J News
বিএনপি তুমি কার

প্রথমে নিজেকে ‘বিএনপির সংকটকালীন মুখপাত্র’ হিসেবে দাবি করা সেই কামরুল হাসান নাসিম এখন নিজের পরিচয় হিসেবে বলছেন ‘বিএনপি পুনর্গঠনের নেতা’। গত ২ জানুয়ারির পর গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দফায় নাসিমের কিছু অনুসারী ‘দলীয় বিপ্লবের মহড়া’ লেখা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। আগেরবারের মত গতকালও বিএনপি-ছাত্রদলের কর্মিরা তাদের গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিলে আসল বি,এন,পির লোকেরা সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপ পরিহার করে চলে যায়।

শুধু কামরুল হাসান নাসিম-ই নন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও বিএনপি সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ব্যারিস্টার নামজুল হুদাও ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে নতুন সংগঠন খুলেছেন। তিনিও বলছেন বিএনপিকে জিয়ার আদর্শে ফিরিয়ে নেয়ার কথা। মাঝখানে জিয়াউর রহমানের ভাই কামাল আহমেদও ‘জিয়া পরিবারের সদস্য’দের জন্য একটি মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেন। সেখানেও বিএনপিকে জিয়াউর রহমানের আদর্শে ফিরিয়ে নেয়ার কথা ওঠে। দল ছেড়ে অভিন্ন কথা বলেছেন বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান সমশের মবিন চৌধুরীও। বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মাঝে-মধ্যেই বিচ্ছিন্ন এসব কাণ্ডকারখানায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন ‘বিএনপি তুমি আসল না নকল ? আসলে তুমি কার?’

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে এবং হবে।’

গতকাল বিকাল পৌনে চারটার দিকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে কামরুল হাসান নাসিমের কিছু কর্মী-অনুসারী মিছিল নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে আসছিলেন। মিছিলটি আনন্দভবন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিপরীত দিক থেকে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। নাসিমের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনায় নাসিম আজ সোমবার বেলা ২টা ১৭ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।

কামরুল হাসান নাসিম টেলিফোনে জনতার নিউজকে বলেন, “কিছু মিডিয়া আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করছে। আমি কখনও বলিনি ‘আসল বিএনপি’। এটি স্রেফ মিডিয়ার সৃষ্টি। আমি নিজেকে বিএনপি পুনর্গঠনের নেতা হিসেবে মনে করি। আমি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার কথাও কখনও বলিনি। বরং আমি সবসময়ই খালেদা-তারেক পন্থি।’ তার দাবি, তিনি নতুন কোনো বিএনপি বা সংগঠন করতে আসেননি, বিএনপিকে পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন মাত্র। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ‘রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে’ গতকাল তাদের নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে গিয়েছিলেন শুধু প্রচারে জন্য কার্যালয় দখলের জন্য নয় তবে যেদিন দখল করতে যাবেন সেদিন কারো ক্ষমতা থাকবে না তার, তথা জিয়ার আসল কর্মিদের তাড়িয়ে দেওয়া্‌র জনাব নাসিম আরো বলেন আমরা আপাতর মহড়া দিচ্ছি মাত্র আর ঘটনা অবলোকন করছি, তারা যদি বার বার এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে থাকেন তাহলে জিয়ার আদর্শের সকল নেতা কর্মিদের নিয়ে ও আমি নিজে নেতৃত্ব দিয়ে কার্যালয় থেকে বি,এন,পি ধংস কারি সকলকে বেড় করে দিয়ে অফিসে বসে বি,এন,পি কে পুর্ণগঠন করা হবে।

 

নয়াপল্টন যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নাসিম বলেন, ‘গত ২৬ নভেম্বর জনতার নিম্ন আদালত দুটি রায় দিয়েছিল। একটি হলো বিএনপির গঠনতন্ত্র স্থগিত, আরেকটি হলো নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনতার উচ্চ আদালত বসবে। সেখানে বিচারক হিসেবে থাকবেন বিএনপির গত ২০ বছরে যারা কাউন্সিলর ছিলেন তারা।

এই ঘটনার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বস্তির কিছু টোকাই দিয়ে সরকার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছে। বস্তির কিছু লোক নিয়ে এসে মিছিল করিয়ে সরকার প্রমাণ করতে চায় এরা বিএনপির একটি অংশ। অথচ সরকার বিএনপিকে শান্তিতে মিছিল-মিটিং করতে দেয় না। সরকার হীনমন্যতা থেকে এসব কাজ করছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here