সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামীর জিম্মিদশা থেকে লিজা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ আড়াই বছরের আটক অবস্থা থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গৃহবধূর মা নাজমিন বেগম মামলা করেছেন। পুলিশ গৃহবধূর স্বামী পলাতক জাকিরুল ইসলাম খোকনকে আটকের চেষ্টা করছে।
 
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি পাইনাদী এলাকার জাকিরুলের সাথে ৮ বছর আগে পিরোজপুর জেলা সদরের মধ্য রাস্তা এলাকার লিজার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই জাকিরুল লিজাকে ঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন করতে থাকে। তিন তলা বিশিষ্ট বাড়িতে লিজার উপর নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় স্বামী জাকিরুল। দীর্ঘ আড়াই বছর মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে বৃহস্পতিবার পিরোজপুর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আসেন লিজার মা। 
 
লিজার মা নাজমিন বেগম জানান, দীর্ঘদিন মেয়ের কোন খোঁজ পাই না। মেয়েকে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মেয়ের জামাইও ফোন রিসিভ করে না। মেয়ের খোঁজে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকায় মেয়ের বাড়িতে গিয়ে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পাই। এরপর অনেক ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে যাই। তিনি বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করতে বলেন। পরে পুলিশ এসে ঘরের তালা ভেঙে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে।
 
নির্যাতিতা গৃহবধূ লিজা আক্তার জানান, ‘৮ বছর আগে প্রতারণা করে জাকিরুল আমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর জানতে পারি সে আরো কয়েকটি বিয়ে করেছে। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে সে আমার উপর অত্যাচার শুরু করে এবং আমাকে কোন সন্তান নিতে দেয় নাই। গত আড়াই বছর যাবৎ সে আমার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি সকলের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ সময় প্রতিনিয়ত সে নেশা করতো এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আমার উপর অত্যাচার করতো। এমনকি বাহিরের বন্ধুদের নিয়ে এসে বাড়িতে নেশার আড্ডা জমাতো। আমি বাধা দিলে আমার সারা শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিতো এবং মারধর করতো। এমনকি আমি যাতে পালিয়ে যেতে না পারি সেজন্য বাড়ির প্রত্যেকটি কক্ষ এবং কেচি গেটে বিদ্যুতের লাইন লাগিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতো। শত চেষ্টা করেও তার অত্যাচার থেকে রেহাই পাইনি।’
 
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মো. ইব্রাহিম পাটোয়ারী জানান, লিজার মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাকিরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় গেটে তিনটি তালা রয়েছে। তালাগুলো বিদ্যুতায়িত করা। এরপর বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে তালা ভেঙে গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করি।
শেয়ার করুন
  • 13
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here