new

‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলা-দেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের ঘোষণা দেয়া হয়। এর উদ্যোক্তারা জোটের শরিক হিসেবে ১০টি দলের নাম ঘোষণা করেছেন। তবে দু’একটি ছাড়া বাকি সবই নামসর্বস্ব দল।  কার্যত: সভাপতি বা চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব বা সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে হাতেগোনা লোকের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নবগঠিত এই জোটের অধিকাংশ দল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) একাংশের চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু এনডিএফের চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) একাংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

যে ১০টি দল নিয়ে এই জোট গঠন করা হয়েছে, এরমধ্যে এনপিপি, এনডিপি, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগ নামে চারটি দল এখনও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে। এই চারটি দল থেকে কয়েকজন নেতা বের হয়ে একই নামে নতুন দলের ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থাত্ ২০ দলে থাকা এনপিপি, এনডিপি, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগেরই ভগ্নাংশ এরা। এর মধ্যে শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বে এনপিপি, আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে এনডিপি, জোবাইদা কাদের ও আতিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও আব্দুর রশিদ প্রধানের নেতৃত্বে ইসলামিক পার্টি থেকে কিছু লোক বের হয়ে এসে একই নামে নতুন দল ঘোষণা করেছেন। এছাড়া নতুন জোটের শরিক দল শেখ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ-ভাসানী পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই ২০ দল থেকে বেরিয়ে আসে।

এনডিএফের অন্য পাঁচ শরিক দল হলো- জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল-জাগো দল (মালেক), লেবার পার্টি (সেকান্দর আলী), ইনসাফ পার্টি (শহীদ চৌধুরী), তৃণমূল ন্যাপ ভাসানী ও ভাসানী ফ্রন্ট (মমতাজ চৌধুরী)। তবে এনডিএফের শরিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র নিলুর এনপিপি ছাড়া আর কারোরই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন নেই। তবে এনপিপি’র যে নিবন্ধন রয়েছে সেটিও দাবি করছেন ২০ দলে থাকা এনপিপি’র অপর অংশের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।  তিনি জানান, তিনি যখন অখণ্ড এনপিপি’র মহাসচিব ছিলেন, তখন দলের নিবন্ধন তার নামেই হয়েছে।

নতুন জোট সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, লোভে পড়ে কিছু লোক নিজেদের দল ছেড়ে গেলেও এতে ২০ দলে কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, এরা আদর্শচ্যুত। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই রাজনীতির মূল সে াত থেকে বিলীন হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে শওকত হোসেন নিলু দাবি করেন, তারা এই জোটকে বিএনপির জোটের বিকল্প মনে করছেন না। কিন্তু তারা দেশ পরিচালনা করতে চান। এটি তাদের নির্বাচনী জোট। তারা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেবেন। বিএনপি জোট ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদলীয় স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে কেউ কেউ জোট ছেড়েছে। বিএনপির অনেক ভুল ছিল। এ কারণেও অনেকে জোট ছেড়েছে। নিলু বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খালেদা জিয়া গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সে কারণেই তিনি এলোমেলো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এদিকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, সরকারের একটি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় ২০ দলীয় জোট থেকে কিছু লোককে বের করে নিয়ে আলাদা জোট করা হচ্ছে। নতুন জোট গঠনে সরকারি সংস্থার হাত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে নিলু বলেন, ‘এ ধরনের কিছু আমার জানা নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের ঘোষণাপত্র ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মহাসচিব আলমগীর মজুমদার। এছাড়া মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোবাইদা কাদের চৌধুরী ও মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক ও মহাসচিব হাসরত খান ভাসানী, জাগো দলের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চৌধুরী ও মহাসচিব মিজানুর রহমান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি ও মহাসচিব আখতার হোসেন, ইসলামিক পার্টির একাংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এ রশীদ প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এনায়েত হোসেন, এনডিপির একাংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার ও মহাসচিব আলী নুর মোহাম্মদ খান সাজু, এনপিপির একাংশের মহাসচিব আব্দুল হাই মন্ডল, ভাসানী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মমতাজ চৌধুরী, ইনসাফ পার্টির শহীদ চৌধুরী, তৃণমূল ন্যাপের চেয়ারম্যান পারভিন নাসের সুলতানা ও সদস্য সচিব হিসেবে পরশ ভাসানীকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here