bdr_mutineersআজ মঙ্গলবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতালের মধ্যেই ইতিহাসের জঘন্যতম বিডিআর হত্যাযজ্ঞ মামলার রায় ঘোষিত হচ্ছে। রায় এবং হরতাল— এ দুই কারণে রাজধানীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলে বিডিআর জওয়ানরা রয়েছে সেসব কারাগার, লালবাগের অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত আর আদালতে প্রবেশের রাস্তাগুলোয় থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। আদালতের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে বসানো হচ্ছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহীরা অস্ত্রাগার লুট করে সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশ নেয়। টানা দুদিনের বিদ্রোহে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় পিলখানায়। বিদ্রোহীরা ৫৮ জন সেনা সদস্যসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। এর মধ্যে ৫৭ জনই সেনা কর্মকর্তা। হত্যার পর দ্রুত লাশ গুম করতে মৃতদেহগুলো খুবই আপত্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয়া হয় ড্রেনে, ম্যানহোলে ও নর্দমায়।

এ ঘটনায় তত্কালীন লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবজ্যোতি খিসা বাদী হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায়ই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিলখানা নিউমার্কেট থানার অধিক্ষেত্র এলাকা হওয়ায় পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ৭ এপ্রিল মামলাটি লালবাগ থানা থেকে নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)।

২০১০ সালের ১২ জুলাই পিলখানার নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় রাজধানীর হাজারীবাগের আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ ৮২৪ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ। আসামির মধ্যে ৮০১ জন বিডিআর সদস্য, বাকি ২৩ জন পাবলিক।

আজকের রায় উপলক্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাঠে স্থাপিত ঢাকার অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে ডিএমপি মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান এবং র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বর্তমানকে জানিয়েছেন।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আশরাফুল ইসলাম খান বর্তমানকে জানান, যেসব কারাগারে বিডিআর হত্যাযজ্ঞ মামলার আসামি রয়েছে সেসব কারাগারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here