যেখানে সেখানে ফাটানো হচ্ছে ককটেল। মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে আতংক। কিন্তু এ আতংক থেকেই ভুক্তভোগীরা এখন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা শুরু করছে। যারা এসব ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, তারাও ভুক্তভোগীদের দ্বারা ক্ষতির শিকার হতে পারেন। ককটেল হামলা চালিয়ে হামলাকারীরাও পার পাবেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য এই ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে জনমনে এখন একটিই প্রশ্ন- হামলাকারীরাও একদিন এর শিকার হতে পারেন।

হরতালকে কেন্দ্র করে মুড়ি-মুড়কির মতো ফাটানো হচ্ছে ককটেল। যে কোন সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে এখন অন্যান্য অস্ত্রের চেয়ে ককটেল বেশি ব্যবহার হচ্ছে। পথে-ঘাটে নিরীহ মানুষ ককটেল হামলার শিকার হচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাসভবন ও রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনেও ককটেল হামলা চালানো হচ্ছে। গত এক মাসে হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতায় রাজধানীসহ সারাদেশে অন্তত ১০ হাজার ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আতংক ছড়ানোর পাশাপাশি জনগণের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ঘটনাটি একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পুলিশ ইতোপূর্বে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেশকিছু ককটেল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আসামীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এর নেপথ্যে অর্থের যোগানদাতা, অর্থের উত্স ও ককটেল তৈরির কারিগরের নাম ঠিকানা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ককটেল তৈরির রাসায়নিক উপাদান অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও পেয়েছে ডিবি। ককটেল তৈরির কারিগরদের কাছে হরতালের আগেই ককটেল তৈরির অর্ডার দেয়া হয়। আর ঐ ককটেল তৈরির কারিগররা এসব রাসায়নিক উপাদান বিক্রেতার কাছ থেকে কাঁচামাল কিনে নেয়। এরপরে কোন গোপন স্থানে রাতে তারা ককটেল তৈরি করে। ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, অবৈধভাবে রাসায়নিক উপাদান বিক্রির প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে। এসব বিক্রেতা পরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক উপাদান বিক্রি করেছে। প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ীর তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা ধরে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here