kazi zafarজাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, এইচএম এরশাদ জাপাকে এক বিশ্বাসঘাতক ও গণধিকৃত পার্টি হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে এবং জাপার অধিকাংশ নেতৃবৃন্দেকে না জানিয়ে কিছু সুবিধাবাদী নেতাকে তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীত্বে আসীন করেছেন। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পার্টির আগের অবস্থানের বিপরীত এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

মন্ত্রিসভায় যোগদানকারী নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করতে সর্বাত্মক আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য জাপা নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে কাজী জাফর বলেন, জাপার কয়েকজন নেতা আকস্মিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে তথাকথিত নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় শুধু আমি নই, সমগ্র জাতি হতভম্ব ও স্তম্ভিত। জাপার লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী আজ এ ঘটনায় চরমভাবে অপমানিত ও আশাহত। নিদারুন মনকষ্টে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কাজী জাফর বলেন, জাপার যারা তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করেছেন নিজ নিজ এলাকার জনগণ তাদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে। রাতারাতি ভোল পাল্টে নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নেয়ায় এরশাদকে নিয়ে নানারকম ব্যঙ্গবিদ্রুপ এবং সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে এরশাদকে থুথু মারার জন্য আহবান জানানো হচ্ছে। আমি মনে করি শুধু এরশাদের নয়, এটা সমগ্র জাপার জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর। এরশাদের এহেন লজ্জাজনক এবং গণবিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা তলানীতে এসে ঠেকেছে। তাই নীলনকশার নির্বাচন করে পার পাবার জন্য প্রধান বিরোধী জোটকে বাইরে রেখে একটা প্রহসনমূলক নির্বাচন করার জন্য তারা আজ মরিয়া।

কাজী জাফর বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের বর্তমান রক্তাক্ত সংঘাত ও সংকটের একমাত্র সমাধানের পথ হলো প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here