ঈদুল আজহা সামনে রেখে আরেক দফা দাম বাড়ল পিয়াজ, আদা ও কাঁচামরিচের। কয়েকদিন পিয়াজের কেজি ৮০ টাকায় নামলেও এখন বাজারে পিয়াজের দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা। গত সপ্তাহে আদার দাম ১০০ টাকার নিচে নামলেও এখন কেজি প্রতি দাম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, নাখালপাড়া, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পিয়াজের দাম কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কোন লাভ হচ্ছে না। পিয়াজের দাম কমাতে ভারতের বাইরে মায়ানমার বা তৃতীয় কোন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাইকারদের পিয়াজ মজুদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ব্যবসায়ীরা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে পিয়াজ আমদানি করে। এ কারণে পিয়াজের দাম কমছে না বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পরে পিয়াজ আমদানিতে ব্যাংক সুদ হার কমিয়ে আনা হয়। কার্যত কোন উদ্যোগই সুফল আসেনি। বৃদ্ধি পেয়েছে পিয়াজের দাম। ভারত থেকে আমদানি করা পিয়াজ সাধারণত দেশি ছোট্ট পিয়াজের চেয়ে কম দামে বিক্রি হলেও দাম বৃদ্ধির কারণে সব ধরনের পিয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। আদার দাম উঠেছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মসল্লা।

পিয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আদার দাম। আদার দাম কয়েকদিন বাজারে ১০০ টাকার নিচে নামলেও আবার ১৪০ টাকাতে উঠেছে। কিছু কিছু বাজারে ১৫০ টাকাতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে কাঁচামরিচের দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। তবে আগে বৃদ্ধি পাওয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মসল্লা। রাজধানীর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানালেন ঈদ সামনে করে নতুন করে মসল্লার দাম বাড়েনি। তবে এসব মসল্লা পরিমাণ কম ব্যবহার হওয়ার কারণে ১০০/২০০ গ্রাম করে বিক্রি হয়। কেজিতে যে দামে বিক্রি হয় ১০০/২০০ গ্রাম বিক্রি হওয়ার কারণে দাম বেশি দিতে হয়।

বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি ধনিয়া ৯৫ টাকা, ১০০ গ্রাম ১০ টাকা, জিরা ৪০০ টাকা, ১০০ গ্রাম ৫০ থেকে ৫৪ টাকা। দারুচিনি ৩০০ টাকা, ১০০ গ্রাম ৩০ থেকে ৩২ টাকা। এলাচি ১৬০০ থেকে ধরনভেদে ২০০০ টাকা, ১০০ গ্রাম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। লবঙ্গ ১৮০০ টাকা কেজি, ১০০ গ্রামের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। গোলমরিচ ১২০০ টাকা, ১০০ গ্রাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। শুকনা মরিচ ১৩০ থেকে বাজারভেদে ১৭০ টাকা পর্যন্ত, ১০০ গ্রাম ১৩ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। রসুন ৭০ থেকে ধরনভেদে ১২০ টাকা কেজি। হলুদ ১২০ টাকা, ১০০ গ্রাম ১২ থেকে ১৪ টাকা। রাজধানীর গলির দোকানে প্রতি ১০০ গ্রাম এ ধরনের মসল্লা ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ও বেশির ভাগ মাছ আগের বৃদ্ধি পাওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দাম ৪০ টাকার উপরে। বেগুনের দাম বেড়ে ৪০ থেকে ধরনভেদে ৬০ টাকা, করল্লা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স কেজি ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা কেজি, কচুরমুখী ৩৫ টাকা, লতি ৩০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। তবে আলু ও পেঁপের কেজি ১৫ টাকা, পটোল ২৫ টাকা কেজি। এক কেজি শসার দাম ৪০ থেকে বাজারভেদে ৫০ টাকা। টমেটোর কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে মসুর ডাল (ছোট্ট) ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, আমদানি করা বড় মসুর ডালের কেজি ৮০ টাকা। ছোলার ডালের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। মুগের ডালের কেজি ৯০ থেকে ধরন ও বাজার ভেদে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। মিনিকেট ধরনভেদে ৪২ থেকে ৪৮ টাকা, পাইজাম ৩৬ টাকা, নাজিরশাল ৩৬ টাকা, নাজির-ঊনত্রিশ ৩৬ টাকা, বিআর-২৮ এর কেজি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। মোটা চাল ৩৪ টাকা কেজি। জিরা-নাজির বলে খ্যাত চিকন চালের কেজি ৫০ টাকা। রাজধানীর বাজারে কোথাও ৩৪ টাকার নিচে কোন চাল চোখে পড়েনি। ২ কেজির আটার প্যাকেটের দাম ৭৪ টাকা।

মাছের বাজারে সব চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। সরবরাহও বেশি। ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ছোট্ট ইলিশের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। মাঝারি ইলিশের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া আকার ও ধরনভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। কই মাছের ধরনভেদে ১৬০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। শিং মাছ ৪০০ টাকা, দেশি মাগুর ৫০০ টাকা। ছোট্ট মাছের কেজি ২০০ টাকা কেজি। মাঝারি ধরনের কাতলের কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ছোট্ট রুই ও বোয়ালের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। তবে বড় রুই, কাতল ও বোয়ালের কেজি সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

গরুর মাংসের কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। খাসির মাংস ৪৫০ টাকা। শুক্রবার ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কম দেখা গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির ডিমের হালি ৩২ টাকা। দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিমের হালি ৩৮ টাকা।

ভোজ্যতেলের দামে কিছুটা কমেছে রাজধানীর বাজারে। প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ব্র্যান্ড ভেদে ১১৮ থেকে ১২৫ টাকা পর্যন্ত। গুঁড়া দুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিকেজি প্যাকেটজাত ডানো গুঁড়াদুধ ৬২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিপ্লোমা ৬২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মার্কস ৫৫৫ টাকা। একই পণ্য তবে বাছাই করা রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here