pmnews

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ঘরবাড়ি ছেড়ে নিজ অফিসে বসে হুকুম দিয়ে মানুষ হত্যা করছেন। তার হুকুমেই মানুষ হত্যা হচ্ছে। কাজেই হুকুমের আসামি করে তাকে আইনের আওতায় আনাই যুক্তিযুক্ত। আইন আপন গতিতে চলবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবে, তারাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এ বি তাজুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। মানুষ যখন একটু সুখে-শান্তিতে থাকছে, যখন সুখে থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখনই হঠাত্ করে কোনো ইস্যু ছাড়া খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা শুরু করেছেন। কথা নাই, বার্তা নেই- তিনি হঠাত্ মানুষকে পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে হত্যা শুরু করেছেন। অবরোধে এই পর্যন্ত ৩০-৩৫ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। কেন খালেদা জিয়া এভাবে মানুষ হত্যায় নেমেছে, এটিই আমার প্রশ্ন। নিরীহ ও খেটে খাওয়া মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এভাবে মানুষ হত্যা ইসলামও সমর্থন করে না।

চট্টগ্রাম-৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের এসকল পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ১৯৭১ সালের পাক সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। এটা কোন রাজনীতি? এরকম কাজে যারা লিপ্ত তারা কী মানুষ? জনগণের জানমাল রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব সরকারের। আমরা পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োগ করে এসকল সন্ত্রাস ও নাশকত দমনের চেষ্টা করছি। সন্ত্রাসীদের যেখানে পাওয়া যাবে ধরে পুলিশে সোপর্দ করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নাশকতার পূর্ব তথ্য সরবরাহ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করতেও আহ্বান জানান তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বদা তত্পর। বিএনপি-জামায়াত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভীত হয়ে দেশে নাশকতামূলক কাজ এবং অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের কোনো সমর্থন না পেয়ে তারা আরও নাশকতামূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিএনপি-জামায়াত অত্যন্ত বিবেক বর্জিতভাবে যাত্রীবাহী বাসে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করছে, কোথাও যাত্রীবাহী গাড়িতে গান-পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। নারী, শিশুসহ নিরীহ সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করছে। সম্প্রতি একজন গর্ভবতী নারী তাদের নাশকতার শিকার হয়েছেন, তার শরীরে অধিকাংশ জায়গা পুড়ে গেছে এবং গর্ভের শিশুটি মারা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ-বিজিবি’র বিশেষ পাহারায় বাস ও ট্রাক চালানো, রেললাইন পাহারা দেয়ার জন্য আনসার নিয়োগসহ নাশকতা মোকাবেলায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছে সরকার। এতদসত্ত্বেও চোরাগোপ্তা নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত। তিনি জানান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে দমনের উদ্দেশে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা, রংপুর ও গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠন এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিগগিরই দেশ দীর্ঘমেয়াদীভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে

পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ৬ বছর মেয়াদী ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি)’ নিয়েছে। উক্ত পরিকল্পনায় মোট ১২টি খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তন্মধ্যে কৃষি উন্নয়নমূলক ৬টি খাত রয়েছে। যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ও পরিকল্পিত পদক্ষেপসমূহ যথাযথভাবে কার্যকর করার ফলে আশা করা যায়, দেশ শিগগিরই দীর্ঘমেয়াদীভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে।  তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করেছে। ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে ২০-৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশে বর্তমানে খাদ্যশস্যের (চাল ও গম) মোট চাহিদার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ মেট্রিক টন। এই চাহিদার মধ্যে চাল প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ মেট্রিক টন এবং গম প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here