newসংসদে আওয়ামী লীগ নেতাদের মন্তব্য

 কোনটি সত্য, ইতিহাসই তা সাক্ষ্য দেবে :সাজেদা চৌধুরী

 তোর বাপ স্যার বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলতো :তোফায়েল আহমেদ

 খালেদা জিয়া, আপনার ছেলেকে থামান :মোহাম্মদ নাসিম

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র কথায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডনে বসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সংসদ সদস্য। বিষয়টিকে ‘সুগভীর ষড়যন্ত্র’ ও ‘দুরভিসন্ধি’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা করার জন্য তারা আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে নতুন আইন করে হলেও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানান।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন অনেকে অনেক কথা বলছেন। কোনটি সত্য, ইতিহাসই সেই সাক্ষ্য দেবে। বঙ্গবন্ধুর কথায় নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নাম বারবার আসবে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনী শক্তি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মীমাংসিত কতগুলো বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেসব অর্বাচীন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তাদের নাম মুখে নিয়ে নিজেকে খাটো করতে চাই না। সুপরিকল্পিতভাবে তারা এই কাজটি করছে। মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান বানানো। আইএসআই উঠেপড়ে লেগেছে। পাকিস্তান একটি অকার্যকর রাষ্ট্র। বাংলাদেশকেও যারা অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন মন্তব্য, বেয়াদবির একটা সীমা থাকে। আরে আহম্মক, লেখাপড়াও জানে না। তোর বাপ কী নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল? তোর বাপ তো আমাদের স্যার বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলতো। তোর বাপ তো নির্বাচন দেখেনি।’ এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওই অর্বাচীন ছেলেকে বলবো ‘দ্যা টর্চার অ্যান্ড গেইন’ বইটি পড়তে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবেই বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরেছিলেন। ওই বাচ্চা ছেলেটা (তারেক রহমান) মায়ের সঙ্গে সেনানিবাসে ছিল, তার মা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। ওরা ইতিহাসের পাতায় থাকবে না। অবিলম্বে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। গণমাধ্যমের উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, একজন পলাতক আসামির বক্তব্য এভাবে ফলাও করে প্রচার করা কী সমীচীন? টিভিতে তার যে শানশওকাত দেখলাম, এত টাকা-পয়সা তার!

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে বৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সে ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রায়ও রয়েছে। এরপরেও অর্ধশিক্ষিত ওই যুবক (তারেক রহমান) ও অশিক্ষিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) এবং বিএনপি নেতারা ও তাদের দলীয় আইনজীবীরা ইতিহাস বিকৃতি করে চলছেন। এটা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আইনমন্ত্রীকে বলবো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাইলে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিচার করুন। নইলে পরে পস্তাতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করতে হবে। কারণ আইনের অজ্ঞতা, ইতিহাস না জেনে কিংবা ভুলে তারা এসব বলছে, এটা আমি মনে করি না। এর পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি রয়েছে। যারা এই সংবিধান ও বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে, তারা মূলত বাংলাদেশের অস্তিত্বই স্বীকার করে না। যারা এদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের এই দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তার ছেলের এসব বক্তব্য স্বাধীনতার অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর। আমার ধারণা এ দেশকে তারা পাকিস্তানে ফেরত নিতে চায়। এ কারণে আইএসআই যা শিখিয়ে দিচ্ছে, তারেক রহমান সেটিই বলে যাচ্ছে। সুরঞ্জিত বলেন, বিএনপি-জামায়াত হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টানমুক্ত একটি স্বৈরশাসনের জঙ্গিবাদী বাংলাদেশ গড়তে চান। এজন্য প্রতিদিন তারা সংখ্যালঘু নিধন করছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নীরবে দেশত্যাগ করছে। আশঙ্কাজনক হারে তাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এখনই সতর্ক না হলে মহাসংকট সৃষ্টি হবে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার নিকৃষ্টদের বাদ দিয়ে উত্কৃষ্টদের দিয়ে মন্ত্রিসভা করেছেন। এই উত্কৃষ্টদের বলবো- আপনারা নিজেরা একে অন্যের বিরুদ্ধে এভাবে বলবেন না। পত্রপত্রিকায় একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের বক্তব্য দেখছি। এসব বলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও বিব্রত করবেন না।

এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহামদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নিতে চায়। তারা ইতিহাস বিকৃতি করে ফায়দা লুটতে চায়। শেখ হাসিনাকে হটাতে তারা উঠে-পড়ে লেগেছে। একজন অর্বাচীন যুবক ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা দেয়া শুরু করেছে। আইনমন্ত্রীকে বলবো, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করুন, দেশে ফিরিয়ে এনে এদের বিচার করুন, কঠোরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খালেদা জিয়াকে বলবো, আপনার ছেলেকে থামান। বঙ্গবন্ধুকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারাই বলছেন, যারা ‘৭১ এর পরাজিত শক্তি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমঝোতার কথা বলেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে মানে না, যারা ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করে, যারা একুশে আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না। হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। খালেদা জিয়াকে বলবো, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না, ২০১৯ সালে একই পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। সে পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রাখুন। একবার ট্রেন মিস করেছেন, আশা করি আগামীতে করবেন না। ভুল কারণে আপনি সব হারিয়েছেন। আপনাকে এসব বুদ্ধি কারা দেয়? যারা আপনাকে ডুবিয়েছে তারাই দিচ্ছে।

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, অশিক্ষিত মা-ছেলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করছেন। তারেক রহমান জাতির সঙ্গে বেয়াদবি করেছেন। খালেদা জিয়ার উচিত তাকে ত্যায্য করা। তারেক রহমান আইএসআই’র দালালি করছেন। এটা দেশের সঙ্গে বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকতা। সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, কেউ এখন বিএনপির দিকে তাকায় না, তাদের সঙ্গে কথাও বলে না। এজন্য মানুষের দৃষ্টি আনতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এসব বলছেন। খালেদা জিয়া আলকায়েদার লাদেনের চেয়েও খারাপ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here