newনোয়াখালী প্রতিনিধিঃ জনতার নিউজঃ

৩০/০৪/২০১৪ইং বিকাল ৪টায় নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নোয়াখালীর সদর উপজেলার সভাপতি মফিজুর রহমানের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এক প্রতিসভা অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত প্রতিবাদ সভায় সিপিবি ছাড়া ও সকল বাম সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন । সভায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা সিপিবির সভাপতি মুজিবর রহমান, বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা কমিনিষ্ট পাটির নেতা ও ৯০ স্বৈরাচর বিরোধী আন্দোলনের আহবায়ক জনাব আ.ন.ম. জাহের সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা উক্ত ঘটনার ত্রীব নিন্দা, নোয়াখালী জেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তার , নিহত কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নোয়াখালীর সদর উপজেলার সভাপতি মফিজুর রহমানের অবিলম্বে গ্রেফতার ও সব্বোচ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান । উল্লেখ্য নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের আল আমিন বাজার রাস্তার মাথা এলাকার একটি ধান ক্ষেত থেকে গলা ও দুই হাতের রগ কাটা অবস্থায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নোয়াখালীর সদর উপজেলার সভাপতি মফিজুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার এবং আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। নিহত (সিপিবি নেতা মফিজুর রহমান (৬০) জেলার হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের আফাজিয়া গ্রামের রহমত উল্লার ছেলে। তিনি জেলা শহর মাইজদীর খন্দকার পাড়ার খন্দকার মঞ্জিলে ভাড়া থাকতেন। তিনি ২ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক। নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, রবিবার দুপুরে খাওয়ার পর মফিজুর রহমান বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে সারাদিনে তিনি আর বাড়ী ফিরেননি। সন্ধ্যার পরে তিনি তার নাতির সাথে মোবাইলে কথা বলেন কিন্তু কোথায় ছিলেন তা বলেননি। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল কবির মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের আল আমিন বাজার রাস্তার মাথা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ধান ক্ষেতের মধ্যে একটি মৃতদেহ দেখতে পায় পথচারীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে। আজ সোমবার সকালে নিহতের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ওসি জানান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার বা উক্ত হত্যাকারীদের সনাক্ত করার কাজে কোন অগ্রগতি পাওয়া যায়নি । ইতিপূর্বে কবিরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব হানিফ মেম্বার তার নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন । উক্ত মামলাটি জেলা পুলিশ সুপার কবিরহাট থানা থেকে সহকারী পুলিশ সুপার ও তার নিজ তত্ত্বাবধানে ডিবির মাধ্যমে মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন । কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি । উক্ত ঘটনার কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজার কমিটির ২৮ বছর ধরে দায়িত্বরত নির্বাচিত সভাপতি, ১৮ বছর নির্বাচিত ওয়ার্ড মেম্বার দুইবার চাপরাশির হাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ বর্তমান এবং এর আগে দুইবার চাপরাশির হাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দায়িত্ব-পালনকারী সফল সভাপতির বাড়িতে সশস্ত্র হামলায় জনাব আবু বকর সিদ্দীক মানিক মেম্বার, তার স্ত্রী আয়েশা বেগম, বড় ছেলে ছায়দুল হক, মেজ ছেলে আবু নাছের চৌধুরী, ছোট ছেলে ও চাপরাশির হাট ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ ফরিদ গুরুতর আশংকাজনক অবস্থায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিৎকিসাধীন রয়েছেন । তার একমাত্র মেয়েকে ও মারার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা তার নিজ কক্ষে যায় কিন্তু মেয়েটি ঘটনা টের পেয়ে তার রুমের দরজা ভেতর থেকে কড়া দিয়ে ও ভারী আসবাব দিয়ে বদ্ধ করে রাখে, তারপর সন্ত্রাসীরা তার দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে, তখন চাপরাশির হাট ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার আপন ছোট ভাই শেখ ফরিদ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সন্ত্রাসীরা তাকে উপযুপুরি কোপায় । ঘটনার সময় চিৎকারে এলাকার লোকজন বেরিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ধান ক্ষেত দিয়ে পলায়ন করেন । সৌভাগ্যক্রমে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী ওসি কবিরহাট থানার পিক-আপ নিয়ে টহলে ছিলেন, শোরগোল শুনে ঐ এলাকার দায়িত্বে পুলিশের সাব-ইনসপেক্টারকে ফোন দেন । ঐ সাবইনসপেক্টার তখন থানায় দায়িত্ব-রত ছিলেন । তার বাসা সংগঠিত ঘটনাস্থলের পাশে হওয়ায় তৎক্ষণাৎ তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করে ঘটনা জানতে পারেন এবং ওসিকে অবহিত করেন । ওসি ফোস এর জন্য অপেক্ষা না করে তার সাথে বডিগাডের অস্ত্রটি নিজে নিয়ে বডিগাডকে একটি লাঠি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হন । পথিমধ্যে লাঠি হাতে এলাকার উত্তেজিত কিছু জনতাকে পুলিশ পিক-আপে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান । আহতদের শারীরিক অবস্থা দেখে সবাইকে পুলিশ পিক-আপে নিয়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করান । তখন বড় ছেলে ছায়েদুল হকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে আশংকাজনক ছিল পুরো শরীরে মারাত্মক জখমসহ পিঠে এবং বুকে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলির স্প্রিটার বিদ্ধ ছিল । ওসি কবিরহাট আহতদের হাসপাতালে না পৌঁছালে রক্তক্ষরণেই তিন থেকে চারজনের মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক বিষয় ছিল । ঐ মামলাটি ও তদন্তনাধীন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি । এভাবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক নেতাদের আর কত রক্ত ঝরবে নোয়াখালী জেলায় । সরকারের করনীয় কি কিছুই নেই ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিজ হাতে রাখায় যে আশাবাদ জন্ম নিয়েছে তা কি এ জেলায় বিলীন হয়ে যাবে???

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here