জনতার নিউজঃ logo-jn1
২৫ অক্টোবরকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি নিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। যে কোনো নাশকতা এড়াতে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ৭ স্তরের নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন। পুলিশ ও র‌্যাবকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরকারের বিরোধী শিবিরে গ্রেফতার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের পরিস্থিতি চিন্তা করে পুলিশের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক জোন রাজধানীর গুলশান-বারিধারা এলাকায় জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। সরকারের নির্দেশ আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাসভবন যমুনা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, রেডিও, সংসদ ভবন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিমানবন্দরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। এদিকে ২৫ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ করার অনুমতি না দিতে পুলিশ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। কোনো কারণে পরিস্থিতি পুলিশ-র‌্যাবের আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে যৌথবাহিনীকে মাঠে নামানো হবে।
এই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আইন সবার জন্য সমান। কেউ আইন অমান্য করলে তার রেহাই নেই। কোনো অজুহাতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। বিএনপিসহ বিরোধী জোট নানাভাবে অপ্রচার চালাচ্ছে। সরকার বারবার বলছে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্ভব হবে। তারপরও তারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে। দেশে অরাজকতা করলেই অ্যাকশনে যাবে আইনশৃংখলা বাহিনী। এই জন্য তাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ অভিযান নয়। রুটিনমাফিক অভিযান চলবে। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেবে পুলিশ ও র‌্যাব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৫ অক্টোবর অনুমতি নিয়েই সমাবেশ করতে হবে বিএনপিকে। কোনো বিশৃংখলা করলে তাদের অনুমতি দেয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, ঈদের ছুটিতে কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে থাকবে সারা দেশ। এই সময় কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। ২৫ অক্টোবর নিয়ে পুলিশের প্রস্তুতি থাকাই স্বাভাবিক। বিধিবদ্ধ আইনের বাইরে কিছু করা হলে সেটি হবে অপরাধ। পুলিশ বিধিবদ্ধ আইনের মধ্য থেকেই অপরাধী গ্রেফতারে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে না। বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে ঘায়েল করতে কোনো স্কোয়াড নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশে কোনো ধরনের বিশৃংখলা হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৫ অক্টোবর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসাÍক কার্যকলাপ চালানোর নীলনকশা করেছে জামায়াত-শিবির। এজন্য রাজধানীসহ সারা দেশের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে জামায়াত-শিবিরের গোপন ঘাঁটিগুলোয় তৈরি হচ্ছে বোমা-গ্রেনেড। জামায়াত-শিবির রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাধা এলে তার পাল্টা জবাব কীভাবে দিতে হবে তারও ছক তৈরি করেছে। বসে নেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলোও। দলটির নেতাকর্মীরাও সরকারের একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করতে ইতিমধ্যে রাজধানী থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটি গঠনও প্রায় শেষ করে এনেছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২৫ অক্টোবর তারা ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের পাশাপাশি সরকারি দল আওয়ামী লীগও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়ায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত থাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে দুশ্চিন্তায়। ২৪ অক্টোবরের পর দেশে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেই জন্য পুলিশ ও র‌্যাবের মধ্যেই আলোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশে বিশৃংখলা হওয়ার আশংকা করে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের কাছে রিপোর্ট দিয়েছে। তারপরও যারা ধ্বংসাÍক কার্যকলাপের নেতৃত্ব দিতে পারে তাদের সম্ভাব্য নামের তালিকাও তৈরি করেছে পুলিশ। এজন্য রাজধানীসহ সারা দেশে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের গোপন ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। ঈদের আগের দিন রাতে ঢাকা বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও গতকাল খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং ড্যাব নেতা এজেডএম জাহিদ হোসেনের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহে জেলা যুবদল সভাপতিসহ বেশ করেয়কজন গ্রেফতার হয়েছে। তাছাড়া ঈদের পরের দিন ঢাকায় বিএনপির অফিস অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কোনো কারণে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে যৌথবাহিনীকে মাঠে নামানো হবে। পুলিশের অভিযান নিয়ে বিরোধী শিবিরে গ্রেফতার আতংক দেখা দিয়েছে। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদেরকে ঘায়েল করতে সরকার পুলিশের এক বিশেষ কর্মকর্তাকে দিয়ে বিশেষ স্কোয়াড গঠন করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএনপির বিপজ্জনক নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের বহু টিম। অভিযান চলছে। কিছু নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন চিহ্নিত স্পট, আবাসিক হোটেল, বস্তি, মেস এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় চলছে নজরদারি। তাছাড়া জঙ্গি কানেকশনে জড়িত নেতাকর্মীদের উপরও চলছে নজরদারি।
সূত্র আরও জানায়, ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছেÑ সমাবেশের নামে তারা রাজপথ দখলে নেবে। তাই সরকারের হাইকমান্ড সমাবেশ করতে অনুমতি না দিতে পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছে। সরকারের নির্দেশে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৫ শতাধিক স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদের ছুটি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাসভবন যমুনা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, রেডিও, সংসদ ভবন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিমানবন্দরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। এই সময় সাত স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পুলিশ-র‌্যাব ও সবকটি গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি এবার এপিবিএন, সোয়াত, এসবিবিএনকে মাঠে নামানো হবে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে চ্যানসারি পুলিশ স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা বিধান করবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here