বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে কানাডার নোভা স্কোশিয়া প্রদেশের রাজধানীর হালিফাক্স শহরে এ বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য এক দিনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়েছে। এ সেবার আওতায় মেশিন রিডাবল পার্সপোর্ট (এমআরপি), জন্ম নিবন্ধন সনদ ও পার্সপোর্ট নবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

৩০ জানুয়ারিতে এ উপলক্ষ্যে বরফস্নাত দিনের বৈরী আবহাওয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী সেবা গ্রহণ করেন। আগত প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই ধরনের একটা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুদূর অটোয়া থেকে আসা কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজানুর রহমান, কাউন্সিলর শাখাওয়াত হোসাইন, কনসুলার অ্যাসিস্ট্যান্ট কামাল হোসাইন এবং যাকির হোসাইনকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিল হালিফাক্স এর ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন অব নোভা স্কোশিয়া (বিডিসিএএনএস)।

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হোটেল ডেল্টা বারিংটনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সন্ধায় বিডিসিএএনএস এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা।

উক্ত সভায় হালিফাক্স এ বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ছোটদের স্কুল ইত্যাদি বিষয়ের এর উপর অডিও-ভিডিও প্রেজেন্টেশন, ডকুমেন্টারি এবং হালিফাক্স এর স্টুডেন্ট দের নিয়ে প্রবাস জীবনের উপর একটা ছোট নাটিকা দেখানো হয়। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রদর্শনী উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে এসে হাই কমিশনার মিজানুর রহমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সকল শিল্পী, কলা-কুশলী এবং হাই কমিশনের সহকর্মীগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

 

শুরুতেই ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মহান মুক্তযুদ্ধ ও ৭৫-এর কালো রাতে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যগণসহ সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হাই কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, এটি আনন্দের বিষয় যে আজ কানাডায় উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষাও অন্তর্ভৃক্ত হয়েছে। এই কানাডারই হালিফাক্স এ বিডিসিএএনএস-এর অধীনে পরিচালিত স্কুল এ বাংলা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এবং বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে যাবার জন্য বাংলা ভাষার শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ বাঙালি কমিউনিটিকে তিনি বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস, ১৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ এবং ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের বিশেষ দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক ও নানামুখী অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদান এবং এর প্রসার চলমান রয়েছে, যার অন্যতম অংশীদার কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীগণ।

প্রবাসে শিশুদের বাংলা ভাষা চর্চায় অধিকতর উৎসাহ প্রদান এবং বাংলা ভাষা শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি অভিভাবকদের বিশেষ অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের হাই কমিশনার বর্তমান বাংলাদেশের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরতে নিষ্ঠার সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

তিনি ঘাতক নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের মুখোমুখী করতে সরকারের সংকল্পের আলোকে মিশনের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং বলেন, এই ভয়াবহ খুনীকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ হাই কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এ লক্ষ্যে তিনি সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি কানাডার জনপ্রতিনিধিদের উপর চাপ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্ববান জানান। তিনি বলেন, আপনারা অটোয়াসহ সমগ্র কানাডা প্রবাসী হাজার হাজার বাংলাদেশীরা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এ খুনীর বিরূদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করুন এবং তাকে কানাডা থেকে বহিস্কার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে আইনী সংশোঘনের জন্য আপনাদের এমপিদের সমর্থন আদায়ের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখুন।

তিনি বলন, বন্ধুপ্রতীম দুই রাষ্ট্র বাংলাদেশ-কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।

সম্প্রতি টরন্টো, ক্যালগেরি, অ্যাডমন্টন ও সাস্কাটুনে, নিউ ব্রান্সওয়িক সফরে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীকে কনস্যুলার সেবা দেবার কথা উল্লেখ করে পর্যায়ক্রমে সবগুলো প্রদেশে এবং সবকটি বড় শহরেই কনসুলার সেবা সম্প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তিনি প্রবাসীদের কাছে অনুরোধ করেন যেন কানাডিয়ান আইটি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন সফটওয়ার মেলাতে আংশগ্রহণ করেন সেই ব্যপারে উদ্যোগ নিতে। পাশাপাশি গার্মেন্টস, ঔষধ, চামড়া, হিমায়িত দ্রব্যগুলোর চাহিদার কথা উল্লেখ করেন।

 

 

প্রবাসীদের কল্যাণার্থে দূতাবাসের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কানাডার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী অধ্যূষিত শহর টরন্টোতে একটি কনসুলেট খোলার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার।

দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে বলেন, তাদের কল্যাণে বাংলাদেশ দূতাবাস দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

কাউন্সিলর শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে পরিচয় দেবার মতো একটি দেশ। আমরা গর্বিত যে আমরা বাঙালি। বাংলাদেশ আজ ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সোনালি ভবিষ্যতের পানে এগিয়ে চলেছে।

তিনি উপস্থিত সকলকে বাংলাদেশ এর উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরতে অনুরোধ করে কানাডার রাজধানী অটোয়াতে বাংলাদেশের হাই কমিশন থেকে সীমিত লোকবল নিয়ে লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীকে আপ্রাণ সেবা দেবার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষে আগত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে সেবা কার্যক্রম।

এই ধরনের একটি সেবা মূলক কাজের জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য হালিফাক্স এর ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন অফ নোভা স্কোশিয়া’-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে পুরষ্কার দিয়ে উৎসাহ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন
  • 30
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here