জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

এটি ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৩৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ৮ ফেব্রুয়ারি সাজার আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে তিনি নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে রয়েছেন।

এ মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চার আসামি হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক রয়েছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

পাশাপাশি ছয় আসামিকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

দুদকের মামলা : ২০০৮ সালের ৩ জুলাই
অভিযোগপত্র : ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট
অভিযোগ গঠন : ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ
আসামির সংখ্যা : ছয়জন
সাক্ষ্য গ্রহণ : ৩২ জন সাক্ষীর
যুক্তিতর্ক শেষ : ২৫ জানুয়ারি
বিচারের সময় : ২৩৬ কার্যদিবস
যুক্তিতর্ক শুনানি : ১৬ কার্যদিবস
রায় ঘোষণা : ৮ ফেব্রুয়ারি

এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এ মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে পরস্পর যোগসাজশে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২.৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে, যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন, যার জন্য তিনি দায়ী। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ করেছেন।

শেয়ার করুন
  • 5
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here