z

ভাল নেই বেগম খালেদা জিয়া। নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা জানা গেছে। কি হয়েছে বেগম জিয়ার? শারীরিক, না মানসিক যন্ত্রনা- এমন অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। দলের কাউন্সিল দায়সারা করে সেরে যেন আরো বিপদে পড়েছেন। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারিণী হিসাবে ক্ষমতার সিন্দুক হতে এক একটি  করে পদ অবমুক্ত করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলে প্রভাব রাখা বিদগ্ধজন শফিক রেহমানের গ্রেফতার, রিমান্ড এবং নিজের ও পরিবারের মামলা চিন্তায় মন ভাল নেই তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর।

এদিকে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি কর্তৃক শফিক রেহমান ইস্যুতে বক্তব্য ভাবিয়ে তুলেছে বেগম খালেদা জিয়াকে। ইতোমধ্যে ডিবি পুলিশ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের হত্যা পরিকল্পনায় শফিক রেহমান নিজে, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ছাড়াও দলের আরো তিনজনের নাম বলেছেন শিফিক রেহমান। এতেই আরো চিন্তায় পড়ে গেছেন বেগম জিয়া।

অন্যদিকে ১৯ মার্চের কাউসিলে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে মন্দের ভালোর একটা ভীশন রাখার চেষ্টা করেছিলেন শফিক রেহমান, যা বেগম জিয়া ওই দিন বক্তব্য আকারে পেশ করেন। অর্থাৎ কাউন্সিলের ভাষনের পান্ডুলিপি ছিল শফিক রেহমানের নিজের করা। শফিক রেহমান তাঁর রিসার্চ টিম জি-৯ এর মাধ্যমে খানিকটা লেখাপড়া করে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি সম্পর্কে উন্নত চিন্তা করেছিলেন- যা বিএনপির রাজনীতিতে খুব বেশী দেখার সুযোগ নেই। এখন বিএনপির ওই ভীশন বা মিশনটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়লো বলে জানা গেছে। সেটিও বেগম জিয়াকে ভাবাচ্ছে- বেড়েছে তাই মনের কষ্টও। এখন আনঅফিসিয়ালি তাঁর নিজের কাছে এক ফরহাদ মজহার ছাড়া কোনো পর্যায়ের বিদগ্ধজন হাতে নেই। কিন্তু তাতেও সমস্যা আছে। প্রয়াত পিয়াস করীম মুলত জীবনের শেষভাগে ফরহাদ মজহার দের বিএনপিতে ভিড়িয়েছিলেন বলে কথিত আছে। সঙ্গত কারণে ফরহাদ নিজেও তাঁর অভিনব চিন্তাগুলোকে কাজে লাগানোর প্ল্যাটফর্ম ‘বিএনপি’ বলে বিশ্বাস করে না।

অপরদিকে বুদ্ধি বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গেলড়াই করতে চান বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম। যিনি মিডিয়াতে আসল বিএনপির নেতা হিসাবে আদৃত। কিন্তু নেতৃত্বের প্রশ্নে তাঁর সঙ্গে বেগম জিয়াদের যোজন যোজন দূরত্ব রয়েছে এবং বিএনপিতে নিকট সময়ের মধ্যেই পুনর্গঠন ইস্যুতে আবারো নতুন ঘটনার জন্ম হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কামরুল হাসান নাসিম।

বিএনপিতে ভাঙ্গা গড়ার কোনো কার্যত দৃশ্যমান কিছু না থাকলেও দলের অভ্যন্তরে থেকে একটি শ্রেণির সরকারের সঙ্গে আপোস ও বোঝাপড়ার রাজনীতি চলছে। সরকারও বেগম জিয়াকে চাপে রেখে ফায়দা লুটতে চায় বলে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেছেন, “ ম্যাডামকেই শেষমেশ হাসিনা সরকারে সাথে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।”

অন্যদিকে সাংবাদিক কাজী সিরাজ  বলেন, ইতোমধ্যেই একটা অদৃশ্য চুক্তি সরকারের সাথে বেগম খলেদা জিয়ার হয়েছে। সে কারনেই তিনি স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। হয়তো আগামী বছরে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়া হাসিনা সরকারের অধীনেই যাবেন। তা যদি বিরোধী দলের নেত্রী হয়েও হয়, তিনি যাবেন। এতে করে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারবে না ঠিকই কিন্তু দল টিকতে পারে।

এই প্রসঙ্গেই কামরুল হাসান নাসিম বলেছেন, আমার যদি সুযোগ থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার। তবে কেন বিরোধী দলের নেত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা করবো। এই সকল কারনেই বিএনপিতে নতুন জিয়া দরকার। দলের মধ্যে গনতন্ত্র প্রতিষ্টা করতে হবে। উন্নত ভীশন দাড় করিয়ে আমাদের দেশের ক্ষমতায়(সেবা) যেতে হবে। নিজেদের জন্য রাজনীতি করলে তো হবে না। মামলা থেকে মুক্তির জন্য বিএনপিকে বলি দেয়ার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। শফিক রেহমানেরা মান সম্মত বিদগ্ধজনও নয়। ঘাটতি তাঁদের রূপরেখাতেও আছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here