kawran

কাওরান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আমজাদ হোসেনের দিন কাটছে এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। অবরোধকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে তার দুই হাত ও মুখমন্ডল। আমজাদের পরিবার এখন চরম অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গতকাল সোমবার তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাই আমরা তো রাজনীতি বুঝি না। তাহলে কেন আমাদের পুড়তে হল। আমার একার আয়ে সংসার চলে। তিনি বলেন, যারা বাসে ট্রেনে আগুন দেয় তারা কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী না। তারা চিহ্নিত খুনি। জেনে শুনে আমাদের মত নিরীহ লোকজনকে আগুনে পুড়িয়ে মারছে তারা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন কী অবরোধকারীরা আমার সংসার চালাবে?

স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অভাব অনটনের সংসার হলেও ভালই দিন কাটছিল তাদের। কিন্তু ২৮ নভেম্বর শাহবাগে সেই বাসের আগুনের ঘটনাটি তছনছ করে দিল তাদের সব আশা, আকাঙ্খা ও স্বপ্ন।

আমজাদ বলেন, ছেলে আরিফুল ইসলাম রাজু (১৮) এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। আমি পুড়ে হাসপাতালে, আয় রোজগার বন্ধ। ছেলেটার লেখাপড়া এখন বন্ধ হতে যাচ্ছে। ২৮ নভেম্বর পুরনো ঢাকার শ্যামবাজার থেকে তাগাদার টাকা নিয়ে বাসে করে কাওরান বাজার ফিরছিলেন আমজাদ। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা গ্রামে তার বাড়ি। সংবাদ পেয়ে স্ত্রী পর দিন ঢাকায় স্বামীর কাছে ছুটে আসেন। স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, তার স্বামী একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন তার সংসারে আর্থিক অনটন লেগেছে। সামনে দিন কিভাবে কাটবে একথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন ও আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, আমজাদের অবস্থা আশংকামুক্ত নয়। যে কোন সময় ইনফেকশন হয়ে জটিলতা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন তারা।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here