খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি তাদের প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি। খুলনায় সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এবং গাজীপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

গতকাল রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে গত রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থী সাক্ষাৎকার নিলেও দলটি প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। আজ-কালের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দুই প্রার্থীর নাম জানাতে পারে বিএনপি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র বিএনপির।

আগামী ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১২ এপ্রিল। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে ১৫-১৬ এপ্রিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ এপ্রিল।

আওয়ামী লীগ : খুলনা সিটি করপোরেশনের বিগত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তালুকদার আব্দুল খালেক। বর্তমানে তিনি বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত খালেক মেয়র থাকাকালে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় বিপুল উন্নয়ন করেন। ফলে পুরনো এ নেতার ওপরই আস্থা রাখল আওয়ামী লীগ।

তবে গাজীপুরে গতবারের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে আওয়ামী লীগ। ভূতপূর্ব টঙ্গী পৌরসভার কয়েকবার নির্বাচিত মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লাহ খান এবার মনোনয়ন পাননি। এখানে তরুণ নেতা ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর গতবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সেবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির পুরনো নেতা আজমতউল্লাহকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ।

শনিবার দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত খুলনা সিটি করপোরেশনে সাতজন আর গাজীপুরে ১০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেন। গতকাল সন্ধ্যায় সব মনোনয়নপ্রত্যাশীকেই গণভবনে ডাকা হয়। এ ছাড়া খুলনা ও গাজীপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা সিটিতে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল হক মিন্টু, খুলনা সদর থানা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানার সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী, খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিসুর রহমান পপলু ও খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি কাজী আলিমুদ্দিন, সহসভাপতি আব্দুর রব নয়ন, সহসভাপতি ওয়াজেদ উদ্দিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সুমন আহমেদ শান্ত বাবু এবং মহানগর তাঁতী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুল বারী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ড বিচার-বিশ্লেষণ করে গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলম ও খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেককে মনোনয়ন দিয়েছে।’

বিএনপি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডে হাজির হয়ে গতকাল মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী নেতারা সাক্ষাৎকার দেন।

বোর্ডে উপস্থিত সূত্রগুলো বলছে, আরো পর্যালোচনা করে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে প্রার্থী ঘোষণা করতে চায় বিএনপি। এ জন্য গতরাতে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেনি দলটি।

খুলনায় তিনজন ও গাজীপুরে সাতজন দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে গাজীপুরের মেয়র এম এ মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম দেশের বাইরে থাকায় সাক্ষাৎকারে অংশ নেননি। অন্যরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার তিনজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নেওয়া হয় গাজীপুরের ছয়জনের সাক্ষাৎকার।

মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন গাজীপুরের বর্তমান মেয়র ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসানউদ্দিন সরকার, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, জেলা বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, মেয়র আবদুল মান্নানের ছেলে এম মনঞ্জুরুল করিম রনি (বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন), জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরাফত হোসেন, জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাক শওকত হোসেন সরকার।

খুলনার যে তিনজন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বর্তমান মেয়র খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা।

সূত্রগুলো বলছে, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নতুন মুখ আসতে পারে বিএনপিতে। গাজীপুরে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান অসুস্থ। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী বদল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকারের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মেয়র মান্নানকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে খুলনায় বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে পরিবর্তন করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকেই চায় দলের হাইকমান্ড। এ জন্য তাঁকে এক দিন সময়ও দিয়েছে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য। তবে কোনো কারণে মঞ্জু নির্বাচন না করলে সে ক্ষেত্রে খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাও প্রার্থী হতে পারেন। তবে এখনো হাল ছাড়েননি মেয়র মনিরুজ্জামান।

সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি প্রার্থী হতে চাই না। মনিকে প্রার্থী করতে মত দিয়েছি। খুলনা মহানগর থেকেও মনির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।’ দল আপনাকে প্রার্থী করলে কী করবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বলা কঠিন।’

এদিকে গাজীপুরে বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান নির্বাচন করতে চাইলে তাঁর বিষয়টি দল প্রাধান্য দেবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here