মোমিনুলের ১৮১ রানের নজরকাড়া ইনিংস, সোহাগ গাজীর ইতিহাস গড়া অলরাউন্ড রেকর্ডের সুবাদে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়ার পর এখন বাংলাদেশ দলের সামনে ঢাকায় আরো ভাল কিছু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ। যদিও ছয় মাস পর টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েই ভাল নৈপুণ্য দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আকরাম খান মনে করেন, নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে পাঁচদিনের ক্রিকেটে আরও উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও চট্টগ্রাম টেস্টে স্বাগতিক ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন বাংলাদেশ আগের থেকে টেস্টে অনেক ভাল খেলছে। এই বছর আমরা সব মিলিয়ে ছয়টি টেস্ট খেলতে পারবো। এভাবে ভাল খেলতে পারলে আশা করি সামনে আমরা আরও ভাল খেলতে পারবো। ইনশাআল্লাহ, সুযোগ পেলে সেটা আমরা কাজে লাগাবো।’

বিশ্ব টেস্ট র্যাংকিংয়ে সবার নিচে থাকা বাংলাদেশ দল ২০১৩ সালে এ পর্যন্ত পাঁচটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে একটিতে জিতলেও হেরেছে দুটিতে। এছাড়া ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। শ্রীলংকার গলে গত মার্চে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬৩৮ রান করেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। চলতি বছরে এক ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ দলীয় রান যা কিনা টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। তাই মোটা দাগে টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের গ্রাফটা এখন উপরের দিকে।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তিনটি দলীয় সংগ্রহের মধ্যে দুটিই হয়েছে এই বছর। গলের পর সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম টেস্টে নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৫০১ রান করে স্বাগতিকরা। এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানও খুব বেশি আগের কথা না। এই গত নভেম্বরেই মিরপুর স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৫৬ রান করে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও এসেছে উন্নতি। বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংসও এসেছে চলতি বছরেই। গল টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। একই ইনিংসে ১৯ রানের ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সাত টেস্টে ৩৪ উইকেট নিয়ে আবির্ভূত হলেন সোহাগ গাজী। জিম্বাবুয়ের মাটিতে দুই টেস্টে ১৫ উইকেট নিয়ে নিজেকে নতুন করে চেনালেন পেসার রবিউল ইসলাম। তাই, সামপ্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান বিবেচনায় টেস্টে এগিয়েই যাচ্ছে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম টেস্ট সেই এগিয়ে যাওয়ায় নতুন একটা অধ্যায় যোগ করলো মাত্র। সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক আকরাম খান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা অনেক ভাল খেলেছি। ছেলেরা রান পেয়েছে, চমত্কার খেলেছে সবাই। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে আমরা লিড নিতে পেরেছি। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর বোলাররা অনেক ভাল করেছে। সার্বিকভাবে আমরা আগের থেকে অনেক উন্নতি করেছি।’

পেসার রবিউল ইসলামও একই কথা বলেন, ‘নি:সন্দেহে আমাদের পারফরম্যান্স অনেক ভাল ছিল। ব্যাটিংয়ে ভাল করেছি। বোলিংয়ে পেসাররা ভাল করতে না পারলেও স্পিনাররা ভাল করেছে। ফিল্ডিং ভাল হয়েছে।’ এবার সেই উন্নতি ধরে রাখার পালা। ঈদ উল আজহা’র ছুটির পর ২৫ অক্টোবর থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টিতে সেই সুযোগ মিলবে মুশফিক বাহিনীর। গত শনিবার ইতিহাসে নাম লেখানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে সোহাগ গাজীও বলেছিলেন, ‘এই ম্যাচ এখানেই শেষ। সামনের ম্যাচে আরও ভাল করতে হবে।’

এখন দেখার পালা বাংলাদেশ দল ক্রমোন্নতির এ ধারাটি মিরপুরেও করে দেখাতে পারে কিনা।khela

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here