image_89075
‘আমরা কোন রাজনীতি করি না। রাজনীতি নিয়ে চিন্তাও করি না। আমাদের প্রতিদিন ভাবতে হয় আগামী দিন কী খাব। আমার মা কী অপরাধ করেছিলেন যে তাকে বোমা মেরে হত্যা করতে হবে? আর এ কাজ যারা করেছে তারা মানুষ নয়, পশুর চেয়েও খারাপ। তবে তাদের বিচার কে করবে? আমাদের কথাও তো কেউ শুনবে না। তাই মা হত্যার বিচার দিলাম আল্লাহর কাছে’—এ কথাগুলো রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অবরোধকারীদের নিক্ষিপ্ত ককটেলে নিহত ব্যাংক কর্মচারী আনোয়ারা বেগমের (৫৫) মেয়ে নাসিমা বেগমের। গতকাল বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে মায়ের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে এ ঘটনায় গতকাল দিলু ও স্বপন নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খিলগাঁও থানা পুলিশ চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক মালিবাগ শাখার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (রাঁধুনীর কাজ করতেন) আনোয়ারা বেগম। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট সদর থানার গোটাপাড়া। স্বামী মৃত দেলোয়ার কাজী। তিনি দুই ছেলে এক মেয়ের জননী। খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানে তিনি একা থাকতেন। দুই ছেলে থাকেন গ্রামের বাড়িতে। মেয়ে নাসিমা বেগম বিবাহিতা, বাসা যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায়।

আনোয়ারা বেগমের ভাগ্নে আব্দুন সোবহান জানান, আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ সতের বছর ধরে ন্যাশনাল ব্যাংক মালিবাগ শাখায় রাঁধুনীর কাজ করতেন। তিনি বেতন পেতেন মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা। বাসা ভাড়া দিতেন ১২’শ টাকা। দুই ছেলে গ্রামে কৃষিকাজ করেন। অফিস শেষে নিয়মিত হেঁটেই বাসায় ফিরতেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার পৌনে চারটার দিকে বাসায় ফেরার পথে খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকার সিটি কর্পোরেশনের সামনে পৌঁছান। এ সময় গলিপথ থেকে কয়েক যুবক ককটেল নিক্ষেপ করলে তিনি মারাত্মক আহত হন। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ভোর চারটার দিকে তিনি মারা যান। গতকাল বিকালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, আনোয়ারা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দিলু ও স্বপন নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল চারদিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। এছাড়া গতকাল খিলগাঁও এলাকায় বোমা নিক্ষেপকালে আনোয়ার ও তৌফিক নামে দুই যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের সাজা দিয়েছে।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লেগুনা চালক

পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ লেগুনা চালক মোজাম্মেল হোসেন (১৯)। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশংকাজনক। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় কয়েক যুবক তার লেগুনা লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোঁড়ে। এতে মোজাম্মেল অগ্নিদগ্ধ হন। তার শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে যায়। মোজাম্মেলের বাসা খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া বটতলায়। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নাগরিয়া। পিতা মৃত আরজু মিয়া।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here