J News

এবার টার্গেট পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতা

আশুলিয়ার ঘটনাস্থলে পুলিশ

এবার পুলিশকে টার্গেট করা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গাবতলী ও আশুলিয়ায় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হলো। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র মাঠে নেমেছে। এর জন্য ঢালা হয়েছে বিপুল টাকা। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিদেশি নাগরিক, পুলিশ হত্যা ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতারাও আছেন তালিকায়। গোয়েন্দারা এও নিশ্চিত হয়েছেন, একজন সাবেক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক দলের ৪ জন সদস্য বিনা পাসপোর্টে স্থল সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি ভারতে গিয়েছিলেন। পরে তারা ফিরেও এসেছেন। সেখানকার কোনো গোষ্ঠীকে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর উপকণ্ঠে আশুলিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত ও চার জন আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় তারা উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গুলি করে এই হামলা চালায়। এর ঠিক ১২ দিন আগে গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে পুলিশের এক এএসআই নিহত হন। তবে এই হামলার ঘটনার সময় এক দুর্বৃত্তকে ধরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু ওই দুর্বৃত্তের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য বের করা যায়নি।

পুলিশ সদর দফতর থেকে কয়েক দফায় মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়ে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের পোশাকের কথাও বলা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবরের ঘটনার পর পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, চেকপোস্টে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে তাদের হেলমেট ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট গায়ে থাকতে হবে। কিন্তু আশুলিয়ার ঘটনায় পুলিশের গায়ে কোনো জ্যাকেট ছিল না। এমনকি মাথায় হেলমেটও ছিল না। গতকালকের এই ঘটনার পর পুলিশ সদর দফতর থেকে ফের একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বারবার বলার পরও দেখা যাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্টে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। এখন থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি ও মেট্রোপলিটন এলাকায় উপ-কমিশনারদের জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ঢাকায় ইতালির নাগরিক হত্যার পরই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিদেশি নাগরিক হত্যা, পুলিশ হত্যা, এমনকি আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে হত্যা করা হতে পারে। এসব অপতত্পরতার অংশ হিসেবে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে সাবেক একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে অন্তত ৪ জন রাজনৈতিক নেতা বিনা পাসপোর্টে ভারতে যান। সেখানে তারা বর্তমান সরকার বিরোধী গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব হামলার ঘটনায় ওই রাজনৈতিক গ্রুপটির কোনো প্রভাব আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

এদিকে সরকার বিরোধী অপতত্পরতায় দুজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ টাকা দিচ্ছেন। এই টাকার পরিমাণ ৬০০ কোটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। সরকার বিরোধী অপতত্পরতার এই গ্রুপে বিএনপি আমলে আলোচিত হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্ট এক নেতাও আছেন; যিনি বর্তমান সরকার ক্ষমতার আসার পর আওয়ামী লীগে চলে এসেছিলেন। কিছুদিন আগে গোয়েন্দারা তার ব্যাপারে তথ্য দিলে ওই নেতা আবার আগের রাজনৈতিক পরিচয়ে ফিরে যান। তিনি এখন ওই অপতত্পরতায় বড় ভূমিকা রাখছেন বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here