চুল তার কবেকার…

ঘটনা ২০১৩ সালের। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ঘোষণা করল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানালেন ‘সংবিধানের বাইরে এক চুলও নড়বে না সরকার।’ বেগম জিয়ার পাল্টা বক্তব্য এলো পরদিনই। ঘোষণা করলেন, ‘এমন আন্দোলন হবে যে, শেখ হাসিনার সব চুল উড়ে যাবে।’ ঘটনা বাক-যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতো, যদি না চুল বৃত্তান্ত অন্য কেউ না জানতো। বিএনপির এক লন্ডন প্রবাসী নেতাই এসময় গল্পটা জানালেন।

২০০১ সালে ওই নেতা বাংলাদেশে এলেন। বিএনপি বিরোধী দলে থাকলেও তাদের রমরমা অবস্থা। ক্ষমতার মৌ মৌ গন্ধ বিএনপির চারদিকে। লন্ডন প্রবাসী ওই নেতা দেশ থেকে আবার লন্ডনে ফিরে যাবেন। যাবার আগে বেগম জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলেন। বেগম জিয়াকে সালাম করলেন। একাই কিছুক্ষণ কথা বললেন। বিদায় নেবার সময় হঠাৎ বেগম জিয়া জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি লন্ডনে কবে যাচ্ছো?’ নেতা উত্তর দিলেন ‘কাল’। বেগম জিয়া বললেন ‘তুমি জেসমিনের সঙ্গে দেখা করে যেও।’ নেতা প্রথমে বুঝতে পারলেন না, জেসমিনটা কে? পরে বেগম জিয়ার একজন পার্সোনাল স্টাফ জানালেন, জেসমিন হলেন বেগম জিয়ার বিউটিশিয়ান। নেতা দ্রুত তাঁকে ফোন করলেন। রাতেই গুলশানে দেখা করলেন জেসমিনের সঙ্গে। জেসমিন জানালো, সামনে নির্বাচন ম্যাডামের জন্য কয়েক সেট চুল কিনে দ্রুতই পাঠাতে হবে। লন্ডন প্রবাসীতো খুশিতে আটখানা। ম্যাডামের চুল লাগবে আর সেটা তিনি কিনে দেবেন। নিজেকে খুব গর্বিত মনে হলো তাঁর।

লন্ডনে গেলেন, জেসমিন তাঁকে চুলের বিবরণ এবং দোকানের নাম ঠিকানা লিখে দিয়েছিলেন। লন্ডনে পৌঁছানোর পরদিনই বেচারা গেলেন অক্সফোর্ড স্ট্রিটে। লন্ডনে দীর্ঘদিন থাকেন, কাজেই দোকান পেতেও তাঁর তেমন দেরি হলো না। কাগজটা সেলস গার্লকে ধরিয়ে দিলেন। উল্লাসে যেন তিনি ফেটে পড়ছেন। বললেন, দ্রুত চার সেটই প্যাক করে দিতে। সেলস গার্ল জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি চার সেটই নেবে?’ ‘অফকোর্স’ বিএনপির প্রবাসী নেতা এক সেকেন্ডেই বলে ফেললেন। ‘এসো’ সেলস গার্ল তাঁকে নিয়ে গেলেন পেমেন্ট কাউন্টারে। তাঁকে জানানো হলো ডিসকাউন্টের পর একেকটা সেট চুলের দাম আট হাজার ৫০০ পাউন্ড। চার সেটের দাম দাম ৩৪ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশি টাকায় ৪৫ লাখ টাকা মাত্র। বেচারা নেতার তখন হার্টফেল করার দশা। আবার জিজ্ঞেস করলেন, নিশ্চিত হতে চাইলেন কোনো ভুল হচ্ছে কিনা। উওরে সেলস গার্ল জানালেন, এটার দাম আরও বেশি, এখন সামার সেল, এজন্য দাম কম। এগুলো মাথায় দিলে কেউ বুঝবে না যে পরচুলা। এগুলোকে কালার করাও যায়। বেচারা চুল না কিনে ফিরে এলেন।

তারপর লন্ডন বিএনপির শীর্ষ নেতাকে জানালেন ঘটনা। ওই নেতা ব্যাপারটা বুঝলেন। বললেন, ঠিক আছে ম্যাডামকে চুল আমি পাঠাচ্ছি, তোমার কিছু করতে হবে না। ভ্যাবাচ্যাকা ভদ্রলোক জানতে চাইলেন, এরকম কতগুলো সেট ম্যাডামের লাগে? উওরে ওই নেতা জানালেন, আমিই তো ৫০ সেট কিনে দিয়েছি। এবার ছোট নেতা সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এরপর আর কোনো দিন দেশে বিদেশে বিএনপির চারপাশে যাননি। ২০১৩ সালে শুধু বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার চুল অনেক শক্ত। খাম্বার মত।’

সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here