একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আজ রোববার সকালে ২৩০ প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ আসনেই পুরনো প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যে ২৩০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে নতুন মুখ মাত্র ১৯টি। আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন নিয়ে দলে এবং শরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের তৃণমূল, যারা মনে করেছিল দলের যে সকল সাংসদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হাইব্রিডদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, বহিরাগতদের লালন করা এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির অভিযোগ ছিল তাঁদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না তাঁরা প্রার্থী তালিকা দেখে হতাশ হয়েছে। জানা গেছে, পাহাড়সমান অভিযোগ আছে এমন প্রাক্তন এমপিরাও এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। বরগুনা-১ আসনের বর্তমান এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরিশাল-৪ আসনের বর্তমান এমপি পঙ্কজ চট্রগ্রাম ৪ সীতাকুণ্ড আসনের দিদারল আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় পক্ষপাতিত্ব, গ্রুপিং প্রভৃতি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের নির্বাচনী এলাকাতেই তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এই এমপিদেরই আবার মনোনয়ন তালিকায় দেখা যাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে হতাশা দেখা দিয়েছে।

অনেক আসনে আবার দেখা যাচ্ছে যাঁরা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী কিংবা দলের প্রভাবশালী নেতৃত্ব তাঁদেরকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ঢাকা- ১৩ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর ১ আসনের বর্তমান এমপি আব্দুর রহমান বাদ দিয়ে সাবেক সচিব মঞ্জুর আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।

এই মনোনয়ন নিয়ে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা হলো আসন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শরিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নতুন করে মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ মহাজোটের হয়ে জাতীয় পার্টি যে আসনগুলো নিশ্চিতভাবে চেয়েছিল তার অনেকগুলোতেই দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই যেমন ঢাকা- ১ আসনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নীতিগত অবস্থান ছিল বলে অনেকেই জানেন। কিন্তু এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এছাড়া জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের কাছে চট্টগ্রাম- ৯ আসনটি চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকেও বাদ দিয়ে চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিষয়গুলো নিয়ে ত্রিমুখী সংকটের মুখে পড়েছে আওয়ামী লীগ।

প্রথমত, এই মনোনয়নের ফলে দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের যে অন্তঃকলহ এবং দ্বন্দ্ব ছিল তা আরও বেড়ে যাবে। এই অন্তদ্বন্দ্ব কীভাবে মীমাংসা করবে আওয়ামী লীগ তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, তৃণমূল ও পরীক্ষিত লোকজনের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে তা কীভাবে মীমাংসা করবে আওয়ামী লীগ সেটাও এখন দেখার বিষয়।

তৃতীয়ত, মনোনয়ন নিয়ে জোটের মধ্যে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটিও নিরসণ করতে হবে আওয়ামী লীগকে

তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা বুঝেশুনেই মনোনয়ন দিয়েছেন। এই মনোনয়ন নিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দেবেন। সেই বার্তা যদি কেউ গ্রহণ না করেন তাহলে তাঁকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাই আওয়ামী লীগ এখনো আশা করছে, এই মনোনয়ন নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here