pm ja

newsজাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঢাকা সফর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি নতুন বার্তা। জি-৭ ভুক্ত অপর শিল্পোন্নত দেশগুলোকে বাংলাদেশের পক্ষে বোঝানো সম্ভব হবে যে, এদেশের উপর বৃহত্ আকারে আস্থা রাখা সম্ভব। জাপান সরকারের মূখপাত্র গতকাল রবিবার স্থানীয় একটি হোটেলে  সাংবাদিকের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ ব্রিফিং ও এ মূল্যায়ন করেন।

জাপানের মূখপাত্র মনে করেন, জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে, অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিবিড় করেছে এটা অন্য দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয়। জাপান ও বাংলাদেশ দু’দেশই সমানভাবে লাভবান হচ্ছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি মিস কুনি সাতো ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তা কেনকো সোন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (প্রেস) রুমি আরিওশি এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

মূখপাত্র বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর জাপানের কোন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসেননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এজন্যই এদেশকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন ও সম্পর্ক মজবুত করতে উদ্যোগী হয়েছে। শিনজো আবের সফল ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় হল। দু’দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে জাপানকে সমর্থন দিয়েছে– এটা জাপানের জন্য বড় প্রাপ্তি ও একটি ‘বিগ নিউজ’। বাংলাদেশের এই উদার সমর্থন কোন কিছুর বিনিময়ে নয়, কোন আর্থিক সহায়তাও নয়। এটা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ একজন ভাল নেতা পেয়েছে। এই নেতা জানেন কিভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে সম্পর্ক উন্নত করা যায়। নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী আবে খুবই খুশী ও সন্তুষ্ট। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই কঠিন।

মুখপাত্র আরো বলেন, শিনজো আবের সঙ্গে ২৩টি বড় জাপানী কোম্পানি প্রধান কর্নধার ঢাকা সফর করেন। ওবায়সি কর্পোরেশন, জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং, তোশিবা কর্পোরেশন, মারুবেনি কর্পোরেশন, মিত্সুবিসি, বনমাক্স, সুমিতোমো, নিপ্পনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী আবে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তারা মনে করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হতে পারে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পর্যন্ত, অবকাঠামো ও জ্বালানি সুবিধা দিতে হবে বাংলাদেশকে। বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকলে বিনিয়োগ চলে যাবে শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, চীনসহ বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে ১৮২টি জাপানী কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। এদের অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিত্সা যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্য ও সেবা খাতে অনেক বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে। এখন অবশ্য বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীলতা আছে। দীর্ঘ মেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য সরকারকে কাজ করতে হবে। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে জাপান বিশেষভাবে শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটা সম্ভব হলে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগে তরান্বিত হবে।

শিনজো আবের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাত্ প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, বেগম জিয়া আইন শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই সমস্যা বিনিয়োগ পথে অন্তরায় বলে তিনি মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী আবে বেগম জিয়াকে জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও রাজনীতিতে আমরা জড়িত হইনা। তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যায়।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here