Report

 

আজ জিতলেই শেষ আটে

ব্রিস্টল শহরে আজ খুব শীত; সপ্তাহের শেষ দিকে তুষারপাতও হতে পারে। চট্টগ্রামে শীত চলে গিয়ে গরম আসি আসি করছে। আর অ্যাডিলেড শহরের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ, তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতে হঠাত্ শীতল হয়ে উঠতে পারে।

পৃথিবীর তিন প্রান্তের তিন শহরের আবহাওয়া যে তিনরকম থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশ দল আজ চাইবে অ্যাডিলেড হয়ে উঠুক ব্রিস্টল কিংবা চট্টগ্রাম। শীত-গরম যাই থাকুক, তুষার-বৃষ্টি যাই পড়ুক; ব্রিস্টল ও চট্টগ্রামের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটা ‘ঐতিহাসিক’ জয় চাই আজ অ্যাডিলেডে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসামান্য সেই দুই জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আজই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালে লড়তে নামবে বাংলাদেশ। দু’ দলেরই টিকে থাকার এই লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায়।

বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটাকে ঠিক টিকে থাকার লড়াই বলা চলে না। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য আজকের ম্যাচটি ছাড়াও বাংলাদেশের সামনে একটা সুযোগ আছে। এই ম্যাচ বাদ দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও চলবে মাশরাফিদের। কিন্তু ইংল্যান্ডের সামনে এমন কোনো সুযোগ নেই। তারা আজকের ম্যাচ হারলেই আরও একবার বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে।

ফলে আজকের ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য একেবারে আক্ষরিক অর্থেই জীবন-মরণ ম্যাচ। আর ইংলিশদের এই চাপে থাকার সুযোগটা নিয়ে নিজেরা নির্ভার ক্রিকেট খেলে আজই উের যেতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। এই চাপের সুযোগ নেয়ার ইচ্ছার কথা জানালেন মাশরাফিও। তবে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বড় করে বললেন, বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দেখানোর সময় চলে এসেছে বাংলাদেশের।

বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই এই সময়টা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ষোলো কোটি মানুষ এখন এই সময়ের দিকে চেয়ে আছেন। মাশরাফি সেই মানুষের জন্যই আজ দলকে লড়তে বলছেন, ‘যে সমীকরণ আমরা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জানতাম, সেটাই কিন্তু এখন আমাদের সামনে এসেছে। এখন সব কিছুই নির্ভর করে আমরা কেমন খেলব তার উপর। আমাদের সবাই খুব আত্মবিশ্বাসী নতুন এই চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য। ১৬ কোটি মানুষ দেশে অপেক্ষা করছে; এখানেও সবাই অপেক্ষা করছে ভালো কিছু দেখার জন্য। সবাইকে আনন্দ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করব আমরা।’

যদিও আনন্দ দেয়ার জন্য দলটা কেমন হবে এ নিয়ে আলোচনার কোনো অন্ত নেই। চারদিক থেকেই খুব সুপারিশ করা হচ্ছে, সাকিব আল হাসান ছাড়াও দলে একজন স্পিনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। খোদ ইংলিশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইংল্যান্ডের প্রধান বিপদ হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশি স্পিন। একটা স্বাভাবিক হিসাব হল, গত ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যাওয়া এনামুল হক বিজয়ের জায়গায় নতুন ওপেনার দলে না নিয়ে একজন স্পিনার যোগ করা। সে ক্ষেত্রে তামিমের সঙ্গে এ ম্যাচেও ইনিংস শুরু করতে পারেন সৌম্য সরকার। আর তেমন হলে তাইজুল বা আরফাত সানি যোগ হবেন দলে; কন্ডিশনের বিবেচনায় সানি এগিয়ে থাকবেন।

কন্ডিশন বলতে অ্যাডিলেড ওভালকে এমনিতে বলা হচ্ছে, রানের উত্সব হওয়ার মতো মাঠ। যদিও এখানে এখনও পর্যন্ত রান-উত্সব ঠিক হয়নি। মাশরাফি নিজে বলেছেন, ২৭০ বা ২৮০ এখানে ভালো স্কোর হতে পারে। তবে বাইরে থেকে এনে আলগা উইকেট বসানো হবে বলে স্পিনারদের জন্য কিছু সহায়তা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সবই আগের কথা, কাগজের কথা। শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা বুঝতে কয়েকটা ঘন্টা তো অপেক্ষা করতেই হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here