960063_10152462724702516_2118216237_n
সৈয়দ কামরুল হাসানঃ জনতার নিউজ

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, জকিগঞ্জ থেকে শ্যামনগর সর্বত্রই জ্বলছে আগুনের প্রচন্ড লেলিহান শিখা, বাতাস ভারী হয়ে উঠছে লাশের পোড়া গন্ধে, জীবন্ত কয়লার স্বীকার হওয়া মানুষের মা-বাবা, ভাইবোন ও আত্মীয়-স্বজনের আত্ম-চিৎকারে ধ্বনিত হচ্ছে আকাশ-বাতাস। চারদিকে এক ভীতিকর অবস্থা যেন পাক হানাদার বাহিনী নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেছে এই দেশের মানুষের বিরুদ্ধে। বিএনপি-জামাত বলছে এটা নাকি জনগনের আন্দোলন। কিন্তু কোথায় সেই জনগন? আন্দোলন আমরা দেখেছি ৫২, ৬৬, ৬৯, ৭১, ৯০, ৯৬ ও ২০০৬ সালে যেখানে সর্বস্তরের জনগনের শতস্পূর্ত ভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সেই আন্দোলনের সাথে বর্তমানের আন্দোলনের কোন মিল দেখতে পাচ্ছেন কি? তবে আমার কাছে একটা একেবারেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে সত্যিই ডিজিটাল করে ফেলেছে। যার সুফল পাচ্ছে বিএনপি-জামাত। তারা এখন যে আন্দোলন করছে তার নাম ডিজিটাল আন্দোলন। মানুষ ককটেল খেয়ে মরবে, পেট্রোল বোমার ছুঁড়া আগুনে পুড়ে মারা যাবে, সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মারা যাবে বা বাড়িছাড়া হবে অথবা তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে, রাস্তাঘাটে বড় বড় জীবন্ত গাছ কেটে ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ী আটকে রেখে ট্রাকে-বাসে-পিকাপ ভ্যানে মানুষসহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হবে, রেললাইন উপড়ে ফেলে দিয়ে মানুষসহ ট্রেনের বগিগুলোকে মানুষসহ গড়াগড়ি খাওয়ানো হবে মারার জন্য। সেজন্য দলীয় কোন নেতা কর্মীকে মাঠে নামতে হয়না। আউটসোর্স করা লোক (সন্ত্রাসী ভাড়া করে) দিয়ে শুধু সাধারন মানুষের উপর কাজটা সারতে পারলেই হল। কি জন্য এই সহিংশতা, কেন এই নাশকতা, কেন এই বর্বরতা তার জন্য কিছু কথা বলা দরকার। আমি এখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে চাইনা। তবে এখন মুল সমস্যা হচ্ছে
image_90215
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। বিএনপি-জামাত ও তাদের অনুসারীরা সবসময় আলোচনা আলোচনা করে মুখে ফেনা তুলে বেড়ায়। দোষ দেয় সব দায় যেন সরকারের। আমার কথা হল যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে এখন আর নেই সেহেতু বর্তমান সরকারের (অন্তবর্তী কালীন দায়িত্বরত) অধীনেই নির্বাচন হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খালেদা তা মানবেন না। তাই তারা আলোচনা চান। তারা বলেন যে, আলোচনার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। কিন্তু আসল কথা হল যে সরকারী দলের পক্ষ থেকে কিছু ছাড় দিলে সেটা হবে বদান্যতা। কিন্তু বিএনপি-জামাত তা মানছে না। যার মাথা তার ব্যথা তবে একথা সবাইকে মানতে হবে। সুতরাং আলোচনার উদ্যোগের দায় শুধু বিএনপির, আওয়ামী লীগের নয়। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩রা বা ৪টা মে আলোচনার ডাক দিলেন কিন্তু তিনি আলোচনার পথে না হেঁটে হেফাজতের ঘাড়ে ভর করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন। কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হল। তারপর আবার শুরু করলেন তারা আলোচনা কথা। তারপর আবার খালেদা জিয়া ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বললেন এর মধ্যে যদি আলোচনার উদ্যোগ নেয়া না হয় তাহলে ২৮শে অক্টোবর থেকে হরতাল। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রধানমন্ত্রী ফোন দিলেন কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রির আহবানে সারা না দিয়ে হরতাল চালিয়ে গেলেন। এরপর আবার শুরু করলেন আলোচনার প্রলাপ। আমার মনে হয় বিরোধী নেত্রী মনে করেন যে, প্রধানমন্ত্রী যখন আলোচনার আহবান জানান তখন শেখ হাসিনা বোধ হয় বিপদে পড়েই তা করেন। সুতরাং আলোচনা না হওয়ার দায় সম্পূর্ণ বিএনপির বা খালেদা জিয়ার। আসলে খালেদা জিয়াই আলোচনা চান না। চান মানুষের তাজা রক্তের উপর পা দিয়ে সরাসরি ক্ষমতায় যেতে। সাধারন মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা মরছে নির্মমভাবে, আগুন জ্বলছে, যানবাহন ও ঘরবাড়ী পুড়ছে, ধন-সম্পদ পুড়ছে, রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। সোজা কোথায় দেশটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার মুখে। দুভাবে দেশ এখন এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারে। হয় বিএনপি-জামাতকে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ভদ্র হতে হবে অন্যথায় সরকারকে চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের চিরতরে নির্মূল করতে হবে। আর কত সহ্য করা যায়? এদেশের তরঙ্গ আজ উত্তাল, বাতাস বিষাক্ত, আবহাওয়া বিশ্বাসঘাতকের নিঃশ্বাসে কলুষিত। কেউ কি এই দেশকে কলঙ্কমুক্ত করবেন না? নিঃস্ব নিপীড়িত জনগনের দিকে একবার করুন চাহনিতে তাকাবেন না? আপনারা কি পাষাণ? আমার এই কথাগুলো তথাকথিত সেইসব অসভ্য ও জ্ঞানপাপী সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের বলছি যারা এখন জন্ডিস রোগে ভোগে সবকিছু হলুদ দেখছেন অথবা চোখে একটি হলুদ রঙের চশমা পরে সবকিছু হলুদ দেখছেন। তারা পারছেন না সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, ভালোকে ভাল কিংবা মন্দকে মন্দ বলতে। টকশো, সভা-সেমিনারে যারা অনবরত মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীদের আরো বেশি করে মানুষ হত্যায় উদ্বুদ্ধ করছেন। তারা এর সমালোচনা করছেনই না উল্টো বিএনপি-জামাতের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস করে জানমালের ক্ষতি করাকে ন্যায্য বলে জাহির করে যাচ্ছেন। অপ-সাংবাদিতাকে যেমন সবাই বলে হলুদ সাংবাদিকতা তেমনি জ্ঞানপাপী কুবুদ্ধিজীবি সম্পন্ন বুদ্ধিজীবীকে আমি হলুদ বুদ্ধিজীবী বলতে চাই। fire

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here