জনতার নিউজঃ- ডেস্ক রিপোর্ট:

Earshad sathiজিনাত মোশাররফ কিংবা বিদিশা নন এবার সাথী নামের ২০ বছরের এক তরুণীর প্রেমে বিভোর হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজের ছেলে এরিকের বান্ধবী বলে সাথীকে পরিচয় করাচ্ছেন ৮৭ বছর বয়সী সাবেক এই সেনাপ্রধান। বনানীর নিজ বুটিক শপের মডেলও বানিয়েছেন সাথীকে।
বুটিক শপে গত শনি ও রবিবার গিয়ে দেখা গেছে, দোকানের সামনে ও পাশে সাথীর বড় বড় দু’টি ছবি রয়েছে। আর সুযোগ পেলেই গুলশান ক্লাবসহ অভিজাত রেস্তোরাঁয় তাকে নিয়ে খাচ্ছেন। এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরার একটি মডেল এজেন্সির মডেল সাথী। বয়স উনিশ বা কুঁড়ি বছর। স্মার্ট ও সুন্দরী। এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে তার অবাধ যাতায়াত। ফেসবুকেও তার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলাবলি শুরু করছেন, এরশাদ কি আবার নতুন প্রণয়ে মজলেন। নাকি অন্য কিছু! নারীঘটিত নানা স্ক্যান্ডালের পরও প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদকে ছেড়ে যাননি। তবে বসবাস করছেন আলাদা। এরশাদ থাকেন বারিধারায় প্রেসিডেন্ট পার্কে। আর রওশন থাকেন গুলশান- ২ এ। এখন  প্রশ্ন হচ্ছে  এরশাদ কার রওশনের না সাথীর ?

এদিকে এক সময় এরশাদ মেরি মমতাজকে বিয়ে করলেও তাদের ঘর বাঁধা হয়নি। বান্ধবী জিনাত মোশাররফকে এরশাদ বিয়ে করেছিলেন বলেও জোর গুঞ্জন ছিল। তবে তারা কেউ তখন স্বীকার করেননি।

এরপর মেধাবী ছাত্রী বিদিশাকে বিয়ে করেন এরশাদ। তাদের ঘরে জন্ম হয় এরিকের। প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ও দলে প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদও দিয়েছিলেন বিদিশাকে। চারদলীয় জোট সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ এনে এরশাদ তাকে ডিভোর্স দেন। পাশাপাশি নির্যাতন ও হয়রানিও করেন বলে সে সময় অভিযোগ করেছিলেন বিদিশা।
অসংখ্য নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে এরশাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তার দলের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে নানা মুখরোচক আলোচনা। এ সব সম্পর্কে জড়াতে সহযোগিতা করে জাতীয় পার্টির অনেক নেতা ভাগ্যের চাকা বদলে নিয়েছেন। অনেকে দলের প্রেসিডিয়াম পদসহ পদোন্নতি পেয়েছেন।
এরশাদ কখনও কখনও এ সব বিষয় এড়িয়ে গেছেন। কখনও মুচকি হেসে স্বীকার করে নিয়েছেন। এবার নতুন করে আলোচনায় সাথী।

কে এই সাথী

উত্তরার এক মডেলিং এজেন্সির মডেল সাথী। বনানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ অর্থনীতিতে পড়াশোনা করছেন। থাকেন গুলশানে। তিনি বলেন, টাকা পয়সার জন্য নয়, কোনো রেফারেন্স পেলে বা সাবজেক্ট ভাল লাগলে মডেলিং করি।

বছর খানেক আগে গুলশানে এরিকের জন্মদিনে জাপার এরশাদ অংশের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক এরশাদের সঙ্গে সাথীর পরিচয় করিয়ে দেন। আতিক এখন জাতীয় পার্টির কাজী জাফর অংশে রয়েছেন। এরপর মাকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদের বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে যাতায়াত শুরু করেন সাথী। বিষয়টি জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতার চোখে পড়ে। এভাবেই সাথীর সঙ্গে এরশাদ গভীর প্রণয়ে জড়িয়ে পড়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে সাথীও এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। বনানীর বাংলাদেশ ইউএই শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় এরশাদের মালিকানাধীন দোকানের মডেল হয়েছেন। তার আবদারেই দোকানটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে বুটিক লাইম লাইট।

এর আগে বুটিক শপটি এরশাদের সাবেক বান্ধবী বিদিশার নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিদিশার সঙ্গে এরশাদের ডিভোর্স হওয়ার পর দোকানটি কিছুদিন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এইচএম গোলাম রেজার হাতে ছিল। গোলাম রেজাও কাজী জাফরের অংশে চলে গেছেন।

বুটিক শপে এখন শোভা পাচ্ছে সাথীর মডেলিং স্টাইলে তোলা বড় বড় দুটি ছবি।
এরশাদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি কক্সবাজার ভ্রমণে যান এরশাদ। সঙ্গে ছিলেন সাথী। এ ছাড়া গত ১৫ মে থেকে ১৭ মে ব্যক্তিগত সফরে মৌলভীবাজার যান এরশাদ। ওঠেন একটি রিসোর্টে। সেখানেও তার সঙ্গে সাথী ছিলেন বলে এরশাদের দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
এ সব বিষয়ে নিয়ে কথা বলতে চাইলে সাথী বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে তো আমি কিছুই বলব না।’
আপনার সঙ্গে এরশাদের পরিচয় কিভাবে জানতে চাইলে সাথী আবারও বলেন, ‘এ সব বিষয় নিয়ে আমি কিছু বলব না।’
এরশাদের দোকানে আপনার ছবি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে সাথী বলেন, ‘ছবি থাকতেই পারে।’
এরশাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কি জানতে চাইলে প্রথমে বলতে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ‘আই এম ফ্রম রংপুর। হি ইজ মাই রিলেটিভ। আমার বাবা উনার চাচাতো ভাই। আর কিছু বলতে পারব না।’

এ বিষয় মুঠোফোনে জানতে চাইলে এরশাদ ফোন ধরেন। কোনো কথা না বলেই রেখে দেন মুঠোফোন।
গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রমতে, ‘এরশাদ সাহেবের বাসায় সাথী প্রায়ই আসেন। তার বুটিক হাউজের অনেক সুন্দরী কর্মচারীও আসেন।’
এরশাদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ‘ব’ আদ্যক্ষরের একজন নারী বলেন, ‘এরশাদ আসলে সিক। তাই এই বয়সেও (৮৭) এ সব সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।’ দ্য রিপোর্ট

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here