playজিয়াউর রহমান সিঙ্গেল নিয়ে দলীয় স্কোর ৫৯ রানে নিয়ে যেতেই গ্যালারি জুড়ে হালকা করতালির শব্দ শোনা গেল!

না, কোনো প্রাপ্তির জন্য এই করতালি নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ৫৮ রানের কেলেঙ্কারির স্মৃতি এড়াতে পারার জন্য স্বস্তির করতালি। অবশ্য এই স্বস্তি খুব বেশিক্ষণ টেকসই হল না; কেলেঙ্কারি আসলে এড়ানো গেল না। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরও একবার ১০০ রানের নিচে, ৯৮ রানে অলআউট হয়ে লজ্জায় পুড়লো বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে গতকাল ৭৩ রানের এক পরাজয় দিয়ে শুরু হল বাংলাদেশের সুপার টেনের খেলা।

২০১১ সালে এই ঢাকাতেই ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অলআউট হয়েছিল ৭৮ রানে। তারপর দুনিয়া অনেক বদলে গেছে। সাকিবকে বদলে মুশফিককে অধিনায়ক করা হয়েছে, ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ একটার পর একটা ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। তবে বিশ্বকাপ ভাগ্যের বদল হয়নি।

আগের ম্যাচেই হংকংয়ের বিপক্ষে ১০৮ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হারের লজ্জা মিলিয়ে যেতে না যেতেই মুশফিকরা গতকাল ১৭২ রান তাড়া করতে গিয়ে উপহার দিলেন এই লজ্জা।

টি-টোয়েন্টিতে ১৭২ এমন কিছু অকল্পনীয় লক্ষ্য নয়। প্রথম ওভারে এনামুল হক বিজয়ের দুটি চার এবং দ্বিতীয় ওভারে তামিম ইকবালের একটি চার; শুরুটা অন্তত খারাপ হয়নি রান তাড়া করতে গিয়ে। কিন্তু এখান থেকেই মাত্র ৬টি বলের মধ্যে ৩টি উইকেট হারিয়ে একেবারে হাবুডুবু খেতে থাকে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্যামুয়েল বদ্রীর একেবারে সহজ শিকার হয়ে ফেরেন তামিম। আর পরের ওভার করতে এসে প্রথম দুই বলেই এনামুল ও সাকিবকে তুলে নেন সান্তোকি। এরপর আর জয়ের আশাটা করাও কঠিন ছিল।

মুমিনুল ও মুশফিক এখান থেকে একটা ভালো জুটি করে অন্তত মান বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন; কিন্তু ১৬ রান করা মুমিনুলকে ফেরান সুনীল নারিন। আর পরের ওভারে এসেই বদ্রী আসলে ঠিক করে দেন ম্যাচের ভাগ্য। এক ওভারেই তুলে নেন সাব্বির, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর উইকেট। সবমিলিয়ে ১৫ রান দিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট নিয়ে এই লেগস্পিনারই নায়ক হয়ে গেলেন। ৫৯ রানে এই ৭ উইকেট হারানোর পর ম্যাচে তখন শুধু আনুষ্ঠানিকতাই বাকি থাকলো।

সেই আনুষ্ঠানিকতার পথে মাশরাফির ১৭ বলে ১৯ রান একটু সান্ত্বনার প্রলেপ হয়ে এলো; তবে লজ্জাটা এড়াতে পারলো না।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দারুণ শুরুটা এনে দেন তাদের দুই ওপেনার। ক্রিস গেইল থাকার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দানবীয় আকারটা ধারণ করেছিলেন আরেক ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ। ৪৩ বলে স্মিথের ৭২ রানে উড়ন্ত সূচনা পেয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। উল্টো দিকে একেবারে নিশ্চুপ ক্রিস গেইল। ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে চার মারার আগ পর্যন্ত এই ব্যাটিং দানবের রান ছিল ৩৮ বলে ২৬ মাত্র!

উদ্বোধনী জুটিতে গেইল কতোটা চুপচাপ ছিলেন, তার প্রমাণ পরিসংখ্যানেই আছে। ১১.৫ ওভারে এই জুটি ৮.১৯ গড়ে ৯৭ রান তুললো; এর মধ্যে ৭২ রানই স্মিথের এবং গেইলের সংগ্রহ মাত্র ১৯! গেইল অবশ্য পরে এই ক্ষতিপূরণ করে দিলেন খানিকটা। নিজের শেষ ১২ বলে ২২ রান তুলে ৪৮ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন জিয়ার প্রথম ওভারে এবং ইনিংসের ১৯তম ওভারে এসে। ততোক্ষণে আসলে বাংলাদেশের যা ক্ষতি হওয়ার অনেকটাই হয়ে গেছে। স্মিথ-গেইলের এই দুটি ইনিংসের সঙ্গে স্যামির ৫ বলে ১৪ রানে ১৯ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় সংগ্রহের দিকে চললো।

তবে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও খেলায় ফিরে এলো ইনিংসের শেষ ওভারে। আল আমিনের এই ওভারে নিজে তুলে নিলেন ৩টি উইকেট এবং একটি রান আউট হল। সবমিলিয়ে আল আমিনের এই শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪ রান তুলতে পারলো। ফলে দানবীয় হতে যাওয়া স্কোরটা হঠাত্ করেই যেন ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭১ রানে থমকে গেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

টস: বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৭১/৭ (ডোয়াইন স্মিথ ৭২, ক্রিস গেইল ৪৮, মারলন স্যামুয়েলস ১৮, ড্যারেন স্যামি ১৪*, অতিরিক্ত ১৯; আল আমিন ৩/২৩, সাকিব আল হাসান ১/২১, জিয়াউর রহমান ১/১৬, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১/২৭, মাশরাফি বিন মুর্তজা ০/২৫)।

বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ৯৮/১০ (মুশফিকুর রহিম ২২, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১৯, মুমিনুল হক ১৬, সোহাগ গাজী ১১*; স্যামুয়েল বদ্রি ৪/১৫, ক্রিশমার সান্তোকি ৩/১৭, সুনীল নারিন ১/১৭, আন্দ্রে রাসেল ১/১০)।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৩ রানে জয়ী।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here