kobir

newসাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির সাথে খেলা, না খেলার সাথে রাজনীতি, তা নিয়ে মানুষের মাঝে এক ধরনের যুদ্ধ চলছে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাট বাজার, চা এর দোকান, আড্ডাস্থলে চলছে তুমুল তর্ক-বিতর্ক। আর এ যুদ্ধ যেমন চলছে বাস্তব জীবনে, তেমন চলছে ভার্চুয়াল জগতেও। তবে বাস্তব জীবনের চেয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে যেমন ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ এ সব চেয়ে বেশী।

একশ্রেনীর মানুষ নিজেকে সুশীল সমাজের ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লড়ায়ে বেশ গুরু গম্ভীর মন্তব্য করে থাকেন ‘প্লিজ খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না’। আর এ গুরু গম্ভীর মন্তব্যের জবাবও আসে নানান ধরনের। অনেকে আবার তথ্যবিত্তিক আলোচনাও নিয়ে আসে।

একটা দেশ তার নিজেস্ব জাতিয় পতাকা বহন করে, নিজেস্ব জাতিয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নিজেদের ভালো খেলাটা খেলতে চেষ্ঠা করে, চেষ্ঠা করে নিজেদের বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে। সেই সাথে নিজ দেশের শিল্প-সংস্কৃতি উপস্থান করতেও সচেষ্ট হয়। বিশ্ব পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নানান ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকে, সাথে থাকে তাদের জাতিয় নেতৃবৃন্দের ছবি ও জীবন কাহিনী।

জাতিয় দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমরা অনেক রাষ্ট্রপ্রধানদের মাঠে উপস্থিত হতে দেখেছি, দেখেছি দর্শকের সাড়িতে বসে খেলোয়ারকে উৎসাহ প্রদান করতে, দেখেছি উপহার প্রদান করতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের অবস্থান। জাতিয় পতাকা বহন ও জাতিয় সংগীত পরিবেশন করা প্রতিটি দলের জয় পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে একটি দেশের সুনাম যেমন বয়ে আনে, তেমনি বদনামও বহন করে চলে।

আর খেলায় অংশগ্রহনকারী দলের, একে অপরে মাঝে তিক্ত অভিজ্ঞতা যদি থাকে, থাকে যদি যুদ্ধ করার মত আরও তিক্ত কাহিনী, থাকে যদি স্বাধীনতা যুদ্ধের মত এক অনবদ্ধ ইতিহাস, তা হলে তো আর কথাই নেই। মাঠে চলে আরেক ধরনের যুদ্ধ, যুদ্ধ চলে দর্শক সাড়িতে বসা উল্লাসিত জনতার মাঝেও। আসুন, একটু পিচনের দিকে। ১৯৩৮ সালের কথা। তখন জাপান আর চীনের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যুদ্ধে, চীনের প্রায় ২০ লাখ মানুষ মেরেছিলো জাপানী সৈন্যরা।

চাইনিজ’রা ভূলে যায়নি সেই নির্মম ইতিহাস। আর তাই জাতি হিসেবে চাইনিজ’রা প্রতিশোধ নিতে নিজেদের তৈরি করেছে দীর্ঘ ৭৬ বছর ধরে। শুরু হয় জাপানী পণ্যের নকল পণ্য বাজারজাত করণ। আর খেলার মাঠে শুরু হয় জাপান-চীন এর মধ্যকার আরেক যুদ্ধ। আর সে যে খেলাই হোক না কেন। উত্তেজনা যেমন থাকে খেলোয়ারের মাঝে, তেমন প্রতিয়মান রাজনীতিবিদ সহ উভয় দেশের জনগণের মাঝে।

১৯৪৭ সাল। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠন করা হয়। কিন্তু থেমে থেমে যুদ্ধ যেন লেগেই ছিলো। দুটি স্বাধীন দেশের জাতিয় পতাকা আর জাতিয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যখন খেলা শুরু হয়, তখন নতুন করে রাজনৈতিক সমিকরণও মিলাতে থাকে দু’দেশের রাজনীতিবিদ সহ সাধারণ জনগণ। খেলোয়ারের ভিতরে যেমন থাকে প্রতিশোধ পরায়ণ, তেমনি দর্শকের সাড়িতে বসে খেলা উপভোগকারীর ভিতরেও থাকে আরেকটা যুদ্ধ জয়ের স্বপ্ন। ভারত-পাকিস্তান খেলা মানে টান টান উত্তেজনা। মানুষ তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে মিলাতে থাকে জয় পরাজয়ের হিসেব-নিকেশ। উভয় দেশের মানুষের মাঝে কাজ করে আরেকটা যুদ্ধ জয়ের উত্তেজনা।

আমেরিকার জন্ম শত্রু হিসেবে মনে করা হয় ইরানকে। বিশ্ব রাজনৈতিক সমীকরণে যদিও আমেরিকার কাছে ইরান একটি নাবালক বা ছোট রাষ্ট্র। আমেরিকার যেমন আছে অস্ত্র তেমন আছে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির শক্ত অবস্থান। তবে এই দুই দেশের মধ্যে ফুটবল খেলার সময় দেখা যায়, তারা একে অপরের প্রতি কতটুকু প্রতিশোধ পরায়ণ। খেলার মাঠে চলে খেলোয়ারের মধ্যকার এক প্রকার জয়-পরাজয়ের উত্তেজনার যুদ্ধ। তখন এই দুই দেশের মানুষের সাথে রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যস্থ হয়ে পড়ে বিশ্ব রাজনীতিবিদরা। চলে আরেক ধরনের যুদ্ধ।

১৯৬৫ সালের দিকে, আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার উপর নামাপ বোমার আঘাতের কথা হয়’ত আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে অজানাই থেকে গেছে। এক সময় জাপানের দ্বিপ ছিলো উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। আজ আলাদা আলাদা দুটি রাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিন কোরিয়াকে বিশ্ববাসী এক সময় ভাই রাষ্ট্র বলেও অবহিত করতো। আর এই ভাই রাষ্ট্র তথা দক্ষিণ কোরিয়ায় বসেই আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার হামলার প্ররিকল্পনা করে এবং নামাপ বোমায় জর্জরিত করে উত্তর কোরিয়াকে। ফলে, আজ উত্তর কোরিয়া সর্বস্ব ত্যাগ আর সর্বস্ব শক্তি প্রয়োগ করে পারমানবিক বোমা বানাতে সক্ষম হয়। পারমানবিক শক্তিধর দেশের সাথে নিজেদের শক্তির অবস্থানও পরিস্কার করে। আর এই দুই দেশের মাঝে অনুষ্ঠিত খেলাও বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খেলার মাঠে চলে যেন সেই পারমানবিক বোমা। অনেকেই বলে থাকে, আমেরিকা-উত্তর কোরিয়া’র মধ্যকার খেলা শুধু খেলা নয়, এ যেন পারমানবিক যুদ্ধক্ষেত্র।

১৯৬৬ সালের পর হাঙ্গেরির উল্লেখ্য যোগ্য তেমন কোনো রেকর্ড নেই। আর ফুটবল রাজ্যে জার্মানির কাছে পোল্যান্ড বা হাঙ্গেরি অনেকটা অপ্রাপ্তবয়স্ক বা দূর্বল। ১৯৩৯ সালে ঘটে যাওয়া এই দুই দেশের আছে তিক্ত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। এই দেশ দুইটি জার্মানির বিপক্ষে যখনই মাঠে নামবে তখনই ফিরে আসে সেই ১৯৩৯ এর বর্বরতার প্রতিচ্ছবি। খেলোয়ার, দর্শক, রাজনীতিবিদ সহ সকলের মাঝে শুরু হয় প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা। আর এ প্রতিশোধ নতুন নয়, প্রায় এক’শ বছর আগের ঘটে যাওয়া সেই রাজনীতির, যা মাঠে পর্যন্ত চলতে থাকে, চলতে থাকে আরেক ধরনের যুদ্ধ।

আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মাঝে একটা সময় ফকল্যান্ড দ্বিপ নিয়ে শুরু হয় রাজনীতি। অর্থনীতি, রাজনীতি, তর্ক-বিতর্ক, সব ধরনের সমীকরণ যখন ব্যর্থ হয়, তখন শেষ পরিনতি যুদ্ধ, রক্তক্ষরণ। আর এই ফকল্যান্ড দ্বিপ নিয়ে শেষমেশ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড জড়িয়ে পড়ে বুলেট আর বোমার আঘাতে রক্ত জড়ানো যুদ্ধে। সেই যুদ্ধে ইংল্যান্ড জয় চিনিয়ে আনলেও পুরোপুরি যুদ্ধ সেখানে বন্ধ হয়নি। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করে আরেক যুদ্ধের সূচনা করেন। ‘গড অব হ্যান্ড’ নিয়ে শুরু হয় বিশ্ব রাজনীতিতে আলোড়ন। এখনো ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনা খেলা মানেই সেই ফকল্যান্ড দ্বিপ যুদ্ধ। এখানেও চলে আরেক ধরনের যুদ্ধ।

আবার এই খেলা থেকে খেলোয়ার যখন একজন রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠে, তখন খেলা নিয়ে রাজনীতি আর রাজনীতি নিয়ে খেলা চলে আরেক ধরনের যুদ্ধ। বিশ্ব রাজনীতি অবলোকন করলে কষ্ট হবার কথা নয়।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কাঁদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান এর সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ’দের নড়েচড়ে বসিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বধীনতার পক্ষের মানুষদের মাঝে উত্তেজনাও সৃষ্টি করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ এ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম সহ ইমরান খান এর মন্তব্যে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের খেলোয়ারও বসে নেই। আজ অনেকে সংসদ সদস্যও হয়েছেন। প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের জনগণের। হয়’ত কোনো একদিন ইমরান খান এর মত করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও মন্তব্য করবে এই সব প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়ার। শুরু হবে আরেক ধরনের যুদ্ধ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেট দলের খেলোয়ারের সাথে সমন্বয়হীনতার কথা আমরা বেশ ভালো ভাবেই অবলোকন করেছি। দল ঘোষনা করা নিয়ে আমাদের টাইগার’স অধিনায়কও অভিমানী মন্তব্য করেছেন, অনেকে অভিমানও করেছে নতুন অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে।

এশিয়া কাপ এ বাংলাদেশ টাইগারদের একের পর এক পরাজয়ে, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা হতাশ হয়েছে, হতাশ হয়েছে খোদ টাইগার’স অধিনায়কও। আর তাই রাগে, অভিমানে টাইগারদের খেলা ছেড়ে দেওয়ার মত মন্তব্যও করেছেন অধিনায়ক মুশফিক।

এটা শুধু টাইগার’স অধিনায়ক মুশফিকুর রহমানের মন্তব্য যে তা নয়, ভার্চুয়াল জগত সার্চ করলে এমন অসংখ্য মন্তব্য পাওয়া যাবে। এশিয়া কাপ এর অর্জন নিয়ে সমীকরণ করলে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা হাতাশা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি, অর্জন করতে পারেনি খোদ টাইগার’রাও।

আর এই হতাশার জন্য অনেকে রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে উঠতে না উঠতেই শ্রীলংকার সাথে খেলা। এখানেও ভালো কোনো অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশের টাইগার’রা। দলের মধ্যে পরাজয়ের ক্লান্তি যেখানে ভাসমান, সেখানে আবার এশিয়া কাপ খেলা সত্যিই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আর সেটি প্রতিয়মান হয়েছে আফগানিস্তানের সাথে পরাজয় হবার মধ্য দিয়ে। খাটি বাঙালী বা বাংলা মা’র প্রকৃত সন্তান কখনই তাদের ৫২ কে ভূলতে পারবে না, অস্বীকার করতে পারবে না ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে। অসম্মান জানাবে না ৩০ লক্ষ শহীদ’কে, অশ্রদ্ধা জানাবে না ২ লক্ষেরও বেশী বীরাঙ্গনা মা-বোন’দের। বির্তকিত করবে না তাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে।

এবার দেখা যাক, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় খেলার সাথে রাজনীতি না রাজনীতির সাথে খেলা মিশে গিয়েছিলো। পাকিস্তান সরকারের সময়, রকিবুল হাসান গানস এ্যান্ড মুর ব্যাটে জয় বাংলা লেখা ও স্বাধীন বাংলা’র মানচিত্রে আঁকা স্টিকার নিয়ে খেলতে নামেন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য। যার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় রকিবুল হাসানকে হত্যা করার জন্য হুলিয়া জারি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুইজন লেখক, প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ ও ড. জাফর ইকবাল এর বাবা’কে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন একজন খেলোয়ার। অনেকেই বলে থাকেন, এই হত্যাকান্ডের জন্য পুরুস্কার স্বরূপ তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে আসিয়ান হন। চারপাশে লাশ আর লাশ। লাশের গন্ধে ভারি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পরিবেশ।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নী সংযোগের নানান দৃশ্য বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। যার ফলে, এপ্রিলের দিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাবেক এমপি মাইকেল বার্ন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই বর্বরতার প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ব্রিটেনে প্রবেশ বন্ধ করে দেন। ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা তখনই বুঝে গিয়েছিলো, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরতা, পাকিস্তান ক্রিকেট দল কোনো ভাবেই এড়াতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান ও তাদের সমর্থনকারী রাজাকার, আলবদর, আলসামস্ এর বর্বরতার প্রতিবাদে বিশ্ব জনমত তৈরি করার জন্য বসে ছিলো না খেলোয়ার’রা। চাঁদপুরের সাতারু অরুন নন্দী রায় ছিলো তাদের অন্যতম। ৮ই অক্টোবর কলকাতা কলেজ স্কোয়ার পুকুরে একটানা ৯০ ঘন্টা ৫ মিনিট সাতার কেটে বিশ্ববিখ্যাত সাতারু বি.সি মোরের ৮৮ ঘন্টা ৫৬ মিনিটের রেকর্ড ভঙ্গ করার ইতিহাস গড়েন। বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দেন, দেশপ্রেম শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে লাল করে একটি মানুষ, একটি জাতি অসাধ্যকে সাধন করতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাল-সবুজ এর পতাকায় বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়। আর এই চির শত্রু পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের খেলা, তা তো আরেকটা যুদ্ধেরই সামিল।

খেলা নামক এই যুদ্ধ অবলোকন করেছে কোটি কোটি বাঙ্গালীর সাথে পুরো বিশ্ববাসী। উত্তেজনা চারপাশে, চারদিকে। যেমন দর্শক গ্যালারিতে, তেমন টিভি পর্দায় চোখ রাখা কিশোর-যুবক-বৃদ্ধের মাঝেও। এ উত্তেজনা, ৭১’র জয়ের উত্তেজনা। আর এ চেতনা যে শুধু দর্শকের মাঝে ছিলো তা নয়, যেখানে আফগানিস্তানের সাথে হেরে টাইগার’স অধিনায়ক খেলা ছেড়ে দেওয়ার মন্তব্য প্রকাশ করেন, সেখানে চির শত্রু পাকিস্তানের সাথে নতুন রেকর্ড পর্যন্ত অর্জন করলেন। দেশপ্রেম এক অনন্য শক্তি, অনবদ্ধ ক্ষমতা। ৩২৬ নিয়ে ভার্চুয়াল জগতেও শুরু হয় সমীকরণ। ৩ = মার্চ, অগ্নীঝড়া স্বাধীনতার মাস। ২৬ = ২৬ শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবস। আর ৩২৬ = যুদ্ধাপরাধীদের জামিন অযোগ্য ধারা বলেও মন্তব্য করেন। আবার অনেকে ব্যস্থ থেকেছে রাজনৈতিক সমীকরণে। খেলার সাথে রাজনীতি, না রাজনীতির সাথে খেলা এই সমীকরণটি পাঠক হয়’ত নিজগুনে বুঝে নিতে সক্ষম হবেন। আমি মনেকরি, একে অপরকে ছাড়া কোনো কিছ্ইু অর্জন করা সক্ষম নয়।

কবীর চৌধুরী তন্ময় সাংবাদিক, কলামিষ্ট, ব্লগার, সংগঠক kabir_tanmoy@yahoo.com

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here