K-H-Nasim-

ফখরুল হাসান:

কবি, সাংবাদিক, গবেষক, লেখক, নেতা, সংগঠক, দার্শনিক – বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কামরুল হাসান নাসিমের নামটি বোধহয় সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত নাম। বিএনপির ক্রান্তিকালীন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন মুখপাত্র হিসেবে। তিনি সফল হবেন কিনা এ প্রশ্ন অনেকের। তাই চেষ্টা করেছি এর উত্তর খুঁজে পাওয়ার।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নামটি অনেকেরই পরিচিত। কারো চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রয়োজন, কারও রক্তের প্রয়োজন, কোথাও শীতার্তদের জন্য কম্বল দেয়া হবে, অকারণে পুলিশী হয়রানি শিকার – এমন যেকোনো সাহায্যের জন্য যখনই কেউ সহায়তা চেয়েছে, এগিয়ে এসেছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান নাসিম।

দুর্নীতি ও অপকর্মের ও দু:শাসনের বিরুদ্ধে, কপট ভণ্ডদের মুখোশ খুলে দিতে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপাত্ত নিয়ে আবির্ভুত হয়েছেন জননেতা ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান নাসিম।

একজন কবি শ্বাসত ধারাকেই অবলম্বন করেন। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে স্পর্শ করে। কবি নাসিম শুধু লেখনীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি, এগিয়ে এসেছেন সশরীরে, নেমেছেন মাঠে।

তিনি কিভাবে বিএনপির নেতৃত্বে এলেন!

জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নাসিমের। কিন্তু কখনো অস্বীকার করেননি বঙ্গবন্ধুর অবদান। রাজনীতি করেছেন কৃষকদের উন্নয়নে। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলকে সারা দেশের তৃণমূলে প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি যার সুফল হিসেবে কৃষকদল সভাপতি মির্জা ফখরুল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন।
নির্বাচনে তার আসনে দলের মনোনয়ন জামায়াত প্রার্থীকে দেয়া হলেও দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন।

বিএনপি যখন দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঢেলে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে ও জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় তখন থেকেই তিনি বিএনপিকে সুষ্ঠু রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দেন। তারেক রহমান যখন দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচারে লিপ্ত হয় তখন প্রতিবাদী হয়ে উঠেন বিপ্লবী নাসিম। তার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি নিজেকে বিএনপির ক্রান্তিকালীন মুখপাত্র ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন ২ ফেব্রয়ারী পর্যন্ত। খালেদা তার এ প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তিনি খালেদা ও তারেককে বাদ দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন।

তিনি কি পারবেন?


বিএনপির নেতাকর্মীদের মতামত যাচাই, কাঙ্খিত সাফল্য ও জনমত যাচাই করেই বিএনপির নেতৃত্ব দিতে ও শহীদ জিয়ার আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। বিএনপির শীর্ষ তিন নেতাসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষক দলের একটি অংশ নিয়ে তিনি যাত্রা করছেন। অসংখ্য ভক্ত, অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা পাশে থেকে প্রেরণা যোগাচ্ছে তাকে। দলীয় কর্মকাণ্ড শুরু হলে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপিই হবে মূল ধারার সংগঠন।
একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে বিএনপির অনেক নীতিগত সিন্ধান্ত ও অর্জনে নাসিমের অপরিসীম ভূমিকা আছে। জিয়ার সন্তান হওয়া ছাড়া তারেক কোন যোগ্যতায় ভবিষ্যত বিএনপির নেতা হতে চেয়েছিল? অগণতান্ত্রিক ধারা থেকে মুক্ত হতে নাসিম যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা শুধুমাত্র দেশের জনগণের স্বার্থে। পরিমাপ করলে তার যোগ্যতার সমতূল্য খালেদা বা তারেক নয়। সমালোচনা করে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে বলতে হবে কোন যোগ্যতায় খালেদা বা তারেক যোগ্য এবং নাসিম অযোগ্য!

বিএনপির আত্মঘাতি কর্মকাণ্ডে জিয়া পরিণত হয়েছে একজন খলনায়কে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত দালাল নেতাদের পরামর্শে চলা খালেদা-তারেক নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে সুস্থ ধারায় এনে জনমুখী রাজনীতি করার লক্ষেই নাসিম এগিয়ে যাচ্ছেন। তার স্বপ্নটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার। তাই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তি মাত্রই তার বিএনপিতে যোগদান করবে। সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমরা যদি এগিয়ে না আসি তাহলে অপমৃত্যু হবে একটি স্বপ্নের ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here