নানা শঙ্কার মধ্যেও দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়ে চলেছে। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাত্ জুলাই-নভেম্বরে ৯৬৫ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। দেশি মুদ্রায় যা ৭৭ হাজার ২২৬ কোটি টাকা (এক ডলার = ৮০ টাকা হিসাবে)।

পোশাক খাতের এই রপ্তানি আলোচ্য সময়ে ৯২০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ১২ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এই শিল্পের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ শতাংশ। আর চার মাসে ছিল ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর পোশাকশিল্প মালিকেরা রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। বিজিএমইএ নেতারাও বহুবার বলেছেন, আগের চেয়ে অর্ডার কমে গেছে। তাতে রপ্তানি হ্রাস পাবে। তবে গত তিন মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যান থেকে উল্টো চিত্রই পাওয়া যায়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আজ রোববার প্রকাশিত রপ্তানির হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে পোশাকশিল্পের ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ায় বিষয়টি জানা যায়। এ কারণেই দেশের পণ্য মোট রপ্তানির চিত্র ইতিবাচক ধারায় অব্যাহত আছে।

এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ১৯৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে তা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি। শুধু নভেম্বরে ২২১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে পোশাকশিল্প থেকেই সর্বোচ্চ ৯৬৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে সর্বোচ্চ ৪৮৯ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ওভেন পোশাক খাত থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘রানা প্লাজা ধস ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পোশাক রপ্তানি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে বোঝা যাবে। কারণ এখন যে রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যান আসছে তা পাঁচ-ছয় মাস আগের ক্রয়াদেশ অনুযায়ী।’

এদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়লেও পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমে গেছে। আলোচ্য সময়ে এই খাতের রপ্তানি আয় ৩৩ কোটি ডলার। এ ছাড়া হিমায়িত খাদ্যে ৩২ কোটি, হোম টেক্সটাইলে ২৯ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ২৩ কোটি, চামড়ায় ১৯ কোটি, চামড়াজাত পণ্যে সাত কোটি, প্লাস্টিক পণ্যে তিন কোটি ২৩ লাখ, টেরিটাওয়ালে তিন কোটি ১৯ লাখ, প্রকৌশল পণ্যে ১৫ কোটি ৩১ লাখ, বাইসাইকেলে তিন কোটি ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here