latifnewsমেহেদী হাসানঃ-

 

আচ্ছা, আওয়ামী লীগ বলে নিজের দলের নেতারও সমালোচনা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে , কিন্তু অন্য দল হলে কি তা সম্ভব হতো ?? আসুন দেখি জামায়াতের আতিনেতা পাতিনেতারা বা ছাগুরা হুলো-বিড়াল নেতাদের কেমন করে প্রশ্রয় দিত : ধরুন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী জামায়াতের নেতা , তার যুক্তরাস্ট্রো বক্তব্যের রেশ ধরে জামায়াতের কর্মীরা তা ইসলামের আলোকে বলে কিভাবে মিথ্যা ব্যাখ্যা দিত :
১. আব্দুল্লাহর বেটা মুহাম্মাদ << জামায়াত বলত, আসলে জামায়াতের সিনিয়র নেতা আল্লামা আব্দুল লতিফ সাহেব ঠিকই বলেছেন । কারণ, মুহাম্মাদ যে মানুষের ছেলে , তিনি ঈশ্বর নোন তা উনার বক্তব্যে পরিস্কার হয়েছে । আল্লাহ পাক হযরত ঈসা (আ) কে বার বার ‘ঈসা ইবনে মারিয়ম’ বলেছেন । তাকে মরিয়মের পুত্র ঈসা বলার কারণ হল তিনি মানুষ এটাই প্রমাণ করা অবশ্যই তিনি খোদার পুত্র নয় , সেটার সাথে মিল রেখে আমাদের নবীকেও আমাদের আলা হযরত আব্দুল সিদ্দিকী লতিফ সাহেব আবদুল্লাহ বেটা মুহাম্মাদ বলেছেন যা আরবিতে ‘মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ’ বলেছেন । এটা সম্পূর্ণ শরিয়ত সম্মত । জয়েজ ……..
২. হজ করতে এত লোকের যাওয়ার কি দরকার < জামায়াতের ব্যাখ্যা , আসলে আমাদের নেতা জনাব মওলানা লতিফ (র অত্যন্ত সঠিক ও নেক কথা বলেছেন । কারণ, হজ্ব শুধু ধনিদের জন্য , আমাদের দেশে গরিব মানুষ জমি বিক্রি করে হজ্ব যায় । এতে দেশের ক্ষতি ইসলামের ক্ষতি । কারণ, রসূল (সা) বলেছেন ‘ সেই ব্যক্তি আমার কাছে প্রিয় যে নিজের পরিবারের প্রতি দয়ালু’ .. জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে হজ্ব করে পরিবারকে পথে বসানোর কোন মানে হয়না । যে হাজিরা এটা করে তারা মানবতার শত্রু ।
৩. তোমরা ক্যামলা কাজ করতে এসেছ , রাজনীতি করার কি দরকার ? .. জামায়াতের ব্যাখ্যা: আসলে আমাদের নেতা ঠিক বলেছেন । ইসলামে ইতিহাসে আছে, খলিফার শাসন আমলে একজন প্রদেশের গভর্ণরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে খলিফার কাছে এল, আর খলীফা তাকে কতল করল । কেননা, হুকমত মানা ফরজ । তাই কোন সমালোচনা বা রাজনীতি করা কারো জায়েজ নেই শুধু রাজনীতিবীদরাই করতে পারে । … আর ক্যামলাদের ক্যামলা মনে করে থাকাটাই উত্তম ।কেননা, রসূল বলেছেন ‘তোমরা যদি সুখি হতে চাও তবে নিজেদের চেয়ে নিচু মানুষদের দিকে তাকাও উপরের দিকে নয় ।
৪. ১ লক্ষ টাকার নিচে আমি চান্দা নিইনা < জামায়াতের ব্যাখ্যা … আসলে চান্দা হল ‘জিহাদে ফি ছাবিলিল্লাহ’র কুপন দ্বারা গৃহীত মাসিক হাদিয়া সরূপ । এটা দ্বারা হযরত লতিফ ইবনে সিদ্দিকী সাহেব নিজের হিসাবটা খুব পরিস্কার করেছেন । এমন স্বচ্ছতা কেবল জামায়াতের নেতাদের দ্বারাই সম্ভব ।
৫. তাবলীগ জামাতের কোন কাজ নেই এরা শুধু শুধ খায় আর জানজোট সৃষ্টি করে< জামায়াতের মন্তব্য …. আসলে আমাদের নেতা ঠিকই বলেছেন । উনি একজন ভাষাসৈনিক, জেহাদী মানুষ । উনিই তুলে ধরেছেন বেদাত কি জিনিস । তাবলীগ একটি বেদাতি সংগঠন , আমরা জামায়াতে ইসলামী এতবড় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থাকতে তাদের মত সন্যাসী সংগঠনের কি দরকার ? দেশে ইসলামী আইন না থাকলে মসজিদে মসজিদে ধর্ণা দিয়ে কি ইসলাম কায়েম হবে ? তারা মসজিদে ঢুকে খাবার খায়, ঘুমায় , খুব সমস্যা । রাতে যদি মসজিদে স্বপ্নদোষ হয়ে যায় তবে মসজিদকে অপবিত্রতা থেকে কে আটকাবে ? আর তারা যেভাবে মোনাজাত করে এটা শরীয়তের দৃষ্টতে সম্পূর্ণ বেদাত ।

 

আমাদের দেশে একজনকে আল্লামা খিতাব দেয়া হয়েছে । আপনারা জেনেছেন ত আল্লামা শব্দের অর্থ কি ??

ফরহাঙ্গ-এ-রাব্বানী উর্দূ থেকে বের করা অর্থে যা জানলাম , আর এ নিয়ে যা ডকুমেন্ট দেখলাম তার প্রক্ষিতে আলোচনা করছি :
আল্লামা শব্দের মূল আরবী লিখনী হল علامح
যা ‘আইন’ শব্দ দ্বারা শুরু , মাখরাজের উচ্চারণে গলায় বিশেষ ভঙ্গিমা প্রয়োজন , এর সঠিক উচ্চারণ হবে ‘অলামা’ । অথবা ‘অল্লামাহ’ । কিন্তু কোনভাবেই ‘আলিফের’ বা ‘হামজার’ উচ্চারণ করা যাবেনা । ইংরেজিতে ALLAMA লিখা হয়ে থাকে , তবে আরাবিয়ান ও উর্দূভাষীরা এর উচ্চারণ ভাল বুঝেন । তাদের ভাষার বর্ণ যে আরবি বা পাশতু । আমরা বাঙালী যদি সরাসরি আল্লামা বলি তবে গুনাহ হবে । তারা দুইবার এল (L) লিখলেও উচ্চারণ এক ‘এল’ এর কে বলে ‘অলামা’ বা এখানে লা এর পর টান হবে । যা হোক । এটি লিখা বা উচ্চারণ সঠিক না জানলে তবে কাউকে না ডাকাই ভাল । কেননা, আল্লামা বলতে গিয়ে যদি কেউ ‘ আল্লা-মা’ বলে , তবে অর্থ দ্বারাবে ‘আল্লাহ নেই’ বা ‘ আল্লাহ না’ !! ….স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে টানাহেচড়া না করাটাই ভাল ।
এবার আসি علامح এর অর্থ কি । অলামা বা যাকে আল্লামা বলি এর অর্থ ‘সর্বজ্ঞ’ বা ‘মহাজ্ঞানী’ । কিন্তু বন্ধুরা চিন্তা করুণ , মানুষ কি মহাজ্ঞানী হতে পারে নাকি আল্লাহ !!! আল্লাহ ব্যতিত কাউকে মহাজ্ঞানী ভাবা শিরক । .. মহাক্ষমতাধর , মহাদাতা, মহাজ্ঞানী এসব কিছুই আল্লাহ । মানুষ জ্ঞানী হতে পারে মহাজ্ঞানী নয় ।
আল্লাহ নিজে নবীদের কলমের দ্বারা , ওহীর দ্বারা , জিব্রাঈল (আ:) এর দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন , কিন্তু কোন নবী নিজেদের শ্রেষ্টজ্ঞানী হিসেবে দাবি করার ধৃষ্টতা দেখায়নি । রসূল (সা:) নিজে বলেছেন আমি যদি জ্ঞানের শহর হই তবে আলী (রা) তার দরজা । এখানে সমস্থ জগতের মাঝে নিজেকে মাত্র শহরের সাথে আর আলীকে দরজার সাথে তুলনা করেছেন ।
কোরানের শিক্ষা দেখুন , খিজির ও মুসা আলাইহি সালাম এর ঘটনাঃ যখন মূসা আলাইহি সালামের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “এই পৃথিবীতে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে?” তিনি উত্তর করেছিলেন, “আমি”…কিন্তু আল্লাহ তাঁর কাছে উন্মোচন করে দিলেন । জ্ঞানের গরিমা আল্লাহ পছন্দ করেনা। এটা আল্লাহর অনেক গুণের মাঝের একটা গুণ। আর আল্লাহ এটাও পছন্দ করেনা তার খাস বান্দাদের থেকেও কেউ অহংকার বা গরিমা করুক, যদি কেউ ভূল বশত করেই ফেলে, তবে আল্লাহ তা’য়ালা ঐ বান্দাকে যেকোন ভাবে পবিত্র করে নেন। …. কারণ নিজেকে জ্ঞানী হিসেবে জাহির করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম , অনৈসলামীক , শিরকের অন্তর্ভুক্ত ।
এই علامح খিতাবটি এসেছে মুসলীমদের শিয়াগ্রুপ থেকে । যেমন, ইরান , ইরাকে ও পাকিস্তানে যে সকল শিয়ারা আছে তারা তাদের উলামা বা বড় কবি সাহিত্যিকদের এই علامح খিতাব প্রদান করত । আমরা সুন্নী হিসেবে শিয়াদের অনুসরণ করা ঠিক হবে কি ?? পাকিস্তানী অল্লামা ইকবালকে علامح খিতাব দেয়ার অনুসরণ করে আমাদের দেশে দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লামা’ খিতাব দিয়ে ডাকা হয় ‘আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী’ । আর্থাৎ মহাজ্ঞানী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী । আসলে ‘আল্লামা ইকবাল’ পাকিস্তানীর মহাকবি , বা জাতীয় কবি ছিলেন একজন ‘আহমোদিয়া মুসলীম’ সম্প্রদায় । ( লিংক: http://www.themuslimtimes.org/2013/07/uncategorized/allama-iqbal-was-an-ahmadi-muslim-until-a-few-years-before-his-death )
…. তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আহমেদিয়া মুসলীম ছিলেন । .. আমরা সুন্নী মুসলীম ‘শিয়া’ ও ‘আহমেদিয়া’ সম্প্রদায়কে মুসলীম হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ হয়ে থাকি , তবে তাদের দেয়া বা অনুকরণের খিতাব علامح কি করে গ্রহণ করি ?? … যাদের মসজিদ ভাঙ্গার জন্য দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী এত করে ওয়াজ করেছেন তাদের অনুকরণ কি করে করেন , কেউ বলবেন কি ???

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here