হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ, দেশের দুইশ’ শীর্ষ আলেম-ওলামা ও মুফতি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টি, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষকবৃন্দ ও নাস্তিক মুরতাদ নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ পৃথক বিবৃতিতে বলেছেন, আরো এক দফা ডিগবাজির মাধ্যমে তথাকথিত সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে দেশের লাখ লাখ আলেম-ওলামার সাথে প্রতারণা এবং শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছেন এইচএম এরশাদ। এরশাদ আবারো প্রমাণ করলেন তাকে নিয়ে কোনো ‘পূর্ব ধারণা’ সম্ভব নয় এবং তিনি নাস্তিক্যবাদী অপশক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হয়েই আছেন।

বিবৃতিদাতাগণ বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজনের কৃতিত্ব দাবি, শাপলা চত্বরে শহীদদের জন্য মায়াকান্না এবং লাখ লাখ মুসল্লীকে শরবত পান করানো থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর কাছ থেকে দোয়া নিতে আসা পর্যন্ত তার সামপ্রতিক সব আচরণ ছিল ভাওতাবাজি। তিনি আওয়ামী লীগের গৃহপালিত বিরোধী দল হওয়ার খায়েশে আবার তাদেরকে ক্ষমতায় আনার প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের পথ সুগম করতে তত্পর হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের লক্ষ লক্ষ নবীপ্রেমিক মানুষের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হলেন। দেশপ্রেমিক মুসলমানরা যেকোনো মূল্যে হাসিনা-এরশাদের এই জোটকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করবে।

শীর্ষ আলেম ওলামাদের বিবৃতিতে বলা হয়, যে সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে, যারা আগামীতে ক্ষমতায় এলে ধর্মের ছায়াটুকু মুছে ফেলার হুঙ্কার দিচ্ছে, যারা আল্লাহ, রাসুল (সা.), কুরআন এবং শরীয়তের ফরজ বিধান পর্দাকে কটাক্ষ করে- তাদের সাথে আঁতাত করে এরশাদ জাতীয় বেঈমানে পরিণত হয়েছেন।

বিবৃতিদাতা আলেম ওলামাদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা মুফতি নাজিবুল হক, মাওলানা মুফতি আবদুল কাদের, মাওলানা হিফজুর রহমান, মাওলানা মুফতি এনায়েতুল্লাহ, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা জিয়াউল হক, মাওলানা মিসবাহুদ্দিন, মাওলানা ইদরিস, মাওলানা মামুনুল হকসহ দুইশতাধিক ইসলামী আইনবিদ ও কওমী মাদ্রাসা শিক্ষক।

এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠন কোনো নাস্তিক্যবাদী অপশক্তির সহায়ক হবে না। শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানের এ দেশে আল্লাহ পাকের মহান রাসুলের (সা.) সাথে যারা বেয়াদবি করেছে সেই কুলাঙ্গারদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের সহযোগিতা হয় এমন কোনো তত্পরতার সাথে হেফাজতে ইসলাম কখনো জড়িত হবে না।

অপর এক বিবৃতিতে নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম বলেন, যে অপশক্তির হাত হাজারো আলেম, হাফেজ ও নবীপ্রেমিকের রক্তে রঞ্জিত। যাদের অপশাসনে আজ দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সেই অপশক্তির সাথে নেজামে ইসলাম পার্টি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আঁতাত করবে না।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী ইত্তেফাককে বলেন, সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিয়ে এইচএম এরশাদ জাতির সাথে ‘ডিজিটাল বেঈমানী’ করেছেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনে গিয়েছিলেন। এবার সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিয়ে এরশাদ হাসিনাকে ৮৬’র প্রতিদান দিলেন। তিনি আরো বলেন, নাস্তিক মুরতাদদের পক্ষ নিয়ে যারা শত শত আলেম ওলামাকে হত্যা করেছে, মসজিদ মাদ্রাসা ও ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের সমুচিত জবাব দেবে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ইত্তেফাককে বলেন, এইচএম এরশাদ আল্লামা শফীর সাথে দেখা করে ইসলাম বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় আনার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহূত হবেন না এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মসজিদে আজান দেয়া বন্ধ হবে, এমন কথা বলার পর নাস্তিক্যবাদী শক্তিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। এরশাদকে একসময় ‘বিশ্ববেহায়া’ আখ্যা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এরশাদ আবার সেই বিশ্ববেহায়ার চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাস্তিক-মুরতাদ নির্মূল কমিটি বাংলাদেশ নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, এরশাদ কয়েকদিন আগেও বলেছিলেন, মহাজোট সরকারের সাথে তিনি বেহেশতেও যেতে রাজি নন। হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমীরকেও স্পষ্ট বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে তবে দেশের সকল মসজিদে আজান দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে, দেশে অনাচার-ব্যভিচারসহ ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চালু হবে। অথচ আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এমন উক্তির কয়েক ঘণ্টা পরেই এরশাদ কী করে নাস্তিক্যবাদের সহায়কের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান নিলেন। হেফাজতের আন্দোলন ও শাপলা চত্বর নিয়ে এত দিন এরশাদের মুখে ইসলামের পক্ষে বুলি আওড়াতে দেখা গেলেও দিল্লীর টাকা পেয়ে এরশাদ রাতারাতি দিক পরিবর্তন করেছেন। দিল্লীর বস্তাভরা টাকা নিয়ে এরশাদ এখন রাম ও বামের এজেন্টের ভূমিকায় নেমেছেন।

বিবৃতিতে নাস্তিক-মুরতাদ নির্মূল কমিটির নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের বিশ্বাসভঙ্গের দাঁতভাঙ্গা জবাব এরশাদকে ভোগ করতেই হবে। এরশাদের নিজের স্বীকারোক্তি মতেও জীবনের সায়াহ্নে এসে তাকে এখন জনগণের থুথু খেতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন নাস্তিক মুরতাদ নির্মূল কমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মহাসচিব মাওলানা মুনির আহমদ, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট সাদেক উল্লাহ প্রমুখ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here