাড়ির কেয়ারটেকার মঞ্জু, পীরের মুরিদ শাহিন, রাসেল ও মুজিবুর রহমান। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপীবাগের ৬৪/৬ আর কে মিশন রোডের চারতলা ভবনের দোতলায় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ওই খুনের ঘটনা ঘটে। বাসার ভেতরে চিত্কার শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে। বাসার একটি কক্ষে ছিল চারটি লাশ ও আরেকটি কক্ষে ছিল দুটি লাশ। প্রত্যেকের মুখে স্কচটেপ ও তাঁদের হাত-পা বাঁধা ছিল। এ ছাড়া বাসার আরেকটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, নিহত লুত্ফর রহমান তিন মাস আগে ওই বাসা ভাড়া নেন। তখন থেকে তিনি ওই বাসায় থাকেন। তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা করতেন। এ জন্য তাঁর ভক্ত বা মুরিদরা ওই বাসায় যেতেন। ওই বাসা থেকে যাঁদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা পুলিশকে বলেছেন, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আট থেকে ১০ ব্যক্তি ওই বাসায় ঢুকে তাঁদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। তারপর ওই ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

মেহেদী জানান, লুত্ফর রহমানের স্ত্রীসহ অন্য সদস্যদের বাসার আরেকটি কক্ষে আটকে রেখে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। পীরের অনুসারী সেজে ভেতরে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ওই বাসা থেকে চিত্কারের শব্দ আসলে মানুষজন এগিয়ে যায়।

পাশের ভবনের বাসিন্দা মসিহ হোসেন  বলেন,‘চিত্কার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি দরজার সামনে দুটি লাশ পড়ে আছে। একটি বয়স্ক লোকের এবং অপরজনের বয়স অনেকটা কম।’

খুনের কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। ডাকাতির উদ্দেশে নাকি অন্য কোনো কারণে খুন হয়েছে তা-ও নিশ্চিত নয়।

নিহত লুত্ফর রহমানের স্ত্রীর বরাত দিয়ে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে আট যুবক দৌড়ে ঐ ভবনে প্রবেশ করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সেখানে এসেছে বলে যুবকেরা গৃহকর্তাকে জানান। নিজেদের রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে যুবকেরা ফারুকের কাছে আশ্রয় চান। কিছুক্ষণ পর বাসার ড্রয়িং রুমে তাঁরা একসঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। পরে সবাই মিলে ঘরে থাকা মুড়ি খান। এরপরই আকস্মিকভাবে আট যুবক ধারালো অস্ত্র বের করে সবাইকে জিম্মি করে ফেলেন। আড়াই বছরের শিশুসহ পাঁচ নারীকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন তাঁরা। বাসায় উপস্থিতদের মধ্যে ফারুক ও তাঁর ছেলে মনিরকে আলাদা ঘরে নিয়ে যান ওই যুবকেরা। অন্য চার পুরুষকেও আলাদা কক্ষে আটকে ফেলেন তাঁরা। এরপর বাড়িটিতে লুটপাট চালিয়ে ও অন্যদের জবাই করে চলে যান তাঁরা। পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত নারীসহ প্রতিবেশীদের বক্তব্য যাচাই করে দেখছে বলে জানিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নীচতলার মেসের পাঁচজন এবং বাড়ির তিনতলা থেকে একজনসহ মোট ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here