gojamonconews

পুলিশী বাধার মুখে শাহবাগে অবস্থান নিতে পারেনি গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল শাহবাগ চৌরাস্তা অবরোধ করতে গেলে পুলিশ জলকামান দিয়ে গরম পানি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ অন্তত দশজন কর্মী আহত হন। গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে পুলিশ শাহবাগে অবস্থান নেয়া গণজাগরণ মঞ্চ লক্ষ্য করে জলকামান দিয়ে গরম পানি, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

বুধবার সকালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। এর বিরুদ্ধে বেলা ১১টার দিকে শাহবাগে সড়কে অবরোধ করে অবস্থান শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে। বেশ কয়েকটি বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য।

এদিকে, এই রায়কে ‘আঁতাতের রায়’ বলে মন্তব্য করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। রায় ঘোষণার পর সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে পরিকল্পিতভাবে এ রায় দেয়া হয়েছে। এই রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। এ রকম একটি রায় দেয়ার জন্য বছর খানেক ধরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রায় ঘোষণার পরপরই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে ট্রাইব্যুনালের দিকে যান। সেখান থেকে ফিরে শাহবাগে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ সময় জাতীয় জাদুঘরের সামনে কামাল পাশা চৌধুরী অংশের প্রতিবাদী গণসংগীত চলছিল। একপর্যায়ে গণসংগীত থামিয়ে কামাল পাশা চৌধুরী মাইক নিয়ে বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর এই হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি সব পক্ষকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে গণজাগরণ মঞ্চের কামাল পাশা চৌধুরীর অংশটি সকালে শাহবাগ মোড়ে রাস্তা অবরোধ করতে গেলে পুলিশ সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে তারা সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

gmonco

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সমর্থকদের ওপর পুলিশের হামলার পর মঞ্চের নেতা-কর্মীদের কাছে অবিভক্ত মঞ্চের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে দুই অংশের নেতারা বার বার বৈঠক করেছেন। এই দুই বলয়ের বাইরে যারা রয়েছেন, তারাও দুই অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে মধ্যস্থতা করছেন।

পরে ইমরান এইচ সরকার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ‘শাহবাগ আন্দোলনের’ কর্মীদের দুই পক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করে একটি কর্মসূচি দেয়ার প্রস্তাব করেন। গত ৮ এপ্রিল পাঁচটি বাম ছাত্র সংগঠন সাংবাদিক সম্মেলন করে দুই অংশের কারও সঙ্গে না থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সংগঠনের নেতারাই ‘শাহবাগ আন্দোলন’ নামে আলাদা কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন সময়ে। এঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম সুমন প্রমুখ। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন নেটওয়ার্ক ফোরামের একাংশ।

কেউ রাস্তা আটকে দিতে পারে না ঃ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আদালতের রায় নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও সড়ক আটকে বিক্ষোভ করা যাবে না।

আসাদুজ্জামান খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা রায়ে সবাই সন্তুষ্ট হতে পারে না। তারা সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চেয়েছিল, সেটা পায়নি। তাই বলে তারা রাস্তা আটকে রাখতে পারে না। আদালতের রায়ের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। “রায়ে একেক জনের প্রতিক্রিয়া একেক রকম হবে। কিন্তু জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আমাদের পালন করতে হবে,” আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের পক্ষে যুক্তি দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আজ ও কাল সমাবেশ

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে শাহবাগসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামীকাল শুক্রবার বিকালে শাহবাগে সমাবেশের ডাক দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

গতকাল বুধবার শাহবাগে এক সমাবেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ব্লগার আরিফ জেবতিক।  পুলিশের টিয়ার গ্যাসে আহত মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানানো হয়।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here