উচ্চাভিলাসি পরিবারের একমাত্র সন্তান রায়হান(ছদ্মনাম)। কোনদিন অভাব দেখেনি। হাত বাড়ালেই মিলেছে টাকা। তাই খরচেও কোন কার্পণ্য ছিল না তার। খরচে কার্পণ্য পরিবারেরও পছন্দ না। একটা মাত্র ছেলে, যখন যেটা চেয়েছেন তখন সেটাই সামনে হাজির হয়েছে। মুখ থেকে উচ্চরন করতে যতক্ষন, ছেলের সামনে হাজির করতে বারণ নেই ব্যবসায়ী বাবার।

ছোটবেলা থেকেই হাইসোসাইটিতে বসবাস। বন্ধু-বান্ধব মহলও গড়ে ওঠে হাইসোসাইটিতে। এরই মধ্যে ছেলের ইংরেজী মাধ্যম থেকে ও লেভেল শেষ। পরিবার সিদ্ধান্ত নিল, দেশে থাকলে ছেলে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তাকে বিদেশে পড়তে পাঠানো হোক। যেই কথা, সেই কাজ। পাঠানো হলো ইংল্যান্ডে। ডিগ্রি শেষ করে দেশেও ফিরেছেন ঠিকঠাকভাবে। পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিলো তরুণের। স্বপ্নটা পরিবারেরও। পাইলট অবশ্য হয়েও গেছিলেন। তবে স্বপ্নে বাধ সাজলো নেশাদ্রব্য ইয়াবা। ইয়াবার পাল্লায় পড়ে তার সব স্বপ্ন ভেস্তে গেল। এখন সে পুরোদমে ইয়াবা আসক্ত। আট বছর ধরে ইয়াবা সেবন করছেন। এখন তার বয়স ৩৫। চিকিত্সায় বহু টাকা খরচ করেছে তার পরিবার। তবে কোন পরিবর্তন নেই। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আলাপকালে এভাবেই   নিজের জীবনের চিত্র তুলে ধরেন যুবক।

ইয়াবার সাথে কিভাবে নিজেকে জড়ালেন জানতে চাইলে বলেন, দেশে ফেরার পর পুরাতন বন্ধু-বান্ধবের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। তারা প্রায়ই রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় আড্ডা দিতেন। বন্ধুদের কয়েকজন ইয়াবা আসক্ত ছিলেন। তাদের পাল্লায় পড়ে ইয়াবার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথমে একটা-দুটো। এভাবে ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে ওঠেন। বন্ধুরা তাকে বলতো, ইয়াবা খেলে শরীরে শক্তি থাকে। নিজেকে স্লিম এবং স্মার্ট লাগে। তোর পাইলট হওয়ার জন্য তোকে ফিট থাকতে হবে। একথা শুনে ইয়াবা সেবন করতে রাজি হই।  

যুবকের পরিবার জানায়, প্রথমে তারা বুঝে উঠতে পারেননি যে, ছেলে ইয়াবা আসক্ত। ধীরে ধীরে তার আচরনের পরিবর্তন আসতে থাকে। বাসায় অতিমাত্রায় রাগারাগি, ভাংচুড় করে। এরপর ভাবছি, বিয়ে করালে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ে করানো হয়। তবে কোন পরিবর্তন আসেনি। পরবর্তীতে জানতে পারি ছেলে ইয়াবা আসক্ত।

চিকিত্সার জন্য তাকে সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় হাইসোসাইটিতে বেড়ে ওঠা রায়হানকে। পরিবারের লোকজন জানায়, শাস্তি দিতেই তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। কারণ এখানে থাকলে সে জীবনটাকে বুঝতে পারবে।

ইয়াবা আসক্ত ওই যুবক জানালেন ইয়াবা রাজ্যের অন্ধকার জগতের গল্প। জানালেন, তার বন্ধুবান্ধব একদিকে যেমন ইয়াবা সেবন করতো, অন্যদিকে এর ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিলো। তার ভাষ্যে, ইয়াবার রাজ্য মানে টাকার রাজ্য। এখানে কোটি কোটি টাকার খেলা। আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর এক শ্রেণীর কর্মকর্তারাও তাদের সাথে ইয়াবা সেবন করতেন। টাকার ভাগ নিতেনই। পাশাপাশি একশ্রেণীর  রাজনৈতিক নেতারাও পেতেন ভাগ।

তার বক্তব্য একটাই, আমি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি চাই না আর কেউ ধ্বংস হোক। এই জগতে পা না দিলে, এখন আমি পাইলট থাকতাম। হওয়া চাকরিতে যোগ দেই নি। অন্যদিকে হারিয়েছি যৌন শক্তি। এভাবে বেঁচে থেকে কি লাভ বলুন।

হাতের কাছে ইয়াবা পায় বিধায় মানুষ খায়। যেটার প্রতি নেশা সেটা আমি চোখের সামনে দেখছি। তখন নেশায় পড়ে সেবন করি। ইয়াবা সাপলাই বন্ধ না করলে সেবন ও ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য ইয়াবা পাচার বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চাইলেই সম্ভব এমনটাই দাবি যুবকের। তার মতে, টাকা ভাগাভাগি বন্ধ করে ইয়াবার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে প্রশাসনের লোকজনকে।

সুত্রঃ ইত্তেফাক

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here